উপজেলার সংবাদজামালপুরসদর

জামালপুরে আদালতপাড়ায় নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি

জামালপুর প্রতিনিধি:
আদালত, থানা, ভূমি অফিসসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরকে ঘিরে মানবাধিকার কর্মী ও সাংবাদিক পরিচয়ে কোনো ব্যক্তি যাতে সাধারণ মানুষকে হয়রানি, ভয়ভীতি বা প্রতারণার মাধ্যমে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে না পারে—এ বিষয়ে কঠোর নজরদারি ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে জামালপুরে।
সচেতন নাগরিকদের অভিযোগ, বিভিন্ন এলাকায় কিছু নামধারী মানবাধিকারকর্মী ও সাংবাদিক পরিচয়ধারী ব্যক্তি গ্রামাঞ্চলের অশিক্ষিত, অর্ধশিক্ষিত ও অসহায় মানুষের মামলা-মোকদ্দমা, জমি-জমা বিরোধ, পারিবারিক কলহ কিংবা শালিশ-দরবারের বিষয়কে কেন্দ্র করে নিজেদের প্রভাবশালী হিসেবে উপস্থাপন করেন। পরে থানা, আদালত, ভূমি অফিসসহ বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগের কথা বলে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে। এতে প্রকৃত ভুক্তভোগীরা আইনি সহায়তা পাওয়ার পরিবর্তে অনেক সময় আরও বিপাকে পড়েন বলে অভিযোগ।
এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে পেশাদার ও মূলধারার সাংবাদিক এবং প্রকৃত মানবাধিকারকর্মীদের ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, সাংবাদিকতা বা মানবাধিকারকর্মীর পরিচয় কোনোভাবেই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া, প্রভাব বিস্তার কিংবা সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানোর লাইসেন্স হতে পারে না।
সম্প্রতি জামালপুর জজকোর্টের মূল ফটকের সামনে ঈদগাহ মাঠসংলগ্ন এলাকায় এক নারী মামলার বাদী আদালত থেকে বের হওয়ার সময় আমিনুল ইসলাম নামে এক মহুরির হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তাকে মারধর, পরনের কাপড় টানাহেঁচড়া ও শ্লীলতাহানির অভিযোগও করা হয়েছে। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ।
এ ঘটনায় আদালতপাড়ায় বিচারপ্রার্থী মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আদালত এলাকায় কিছু দালালচক্র বিচারপ্রার্থী বাদী-বিবাদীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে কিংবা বিভিন্নভাবে প্রভাবিত করে অর্থ আদায় করছে—এমন অভিযোগও রয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।
একই সঙ্গে কোনো ব্যক্তি অপরাধে জড়িত হলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা না নিয়ে কেবল সাময়িক বরখাস্ত বা অন্য কোনো প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হলে সেটির আইনগত ভিত্তি ও যথার্থতাও জনসম্মুখে স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। কেউ সরকারি চাকরিজীবী না হলে তাকে ‘সাসপেনশন’ করার প্রশ্নই বা কীভাবে আসে—এ বিষয়েও পরিষ্কার ব্যাখ্যা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।
সাধারণ মানুষের ভাষ্য, মানবাধিকার, সাংবাদিকতা কিংবা পেশাগত পরিচয়ের আড়ালে কেউ যদি প্রতারণা, চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন বা বিচারপ্রার্থীদের হয়রানি করে থাকে, তাহলে পরিচয় বিবেচনা না করে তার বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।
জামালপুরবাসীর প্রত্যাশা, আদালতপাড়া ও আশপাশের এলাকায় বিচারপ্রার্থী নারী-পুরুষ, বাদী-বিবাদী ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। একই সঙ্গে কোনো পক্ষ যাতে মব তৈরি করে আইন নিজের হাতে তুলে নিতে না পারে, সেদিকেও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।
সচেতন নাগরিকদের স্পষ্ট বার্তা—পরিচয় যাই হোক, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, অপরাধ প্রমাণিত হলে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা এবং বিচারপ্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই পারে আদালতপাড়ায় আইনের শাসন ও মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *