উপজেলার সংবাদজামালপুরসংস্কৃতি

জামালপুরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় তৎপর বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক:
জামালপুর শহরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ঐতিহ্য বজায় রাখতে এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা যাতে নির্বিঘ্নে ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হতে পারে, সে জন্য জামালপুর জেলা ও পৌর বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীরা প্রতিটি মন্ডপ ও মন্দির এলাকায় অতন্দ্র প্রহরীর মতো দায়িত্ব পালন করে চলেছেন।
জানা যায়, জামালপুর শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত শ্রী শ্রী দয়াময়ী মন্দির, শ্রী শ্রী রাধামোহন জিউ মন্দির (ঠাকুরবাড়ি প্রাঙ্গণ), ত্রিনয়নী মন্দির, শিববাড়ী মন্দির ও বোসপাড়া সার্বজনিন পূজামন্ডপ এবং এর আশপাশের এলাকায় সম্প্রীতির বন্ধন অটুট রাখতে এবং উৎসব চলাকালীন যেকোনো ধরনের গুজব, অপপ্রচার কিংবা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে ৫নং ওয়ার্ডে বিশেষ টিম কাজ করছে। জামালপুর শহরের ৫নং ওয়ার্ডে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার লক্ষ্যে জামালপুর জেলা বিএনপি’র অন্যতম যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান আরমানকে আহ্বায়ক ও জামালপুর শহর বিএনপি’র সিনিয়র সহসভাপতি মোঃ মাইন উদ্দিন বাবুলকে সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক করে ৪৮ সদস্য বিশিষ্ট একটি শৃংখলা কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটির সদস্যবৃন্দ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় পূজা উদযাপন কমিটির সাথে সমন্বয় করে দিবানিশি তদারকির কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
দয়াময়ী মোড়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে সামিয়ানা টাঙিয়ে একটি বিশেষ প্যান্ডেল তৈরি করা হয়েছে। পূজা মন্ডপগুলোতে সার্বক্ষণিক সজাগ ও সতর্ক দৃষ্টি রাখার উদ্দেশ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখান থেকেই নিরলসভাবে পাহারায় নিয়োজিত রয়েছেন বিএনপি’র নেতা-কর্মীরা।
জামালপুর জেলা বিএনপি’র অন্যতম যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান আরমান জানান, ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’ এই নীতিতে বিএনপি বিশ্বাসী। কোনো অপশক্তি যেন এই ধর্মীয় উৎসবের আনন্দকে ম্লান করতে না পারে এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে না পারে, সেজন্য দল সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। কেন্দ্র থেকে স্পষ্ট বার্তা রয়েছে যে, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর যেকোনো আঘাত কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।
এ বিষয়ে জামালপুর পৌর বিএনপি’র সিনিয়র সহসভাপতি মোঃ মাইন উদ্দিন বাবুল জানান, জামালপুর যুগ যুগ ধরে অসাম্প্রদায়িক চেতনা এবং ধর্মীয় সম্প্রীতির এক অনন্য চারণভূমি হিসেবে পরিচিত। এখানে প্রতিটি ধর্মীয় উৎসব সর্বজনীন রূপ নেয়। এই ধারাবাহিকতায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা যাতে অত্যন্ত আনন্দঘন, শান্তিপূর্ণ এবং উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হতে পারে, সেজন্য জামালপুরে বিএনপি’র নেতা-কর্মীরা মাঠে থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।
জামালপুর শহরের এবারের শারদীয় দুর্গাপূজায় স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। উৎসবের শুরু থেকেই আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং বিএনপি ও এর অঙ্গ-সংগঠনের নেতা-কর্মীদের সক্রিয় উপস্থিতি ও পাহারার কারণে পূজার পরিবেশ অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ রয়েছে।
হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীষ্টান কল্যাণ ফ্রন্ট, জামালপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক লিন্টু ভৌমিক দুলু জানান, আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং বিএনপি’র যৌথ তৎপরতা ও সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাবের ফলে তারা কোনো রকম ভয়ভীতি বা উদ্বেগ ছাড়াই নির্বিঘ্নে ও উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা উদযাপন করতে পারছেন। এছাড়া উৎসবের শুরু থেকেই বিএনপি ও এর অঙ্গ-সংগঠনের নেতা-কর্মীদের সক্রিয় উপস্থিতি এবং আন্তরিকতা তাদের মাঝে এক ধরনের বাড়তি নিরাপত্তা ও স্বস্তি এনে দিয়েছে। গভীর রাতেও যখন মন্ডপগুলোতে দর্শনার্থীদের ভিড় কমে যায়, তখনও বিএনপির নেতা-কর্মীদের সজাগ অবস্থানে থাকতে দেখা গেছে। এ জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি রাজনৈতিক দলের এমন জোরালো অবস্থান ও স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকান্ডের কারণে জামালপুর শহরের সাধারণ মানুষ এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের মাঝে একটি চমৎকার সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রয়েছে।
উল্লেখ্য, এ বছর জামালপুর জেলার ৭টি উপজেলায় মোট ২২৭টি পূজামন্ডপ স্থাপন করা হয়েছে। তন্মধ্যে জামালপুর সদর উপজেলায় ৬৩টি, সরিষাবাড়ী উপজেলায় ৪৮টি, মাদারগঞ্জ উপজেলায় ২৮টি, দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় ২৬টি, মেলান্দহ উপজেলায় ২৪টি, ইসলামপুর উপজেলায় ২১টি ও বকশীগঞ্জ উপজেলায় ১৭টি মন্ডপে পুজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *