আলোচিতউপজেলার সংবাদজামালপুরসদর

জামালপুরে ফরেনসিক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ঘুষের বিনিময়ে হত্যাকে আত্মহত্যা দেখানোর অভিযোগ 

জামালপুর প্রতিনিধি:
জামালপুরের মাদারগঞ্জে সাথী আক্তার (১৯) নামে এক গৃহবধূকে হত্যার পর ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর অভিযোগ উঠেছে। নিহতের পরিবারের দাবি, আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে জামালপুর শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের এক চিকিৎসক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মিথ্যা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন দিয়েছেন। তবে অভিযুক্ত চিকিৎসক আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, ময়নাতদন্তে যা পাওয়া গেছে, প্রতিবেদনে সেটিই উল্লেখ করা হয়েছে।
নিহতের বাবা সাইদুর রহমান বিভিন্ন দপ্তরে দেওয়া লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, মাদারগঞ্জ উপজেলার নব্যচর গ্রামের বাসিন্দা তার মেয়ে সাথী আক্তারের সঙ্গে একই গ্রামের সবা শেখের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তিন লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে সাথীর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগে বলা হয়, যৌতুকের টাকা না পেয়ে শ্বশুরবাড়ির লোকজন সাথীকে মারধর করে শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরে হত্যার ঘটনা আড়াল করতে মরদেহ ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যার নাটক সাজানো হয় বলে দাবি নিহতের পরিবারের।
নিহতের বাবার অভিযোগ, ময়নাতদন্তের আগে আর্থিক লেনদেন নিয়ে চিকিৎসকের চেম্বারে দেনদরবার হয়। একপর্যায়ে নিহতের পরিবারের কাছ থেকে এক লাখ টাকা নেওয়ার পর জামালপুর শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ডা. হারুন অর রশিদ আসামিদের সঙ্গে যোগসাজশ করে মিথ্যা ও বানোয়াট ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় সাইদুর রহমান বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সত্যতা উদঘাটন, বিতর্কিত ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন বাতিল এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, সিভিল সার্জন কার্যালয়, পুলিশ সদর দপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চিকিৎসক ডা. হারুন অর রশিদ। জামালপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান মুঠোফোনে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ময়নাতদন্তের সময় মরদেহে যা পাওয়া গেছে, সেটিই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগের সঙ্গে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই বলেও তিনি দাবি করেন।
বর্তমানে ওই ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পুলিশ মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে নিহতের পরিবার। তাদের দাবি, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনটি পুনরায় যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হোক এবং সাথী আক্তারের মৃত্যুর জন্য দায়ীদের আইনের আওতায় আনা হোক।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ এবং চিকিৎসকের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্ত ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের যথার্থতা যাচাইয়ের দাবি উঠেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *