বকশিগঞ্জে মাদ্রাসা ছাত্রীকে অপহরণের অভিযোগ
কাফি পারভেজ, জামালপুর প্রতিনিধি:
বকশিগঞ্জের জব্বারগঞ্জ নুরানী মাদ্রাসায় পড়ুয়া এক শিশু শিক্ষার্থীকে (১২) অপহরনের অভিযোগ উঠেছে। অপহরনের মুল হোতা ৩ সন্তানের জনক হযরত আলী। গত ২ মে বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার মেরুরচর ইউনিয়নের খেওয়ারচর বাজারে ব্রীজের নিচ থেকে এই ঘটনা ঘটে। হযরত আলী পূর্ব কলকিহারা গ্রামের মৃত মুসলিম উদ্দিনের ছেলে ও মেরুরচর ইউপির ১ নং ওয়ার্ডের মহিলা মেম্বার ফরিদা বেগমের স্বামী।
এই ঘটনায় রবিবার শিক্ষার্থীর মা বাদী হয়ে বকশিগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এদিকে অভিযুক্ত হযরত আলী প্রভাবশালী হওয়ায় বিষয়টি ধামাচাপা দিতে দৌড়ঝাপ শুরু করেছেন কথিত মাতাব্বরা এবং বাদীকে নানা ভাবে হুমকি দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
জানা যায়,বকশিগঞ্জ উপজেলার মেরুররচর ইউনিয়নের খেওয়ারচর বাজার নুরানী মাদ্রাসায় যাওয়া আসার পথে প্রায় ওই ছাত্রীক উত্যোক্ত করতো হযরত আলী। আপত্তিকর কথাবার্তা এবং নানা ধরনের লোভ লালসা দেখাইতো সে। বিষয়টি ওই ছাত্রী তারা বাবা মাকে জানায়। এই নিয়ে একাধিকবার গ্রাম্য শালিস বৈঠক হয়। এতে আরো দারুণভাবে ক্ষিপ্ত হয় মহিলা মেম্বার ফরিদা বেগমের স্বামী হযরত আলী। গত বৃহস্পতিবার বাড়ির সামনে থেকে অটোরিকশা করে জোড়পূর্বক ওই ছাত্রীকে অপরহরণ করে নিয়ে যায় হযরত আলী ও তার লোকজন। মহিলা মেম্বারের স্বামী হওয়ায় বিষয়টি ধামাচাপা দিতে ইউপি চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে একাধিকবার শালিস বৈঠক হয়। শালিসে মেয়েটিকে তার বাবা মার হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু মাতাব্বরদের ডাকে হযরত আলী সাড়া দেয়নি। উল্টো মামলার বাদীকে প্রাণনাশের হুমকি ও মামলা তুলে নেয়ার হুমকি দিচ্ছে হযরত আলী ও তার স্ত্রী মহিলা মেম্বার ফরিদা বেগম। সন্তানকে খোজে পেতে সমাজপতিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন হতদরিদ্র বাবা মা।
মামলার বাদী রাবেয়া বেগম বলেন,আমার মেয়েটি নাবালিকা। সে কখনো বাড়ির বাইরে যায়না। এলাকার সবাই জানে আমার মেয়েটো কেমন। মহিলা মেম্বারের স্বামী আমার মেয়েকে অপহরণ করে নিয়ে গেছে। জানি না এখন কোথায় কেমন আছে। আমি আমার মেয়েকে ফেরত চাই এবং হযরত আলীর শাস্তি চাই।
ছাত্রীর বাবা বলেন, বসতভিটে না থাকায় থাকি খেওয়ারচর সরকারি আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘরে। কাজ কাম করে খাই। আমার ছোট্ট মেয়েটাকে ফিরে পেতে সকলের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছি, কিন্তু কেউ আমাকে সাহায্য করছে না। এছাড়া উল্টো মহিলা মেম্বার ফরিদা বেগম ও তার আত্বীয় স্বজনরা আমাকে নানা ভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দিচ্ছেন। আমরা নিরাপত্তহীনতায় ভুগছি।
ইউপি সদস্য ফরিদা বেগম বলেন, ওই মেয়ের বাবা মা নিজেই হয়তো তাদের মেয়েকে আমার স্বামীর সাথে দুরে কোথাও পাঠিয়ে দিয়েছেন।
হযরত আলীর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এ ব্যাপারে মেরুরচর ইউপি চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান বলেন, উভয় পক্ষের সাথে কথা বলে মেয়েটিকে উদ্ধারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। কিন্তু হযরত আলী তার ফোন বন্ধ করে রাখার কারনে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। পরে মেয়েটির অসহায় পরিবারকে আইনের আশ্রয় নিতে বলেছি।
বকশিগঞ্জ ওসি মুহাম্মদ আবদুল আহাদ খান বলেন, ভিকটিমকে উদ্ধারে মাঠে কাজ করছে পুলিশ। তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
