জামালপুরে বিভিন্ন উপজেলায় বৃষ্টির জন্য সালাতুল ইসতিসকার নামাজ আদায়

কাফি পারভেজ, জামালপুর প্রতিনিধি:
তীব্র দাবদাহে পুড়ছে সারা দেশ। এতে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। বেশি কষ্টে আছেন জীবিকার প্রয়োজনে বাইরে বের হওয়া মানুষ। চলমান এ দাবদাহ থেকে রক্ষা পেতে এবং বৃষ্টির জন্য বৃহস্পতিবার জামালপুরের বিভিন্ন উপজেলায় মহান আল্লাহর দরবারে ইসতিসকার বিশেষ নামাজ আদায় ও মোনাজাত করা হয়েছে।
বকশিগঞ্জ উপজেলা: বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে দশটায় বকশিগঞ্জ খয়ের উদ্দিন ফাজিল মাদ্রাসা মাঠে খোলা আকাশের নিচে কয়েক হাজার ধর্মপ্রান মুসল্লী সমবেত হয়ে বিশেষ নামাজে অংশগ্রহন করেন। নামাজ শেষে আল্লাহর কাছে বৃষ্টির জন্য দোয়া প্রার্থনা করা হয়। নামাজে ইমামতি ও দোয়া প্রার্থনা করেন বকশিগঞ্জ বাসটার্মিনাল জামে মসজিদের ঈমাম মাওলানা মো. সাইফুল্লাহ।
বকশিগঞ্জের পৌর এলাকার মতিন রহমান বলেন, সারাদেশে যে তীব্র দাবদাহ চলছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করলাম এবং ইসতিসকার নামাজ আদায় করলাম। আল্লাহতালা যেন রহমতের বৃষ্টি বর্ষন করেন জমিনে।

জামালপুর শহর: তীব্র তাপপ্রবাহে বৃষ্টি কামনায় জামালপুর পৌরসভার শেখেরভিটা রেলগেট সংলগ্ন মসজিদের মাঠে সকাল ৯.১৫ টায় সালাতুল ইস্তেসকার (বৃষ্টির জন্য) নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতিত্ব করেন প্রখ্যাত ওয়াজেন মাওলানা নুরুজ্জামান নুরী । বিশিষ্ট জনের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উক্ত মসজিদের সভাপতি এড. রফিকুল ইসলাম, সেক্রেটারি খোকন মিয়া, জামালপুর জজ কোর্টের সিনিয়র এডভোকেট আব্দুল আওয়াল, এড. সুলতান মাহমুদ, এড. ছামিউল হক, এড. নজরুল ইসলাম, মাওলানা সাঈদ বিন আকবর, হাফেজ খন্দকার মোকাদ্দাস আলী, মাওলান নুরুল ইসলাম দেওয়ান, মাওলানা হাফেজ মাহমুদ হোসাইন সহ বিপুল সংখ্যক সাধারণ মুসল্লি।

সরিষাবাড়ি উপজেলার: সরিষাবাড়ি উপজেলার ভাটারা ইউনিয়নের উদ্যোগে চরহরিপুর কেন্দ্রীয় ঈদগাঁ মাঠে সকাল ১০ টায় সালাতুল ইস্তিসকা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ঈমামতি করেন চর হরিপুর কেন্দ্রীয় ঈদগাঁ মাঠে ঈমাম মাওলানা আশরাফ ফারুকী। বিশিষ্ট জনের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জামালপুর জজ কোর্টের এডভোকেট আছিমুল ইসলাম , সহকারি মৌলভী মাওলানা মোজাম্মেল হক সহ সাধারণ মুসল্লিগণ।

দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা: দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চিকাজানি মাজেদা সামস কিন্ডাগার্ডেন স্কুলে সকাল ৮ টায় সালাতুল ইস্তিসকা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ঈমামতি করেন দেওয়ানগঞ্জ কামিল মাদরাসা ঈদগাঁ মাঠের ঈমাম হাফেজ মাওলানা সোলায়মান হোসেন। বিশিষ্ট জনের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দেওয়ানগঞ্জ কামিল মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত উপাধ্যক্ষ মাওলানা মাহবুবুর রহমান তালুকদার, দেওয়ানগঞ্জ বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হাজী ইসমাঈল হোসেন, হাফেজ মাওলানা আতিকুর রহমান সহ সাধারণ মুসল্লিগণ।
মোনাজাতে অংশ নেয়া মুসল্লিগন কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে মহান সৃষ্টিকর্তার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করে এই অসহনীয় পরিস্হিতি থেকে পরিত্রাণের জন্য দোয়া করেন। দোয়া করার সময় হাত উল্টো করে পড়েন মুসুল্লিগণ।
অপর দিকে জামালপুর কৃষি আবহাওয়া অফিস জানায়, এক সপ্তাহ ধরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি থেকে ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ওঠা-নামা করছে। তবে আপাতত তাপমাত্রা কমার কোন সম্ভাবনা নেই।
আব্দুর রহমান নামের এক মুসুল্লি বলেন, আমার বয়স ৫০ বছর। আমার জীবনে আমি এমন গরম দেখি নাই। এই তীব্র গরম থেকে বাঁচতে আজ বিশেষ নামাজ আদায় করলাম। আল্লাহ পাক যেন বৃষ্টি দেয় পরিবেশটা যেন ঠান্ডা হয়ে যায়।
বিশেষ নামাজে মোনাজাত পরিচালনাকারী ঈমানগণ বলেন, আমাদের বর্তমান আবহাওয়ার বৈরী অবস্থা। তীব্র খড়ার কারণে গোটা দেশে দাবদাহ সৃষ্টি হয়েছে। ফলে পরিবেশের উপর প্রভাব পড়েছে। শুধু তাই না তীব্র তাপদহের কারণে সারাদেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। হাসপাতালগুলোতে রোগীর সংখ্যা বেড়ে গিয়েছে। এর থেকে পরিত্রাণের জন্য আমরা বিশেষ নামাজ আদায় করলাম।
