উপজেলার সংবাদজামালপুরমেলান্দহ

মেলান্দহে কৃষি সমৃদ্ধি তীব্র তাপদাহে করণীয় সম্পর্কিত আলোচনা


মোঃ রুহুল আমিন রাজু জামালপুর প্রতিনিধিঃ কৃষিই সমৃদ্ধি তীব্র তাপদাহে করণীয় সম্পর্কিত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মেলান্দহ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজিত ও উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন মেলান্দহ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহবুবা হক। মেলান্দহ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল এর সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মেলান্দহ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ইন্জিনিয়ার মোঃ কামরুজ্জামান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মেলান্দহ থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ রাজু আহাম্মদ, মেলান্দহ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মাহমুদপুর ইউনিয়ন পরিষদের কয়েকবারের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ জিন্নাহ,উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি নাংলা ইউনিয়ন পরিষদের কয়েকবারের সফল চেয়ারম্যান আলহাজ্ব কিসমত পাশা,আদ্রা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম খোকা,কুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের কয়েকবারের চেয়ারম্যান আব্দুস ছালাম, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি বিশিষ্ট নাট্যকার আসাদুল্লাহ ফারাজীসহ উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, সাংবাদিকবৃন্দ। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মেলান্দহ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল। তিনি তার বক্তব্য বলেন, এই তীব্র তাপপ্রবাহে ফসল রক্ষায় কৃষকের করণীয়
ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা এবং আবহাওযার ধরনে পরিবর্তন প্রায়ই খরা, তাপপ্রবাহ এবং বন্যার কারণে সৃষ্ট পানির সংকটের ফলে ফসলের উৎপাদন কমিয়ে দেয়। জলবায়ু পরিবর্তনের এই প্রভাবগুলো বর্তমানে প্রায় একইসাথে বিভিন্ন অঞ্চলে ফসল নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে, যা বৈশ্বিক খাদ্য সরবরাহের জন্য উল্লেখযোগ্য বিপর্যয় বয়ে আনবে।

বর্তমানে সারাদেশের উপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মাঝারি থেকে তীব্র তাপপ্রবাহ। তাঁর রোদ আর গরমে অসহনীয় অবস্থা। মানুষের পাশাপাশি ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে ধান, পাট, কলাসহ নানান ধরণের ফসলও। এ অবস্থায় ফসলের ক্ষতি রোধে কৃষকের করণীয় বিষয়গুলো সম্পর্কে তাদেরকে সচেতন করা প্রয়োজন। বিশেষ করে বর্তমানে মাঠে দন্ডায়মান ধান, পাট, ভুট্টাসহ বিভিন্ন মৌসুমী ফলের বিশেষ পরিচর্যা গ্রহণ করা আবশ্যক।

বর্তমানে বোরো ধান মাঠে রযেছে। প্রতিটি মাঠেই দেখা যাবে ধানে ফুল রযেছে। কিছু কিছু দুগ্ধ আর কিছু কিছু ক্ষীর অবস্থায় আছে। বর্তমানে পোকামাকড় ও রোগবালাই তেমন না থাকলেও তাপমাত্রা দিন দিন বাড়ছে। ফলে সমস্যা দেখা দিতে পারে। কৃষক ভাইদের ধানের কিছু সমস্যা হচ্ছে। এতে ধানের তেমন কোনো ক্ষতি হয় না। তবে তাপমাত্রা যদি ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে চলে যায় সে ক্ষেত্রে খান চিটা হয়ে যেতে পারে।

ধান বর্তমানে যে স্তরে আছে, সে ক্ষেত্রে কৃষক ভাইদের করণীয় হলো, ধানে ফুল অবস্থায় পানি খুব গুরুত্বপূর্ণ। তা ছাড়া তাপমাত্রার আধিক্য, এ কারণে ধানগাছের গোড়ায় সর্বদা ২ থেকে ৩ ইঞ্চি পানি ধরে রাখতে হবে। ১০ লিটার পানিতে ১০০ গ্রাম পটাশ মিশিয়ে ৫ শতক জমিতে স্প্রে করা যেতে পারে। তাহলে আশা করা যায় যে, ভাপপ্রবাহে ধানের ফলনে তেমন কোনো প্রভাব পড়বে না।

বর্তমান আবহাওয়ায় ধান গাছের বৃদ্ধি পর্যায়ে শীষ ব্লাস্ট রোগের আক্রমণ হতে পারে। রোগের লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার আগেই প্রিভেন্টিভ হিসাবে বিকাল বেলা ট্রুপার ৮ গ্রাম/১০ লিটার পানি অথবা নেটিভো ৬ গ্রাম/১০ লিটার পানি ৫ শাতাংশ জমিতে ৫ দিন ব্যবধানে দুইবার স্প্রে করুন।

মাঠে বর্তমানে ভূট্টা ফসল রয়েছে। যেসব ক্ষেতে মোচা গঠন পর্যায়ে রয়েছে যেসব ক্ষেতে ১-২ টা সেচ দেয়া যেতে পারে।

পাট বর্তমানে মাঠে দৈহিক বৃদ্ধি পর্যায়ে রয়েছে। যেসব ক্ষেতের পাট খুব নাজুক অবস্থায় অর্থাৎ সেক্ষেত্রে মাটির আর্দ্রতা খুবই কমে গেছে সেসব ক্ষেতে ১টা হালকা সেচের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

শাক-সবজির ক্ষেতে সপ্তাহে ২-৩ বার মাটির ধরণ ও মাটির রসের অবস্থা বুঝে সেচের ব্যবস্থা করতে হবে। ফল ও সবজির চারাকে তাপপ্রবাহের ক্ষতি থেকে রক্ষার জন্য মালচিং ও সেচ নিশ্চিত করুন।

বাড়ন্ত কলা ক্ষেতে ১টা সেচ দেয়া যেতে পারে।

আম ও লিচু ফল গুটি পর্যায়ে রয়েছে। কাঁঠালের মুচিও ফলে পরিণত হতে শুরু করেছে। এসময়ে এসব ফল গাছে সন্ধ্যার পর বা রাতে আবহাওয়া যখন কিছুটা ঠান্ডা বোধ হবে তখন গোড়ার চারদিকে রিং করে সেচ অথবা ফুট পাম্প দিয়ে গাছের পাতায় পানি স্প্রে করা যেতে পারে। গরমে দিনের বেলায় পানি সেচ দিলে ফল ঝরে যাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যেতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *