পরীক্ষায় অংশ নেওয়া হলো না এইচএসসি পরীক্ষার্থীর
কাফি পারভেজ, জামালপুর প্রতিনিধি:
জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার চিনাডুলী ইউনিয়নের গুঠাইল গিলাবাড়ি এলাকার এইচএসসি পরীক্ষার্থী কারিমুল ইসলামের রবিবার অনুষ্ঠিত এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া হলোনা। সড়ক দুর্ঘটনায় ওই পরীক্ষারর্থীর মৃত্যু হয়েছে। নিহত পরীক্ষার্থী কারিমুল ইসলাম গুঠাইল গিলাবাড়ি এলাকার ব্যবসায়ী সামিউল হকের ছেলে। তিনি জামালপুর সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন।
পুলিশ ও কলেজ সূত্রে জানা যায়, শিক্ষার্থী কারিমুল ইসলাম জামালপুর পৌর শহরে পশ্চিম নয়াপাড়া এলাকার একটি বেসরকারি ছাত্রাবাসে থেকে পড়ালেখা করতেন। তিনি সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন। শুক্রবার বিকালে পৌর শহর থেকে সিএনজিতে করে বাবা-মায়ের কাছে দোয়া নেওয়ার জন্য নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন। সিএনজিটি শহরের মির্জা আজম চত্বরের একটু সামনে পৌঁছলে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগামী ট্রাকের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে পরীক্ষার্থী কারিমুল আহত হয়। পরে ¯’ানীয়রা তাকে উদ্ধার করে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সে সময় তার পরিচয় না পাওয়ায় হাসপাতালে তাকে অজ্ঞতানামা পরিচয়ে ভর্তি করা হয়। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষার্থী কারিমুলকে মৃত ঘোষণা করেন। তার পরিচয়া না পাওয়া গেলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিহতের ছবি পোস্ট করেন এবং পরিচয় জানতে চান অনেকেই। পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শনিবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে কারিমুলের মৃত্যুর বিষয়টি পরিবারের লোকজন জানতে পারেন। এ ঘটনায় পুলিশ সিএনজিচালককে আটক করে আদালতে প্রেরণ করেছে।
নিহত কারিমুলের বন্ধুরা জানান, পরীক্ষা দিবে এ জন্য শুক্রবার বাবা-মা’র কাছে দোয়া নেওয়ার জন্য মেস থেকে বের হয়। শহরের মির্জা আজম চত্বরে একটি ট্রাকের সাথে সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনি আহত হয়। পরে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। সড়ক দুর্ঘটনার বিষয়টি আমরা জানতাম না। এটা আমাদের সবচেয়ে কষ্টের বিষয়। শনিবার সকালে আমরা বিষয়টি ফেইসবুকের মাধ্যমে জানতে পেরেছি।
সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. হারুন অর রশিদ বলেন, ছেলেটি মেসে থেকে পড়াশোনা করতো। খুবই মেধাবী শিক্ষার্থী ছিল। দোয়া নিতে বাড়িতে যাচ্ছিল। যাওয়ার পথে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
এ বিষয়ে জামালপুর সদর থানার ওসি মুহাম্মদ মহব্বত কবীর বলেন, সিএনজি চালককে আটক করা হয়। পরে তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
