সড়কে মৃত্যুর মিছিল ঠেকাতে জামালপুর জেলা প্রশাসকের বিভিন্ন উদ্যোগ

মোঃ রুহুল আমিন রাজু জামালপুর প্রতিনিধি:
সড়ক দুর্ঘটনায় একের পর এক প্রাণহানিতে যখন জামালপুরের মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বাড়ছে, তখন নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন জামালপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইউসুপ আলী। দুর্ঘটনা প্রতিরোধের পাশাপাশি সাধারণ যাত্রীদের নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক যাতায়াত নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়েও গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি।
জামালপুর-ঢাকা রুটে চলাচলকারী রাজিব পরিবহনের বাসকে ঘিরে সাম্প্রতিক কয়েকটি দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনায় সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। গত আগস্টের শেষ সপ্তাহে জামালপুর সদর উপজেলার লাহিড়ীকান্দা এলাকায় রাজিব পরিবহনের বাসের চাপায় চারজন নিহত হন। এর পর নান্দিনা এলাকায় পরিবহনটি বন্ধের দাবিতে আন্দোলনও হয়।
সর্বশেষ গত শুক্রবার ময়মনসিংহের আকুয়া এলাকায় রাজিব পরিবহনের বাসের সঙ্গে সিএনজি অটোরিকশার সংঘর্ষে সাতজন নিহতের ঘটনায় নিরাপদ সড়ক নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। এ ঘটনায় জামালপুরের মানুষের মধ্যে শোক ও উদ্বেগ আরও গভীর হয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে সড়ক দুর্ঘটনা রোধে প্রশাসনের উদ্যোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইউসুপ আলী বলেন, “আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে। ছোট গাড়ি মহাসড়কে এভাবে চলার কথা নয়, তারপরও চলে। সবাইকে সড়ক আইন মেনে চলতে হবে।”
তিনি বলেন, রাজিব পরিবহনের চালকদের প্রশিক্ষণসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিআরটিএকে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে বাসের রুট পারমিট, ফিটনেসসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ রাখার বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, “একটি দুর্ঘটনা শুধু একজন মানুষের জীবন কেড়ে নেয় না, একটি পরিবারকে আজীবনের জন্য অসহায় করে দেয়। তাই দুর্ঘটনা ঘটার পর ব্যবস্থা নেওয়ার চেয়ে দুর্ঘটনা যাতে না ঘটে, সেদিকে আমাদের বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।”
তিনি বলেন, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে প্রশাসন, পরিবহন মালিক-শ্রমিক, চালক ও যাত্রী—সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। চালকদের দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি যানবাহনের ফিটনেস ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়মিত পরীক্ষা করা জরুরি।
গণপরিবহনের সংকটের বিষয়টি তুলে ধরে জেলা প্রশাসক বলেন, “সবচেয়ে বড় কথা, বিআরটিসি বাসের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য মন্ত্রণালয় এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি পাঠিয়েছি। পর্যাপ্ত ও ভালো মানের গণপরিবহন থাকলে মানুষের যাতায়াত আরও নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক হবে।”
তিনি আরও বলেন, “মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। জামালপুরের মানুষ যেন নিশ্চিন্তে সড়কে চলাচল করতে পারেন, সে জন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।”
জেলা প্রশাসক বলেন, “সড়কে মৃত্যুর মিছিল কেউই চায় না। আমি চাই, সড়ক দুর্ঘটনায় আর কোনো মায়ের বুক খালি না হোক। প্রতিটি মানুষ নিরাপদে বাড়ি ফিরুক—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”
প্রশাসনের এমন উদ্যোগে সাধারণ মানুষের মধ্যেও নিরাপদ সড়ক নিয়ে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। যাত্রীদের প্রত্যাশা, দুর্ঘটনার কারণ চিহ্নিত করে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, চালকদের প্রশিক্ষণ, যানবাহনের ফিটনেস পরীক্ষা এবং মহাসড়কে ছোট যানবাহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত তদারকি আরও জোরদার করা হবে।
