সরিষাবাড়ীতে গণধোলাই এর শিকার ওয়ার্ড কাউন্সিলর

কাফি পারভেজ, জামালপুর প্রতিনিধি: জেলার সরিষাবাড়ী পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর চর বাঙালি দক্ষিণ পাড়া গ্রামে এক নারীর ইচ্ছের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়ে গণধোলাইয়ের শিকার হয়েছেন। ২৪ ডিসেম্বর রবিবার রাত ১০ টার দিকে এ ঘটনাটি ঘটেছে।
কাউন্সিলর মোশারফ হোসেনের বহিষ্কারের দাবীতে স্থানীয় এলাকাবাসী বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলে প্রায় ২শতাধিক নারী পুরষ অংশ নেয়। ঘটনার পর থেকেই এলাকায় আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে এবং চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে স্থানীয় এলাকাবাসীদের মধ্যে। এলাকাবাসী কাউন্সিলর মোশারফ হোসেনের বহিষ্কার দাবী জানিয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২৪ ডিসেম্বর রোববার রাত ১০টার দিকে পৌরসভার চর বাঙালি দক্ষিণ পাড়া গ্রামে মৃত ইউসুফ আলীর বাড়িতে যায় কাউন্সিলর মোশারফ হোসেন। সে মা ও শিশু ভাতা কার্ড করে দেওয়া নামে দুই সন্তানের জননীর সাথে শারীরিক সম্পর্কের প্রস্তাব দেয়।
দুই সন্তানের জননী রাজি না হওয়ায় বিভিন্ন প্রলোভন দেখায় এবং তার দুই সন্তানকে এসিড দিয়ে পুড়ে মারার হুমকি দেয়। পরে দুই সন্তানের জননী বিষয়টি তার পরিবারের লোকজনদের জানায়। এরপর তার পরিবারের লোকজন কাউন্সিলর মোশারফ হোসেনকে তাদের বাড়িতে আসতে নিষেধ করে। তবুও সে বিভিন্ন অযুহাতে বাড়িতে আসে এবং তার সাথে শারীরিক সম্পর্ক করতে চায়। এ সময় এলাকার লোকজন তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলে এবং গণধোলাই দিয়ে গাছের সাথে বেঁধে রাখে। পরে সংবাদ পেয়ে সরিষাবাড়ী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। খবর পেয়ে পৌর মনির উদ্দিন ঘটনাস্থলে পৌছে এলাকাবাসীর দাবী শুনে কাউন্সিলর মোশারফকে পৌরসভা কার্যালয় থেকে সাময়িক বহিষ্কার করবেন বলে জানান।
এলাকাবাসী বলেন, কাউন্সিলর মোশারফ হোসেন ইতিপূর্বেও একাধিক নারী গঠিত ঘটনায় ধরা খেয়ে গণধোলাই খেয়েছেন।
সাবেক কাউন্সিলর আব্দুল মালেক বলেন, এই ধরনের জঘন্য ও অসামাজিক কার্যকলাপে যে সকল পৌর কাউন্সিলর লিপ্ত থাকে তাদেরকে আইনের আওতায় এনে কঠিন শাস্তি দেওয়া উচিত।
সরিষাবাড়ী থানার ওসি মুশফিকুর রহমান জানান, ঘটনাস্থলে পৌর মেয়র গিয়ে কাউন্সিলরের দায়িত্ব নিয়ে তাকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়। ভিকটিমের কোন অভিযোগ না থাকায় মামলা নেওয়া হয়নি। তবে অভিযোগ করলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে সরিষাবাড়ী পৌর মেয়র মনির উদ্দিন জানান, এলাকাবাসীর কাছে বিস্তারিত জেনে পৌর কাউন্সিলর মোশারফ হোসেনকে তৎক্ষণাৎ মৌখিকভাবে পৌরসভা হতে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে পৌর পরিষদ বসে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করার জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে তিনি চিঠি লিখবেন বলে জানান ।
স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ সচিব (পৌরসভা ১) আব্দুর রহমান জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
