আলোচিতজামালপুরসদর

জামালপুর ভোটারের কাঁধে পা দিয়ে নৌকায় উঠে মঞ্চে যাচ্ছেন নৌকার প্রার্থী

কাফি পারভেজ, জামালপুর প্রতিনিধি: জমে উঠেছে জামালপুর-৫ সদর আসনের জাতীয় দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন। কে হচ্ছেন এ আসনের সংসদ সদস্য। এ নিয়ে ভোটারদের সীমাহীন কৌতুহল। র্নির্বাচনের দিন-তারিখ যতই ঘনিয়ে আসছে প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা ততই জমে উঠেছে। প্রচন্ড শীতকে উপেক্ষা করে চলছে ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রার্থীদের জমজমাট নির্বাচনী প্রচার ও গণসংযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হচ্ছে।

জামালপুর-৫ সদর আসনে ভোটযুদ্ধে নৌকার বিষফোঁড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে স্বতন্ত্র প্রার্থীর ঈগল প্রতীক। দ্বিধাবিভক্ত হয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ইশারা ইঙ্গিতে ধরনা দিচ্ছে ভোট প্রার্থনায়। অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন করার কৌশল হিসেবে আওয়ামী লীগ ডামি প্রার্থী কিংবা স্বতন্ত্র প্রার্থী মাঠে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কেউ যেন বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় পার না হতে পারে। নির্বাচনকে প্রতিদ্বন্ধিতামূলক করার জন্য নির্বাচনী মাঠে রয়েছে ‘আওয়ামী স্বতন্ত্র প্রার্থী’। স্বতন্ত্র প্রার্থী নিয়ে মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থীর মধ্যে এক ধরনের অস্বস্তি দেখা যাচ্ছে। দ্বিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনায় দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েছেন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। দ্বিধাবিভক্ত নেতাকর্মীরা ভোটের মাঠে দলীয় নৌকার প্রার্থী এবং স্বতন্ত্র ঈগল প্রতীকের প্রার্থীকে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে।

মেলান্দহ উপজেলার নলেরচর গ্রামের সন্তান হিসেবে পরিচিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক মূখ্য সচিব জামালপুর-৫ সদর আসনে আওয়ামী লীগ মনোনিত নৌকার প্রার্থী মো. আবুল কালাম আজাদ। তিনি সদর আসনে প্রার্থী হলেও সদরবাসীরা বলছেন, চিনিনা যারে ভোট দিমু না তারে। মো. আবুল কালাম আজাদ নিজের পরিচয় জানান দেয়ার জন্য প্রতিটি নির্বাচনী, বিভিন্ন মতবিনিময় সভায়, দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে এমনকি মাইকে রেকর্ডকৃত প্রচার প্রচারনায় বলে যাচ্ছেন তিনি শহরের দেওয়ানপাড়ার সন্তান। যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হচ্ছে প্রতিদিন। এ ছাড়াও তিনি দীর্ঘদিনের ত্যাগী নেতাকর্মী ও ভোটারদের কাঁধে ভর দিয়ে নৌকায় চড়ে ভোট প্রার্থনায় সদর উপজেলার শৈলের কান্দা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নির্বাচনী জনসভা মঞ্চে যাচ্ছেন। নৌকার প্রার্থী মঞ্চে যাওয়ার ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ায় তা নিয়ে ভোটাদের মাঝে আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় বইছে।

জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আছাদুজ্জামান আকন্দ বাবু বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা রেজাউল করিম রেজনু ঈগল প্রতীকে ভোট ভিক্ষা চেয়ে সদরবাসীর হাতে-পায়ে ধরছেন ঠিক তখন নৌকার প্রার্থী ভোটারের কাঁধে পা দিয়ে মঞ্চে যাচ্ছেন। এই ঘটনার মধ্যে দিয়ে সদরবাসীকে অপমান এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সাথে প্রতারণা করা হয়েছে।

জামালপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট মুহাম্মদ বাকী বিল্লাহ এটিকে দলের নেতা-কর্মীদের ভালোবাসা পূর্ণ আবেগের বহি:প্রকাশ বলে মন্তব্য করেছেন

এদিকে আওয়ামী লীগ মনোনয়ন বঞ্চিত প্রার্থী ‘আওয়ামী স্বতন্ত্র প্রার্থী’ হিসেবে ভোটের মাঠে পরিচিতি পেয়েছেন ঈগল প্রতীকের প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য মো. রেজাউল করিম রেজনু। তিনিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রচার করছেন কোন ধরনের হুমকি, ধামকি দেয়া হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তার ফেসবুক পেইজে জামালপুর-৫ সদর আসনের ১৫ টি ইউনিয়নের সকল ভোটারবৃন্দ, ঈগল মার্কার সমর্থক এবং তার শুভাকা্ক্ষংখীদের উদ্দেশ্য লিখেছেন, ঈগল মার্কার পক্ষে কাজ করার জন্য আপনাদের যদি কোন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, মেম্বার অথবা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি, সেক্রেটারি অথবা অন্য কোন পর্যায়ের নেতা প্রকাশ্য অথবা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে কোন ধরনের হুমকি, ধামকি প্রদান করে, অথবা শারিরীক ভাবে লাঞ্চিত অথবা অন্যকোন ভাবে ক্ষয়ক্ষতির ভয় দেখায় আপনারা দয়া করে সেই হুমকি ধামকির কল রেকর্ড করবেন অথবা ভিডিও করবেন এবং আমার অফিসিয়াল ফেসবুক পেজের ইনবক্সে প্রেরণ করবেন। তাৎক্ষণিকভাবে সেই হুমকি দাতার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে ইনশাআল্লাহ। আপনারা নির্ভয়ে বুক ফুলিয়ে কাজ করুন। ঈগলের জয়রথ কেউ থামাতে পারবে না ইনশাআল্লাহ।

এ নিয়ে নির্বাচনের মাঠে একই দলের দুই প্রার্থীর উপস্থিতি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল, বিশৃঙ্খলা নিয়ে দলীয় কোন্দল বাড়ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিব বিশ্লেষকরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *