আলোচিতউপজেলার সংবাদজামালপুরমেলান্দহ

মেলান্দহে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ধান কাটার অভিযোগ, থানায় লিখিত অভিযোগ প্রাণনাশের হুমকির বাদীকে

জামালপুর প্রতিনিধি:
জামালপুরের মেলান্দহে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক প্রবাসীর জমিতে লাগানো ধান কেটে নেওয়া এবং বাধা দিতে গেলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মোঃ ফরহাদ শেখ (৩৭) নামে এক ব্যক্তি মেলান্দহ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার টনকী নয়াপাড়া গ্রামের মৃত ছলিম উদ্দিন শেখের ছেলে মোঃ ফরহাদ শেখ একজন দুবাই প্রবাসী। তিনি ২০২২ সালে জিয়াউল নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে সাব-কবলা দলিলমূলে জমি ক্রয় করেন। অভিযোগকারীর দাবি, ক্রয়কৃত জমির দলিল, খারিজ ও পর্চাসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তাঁর নামে রয়েছে এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরে জমিটি ভোগদখল করে আসছেন।
লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ৬ নভেম্বর ২০২৬ ইং তারিখ সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে জমিসংক্রান্ত পূর্ববিরোধের জেরে মোঃ শামুজ্জামান, মোঃ ফরিদ, মোঃ রফিক, মোঃ সদ্দেব ও মোঃ মকবুলসহ কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁর জমিতে প্রবেশ করেন। এ সময় তাঁরা জমিতে লাগানো কাঁচা ধান কেটে নিয়ে যায় আনুমানিক ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকার ক্ষতিসাধন করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগকারী আরও দাবি করেন, খবর পেয়ে তিনি ও তাঁর স্বজনরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ধান কাটতে বাধা দিলে অভিযুক্তরা তাঁদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন এবং হাতে থাকা দেশীয় অস্ত্র উঁচিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেন। এমনকি জমিতে অবশিষ্ট ধান কেটে নেওয়া হবে বলে জানান এবং বাধা দিলে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ভবিষ্যতে আরও অপ্রীতিকর ঘটনা, সংঘর্ষ ও জানমালের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অভিযোগকারী। তিনি বিষয়টি তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিজের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিযোগে জমির অবস্থান হিসেবে মেলান্দহ থানাধীন কুলিয়া, হামলা ও দুরমুঠ মৌজার পৃথক খতিয়ান ও দাগের জমির বিবরণ উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে মেলান্দহ থানা এস আই আব্দুর রাজ্জাক ঘটনা স্থল পরিদর্শন করেন এবং তিনি বলেন, সঠিক তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *