আমন ধান উপড়ে ফেলার অভিযোগে মেলান্দহে স্কুলের প্রধান শিক্ষকসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ
জামালপুর প্রতিনিধি:
জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের পুটিয়াপাড়ায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে রোপণ করা আমন ধানের চারা উপড়ে ফেলে ও নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় খাসিমারা গ্রামের মৃত জাফর উদ্দিনের মেয়ে জাহানারা বেগম মেলান্দহ থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগে জাহানারা বেগম উল্লেখ করেন, গত ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে খাসিমারা-পুটিয়াপাড়া এলাকার মৃত ওয়াসিম উদ্দিনের ছেলে সেলিম, পুটিয়াপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কামরুল হাসান, মতিনসহ আরও কয়েকজন তার জমিতে গিয়ে রোপণ করা আমন ধানের চারা উপড়ে ফেলেন ও ক্ষতিগ্রস্ত করেন। এতে তার প্রায় ১০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগে দাবি করা হয়।
জাহানারা বেগমের ভাষ্য, খাসিমারা মৌজার বিআরএস খতিয়ান নং-৫, দাগ নং-১৬৩৯-এ মোট ৪৮ শতাংশ জমির মধ্যে ৯ শতাংশ জমি তার পিতা মৃত জাফর উদ্দিনের অংশ ছিল। পিতা জীবিত থাকা অবস্থায় ১৩ মার্চ ২০১৪ সালে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের মাধ্যমে ওই ৯ শতাংশ জমি তাকে দলিল করে দেন। এরপর থেকে তিনি জমিটি ভোগদখল করে চাষাবাদ করে আসছেন।
তিনি আরও জানান, তার পিতার তিন ভাই মিলে পুটিয়াপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের নামে ৩৯ শতাংশ জমি লিখে দেন। তবে পরবর্তীতে বিআরএস রেকর্ডে ভুলবশত বিদ্যালয়ের নামে ৩৯ শতাংশের পরিবর্তে ৪৮ শতাংশ জমি রেকর্ড হয় বলে তার দাবি। এ নিয়ে তিনি ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে মামলা করে রেকর্ড সংশোধনের রায় পেয়েছেন বলেও জানান।
জাহানারা বেগম বলেন, ওই জমিতে আমন ধান রোপণের পর হঠাৎ করে প্রতিপক্ষের লোকজন এসে ধানের চারা নষ্ট করে দেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনগত প্রতিকার দাবি করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে পুটিয়াপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কামরুল হাসান বলেন, বিদ্যালয়ের নামে বিআরএস রেকর্ডে ৪৮ শতাংশ জমি রয়েছে। প্রতিপক্ষ একতরফাভাবে মামলা করে রায় পেয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, ওই রায়ের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আদালতে আপিল করা হয়েছে এবং বিষয়টি বর্তমানে বিচারাধীন। আদালত যে সিদ্ধান্ত দেবেন, তারা সেটিই মেনে নেবেন।
এদিকে জমির মালিকানা ও রেকর্ড নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ থাকায় বিষয়টি বর্তমানে আদালতের বিচারাধীন। অভিযোগের সত্যতা ও ধান নষ্ট করার ঘটনায় কারা জড়িত ছিলেন, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ হবে।
