সড়ক দুর্ঘটনার ক্ষত শরীরে, তবুও কবিতায় খুঁজে পান জীবনের প্রশান্তি

জামালপুর প্রতিনিধি: মানবিক এক মানুষ মিজানুর রহমান মিজান জীবনের কঠিন বাস্তবতা ও প্রতিকূলতার কাছে হার না মানা এক সংগ্রামী মানুষের নাম মিজানুর রহমান মিজান। প্রায় ৮-১০ বছর আগে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন তিনি। একই দুর্ঘটনায় তাঁর ছোট বোনের স্বামী কবীরের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। সেই দুর্ঘটনার শারীরিক ক্ষত ও মানসিক বেদনা আজও বয়ে বেড়াচ্ছেন বন্ধু মিজান।
দুর্ঘটনার পর দীর্ঘদিন পঙ্গুত্ব নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে তাঁকে। জীবনের এমন কঠিন সময়েও নিজেকে ভেঙে পড়তে দেননি। মনের কষ্ট ভুলে থাকতে এবং কিছুটা মানসিক প্রশান্তি খুঁজে পেতে বেছে নিয়েছেন কবিতার জগৎ। নিজেই কবিতা লেখেন, আবৃত্তি করেন, কখনো গুনগুন করে গানের এক-দুই লাইন গেয়ে নিজের মনকে সান্ত্বনা দেন। কবিতা ও সুরের মধ্যেই খুঁজে নেন বেঁচে থাকার অনুপ্রেরণা।
মিজানুর রহমান মিজান শুধু একজন কবিতাপ্রেমী মানুষই নন, তিনি একজন সৎ, আদর্শবান, সহজ-সরল, সাদামাটা ও হাস্যোজ্জ্বল মানবিক ব্যক্তিত্ব। প্রতিকূলতার মধ্যেও তাঁর সুন্দর মন, জীবনবোধ ও ইতিবাচক চিন্তাভাবনা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার।
জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলা প্রাণিসম্পদ হাসপাতালের সামনে তাঁর পরিচালিত ‘শুভেচ্ছা মেডিকেল হল’ নামে একটি ভেটেরিনারি ওষুধের দোকান রয়েছে। জীবনের নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়েও তিনি নিজের কর্মজীবন ও সৃজনশীলতার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।
বন্ধু মিজানুর রহমান মিজানের জন্য রইল আন্তরিক ভালোবাসা, দোয়া ও শুভকামনা। মহান আল্লাহ পাক তাঁকে সুস্থতা, স্বস্তি ও দীর্ঘ নেক হায়াত দান করুন। তাঁর পরিবারের প্রতিটি সদস্যকে ভালো রাখুন এবং জীবনের প্রতিটি দিন শান্তি ও আনন্দে ভরিয়ে দিন।
মানুষের জীবনে দুর্ঘটনা ক্ষত তৈরি করতে পারে, কিন্তু অদম্য মনোবল, সৃজনশীলতা ও সুন্দর মন মানুষকে নতুন করে বাঁচার অনুপ্রেরণা জোগায়। বন্ধু মিজানুর রহমান মিজান তারই এক অনন্য উদাহরণ।
আমিন।
