ত্রাণের টিন আত্মসাতের ঘটনায় চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সেনাক্যাম্পে অভিযোগ

জামালপুর প্রতিনিধিঃ ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য বরাদ্দকৃত ত্রাণের টিন সঠিক ভাবে বিতরণ না করে, কৌশলে আত্মসাৎ করে নিজেদের মার্কেটের চালে ব্যবহার করায় দুরমুঠ ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা সৈয়দ খালেকুজ্জামান জুবেরী এবং তার দোসর জেলা শ্রমিক লীগের সহ-সভাপতি, জাহাঙ্গীর আলম চাঁন এর বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর পক্ষে অভিযোগ করেছেন, মোঃ মুঞ্জুরুল ইসলাম।
অভিযোগপত্রে ও এলাকাবাসীসূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও মেলান্দহ মাদারগঞ্জ আসনের সাবেক এমপি মির্জা আজমের বন্ধু এবং সহপাঠী, দুরমুঠ ইউপি চেয়ারম্যান, সৈয়দ খালেকুজ্জামান জুবেরী একজন চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ, লুটেরা, ক্ষমতার অপব্যবহারকারী ও দখলবাজ প্রকৃতির লোক। তিনি গত ১৫ বছর মির্জা আজমের নাম ভাঙ্গিয়ে তার বন্ধুত্বের পরিচয় দিয়ে দুরমুঠ দুর্নীতি অনিয়ম, সেচ্চাচারিতা, মাদক কারবার ও দখলের স্বর্গরাজ্য কায়েম করেছে। তিনি একাধারে দুরমুঠ ইউপি চেয়ারম্যান, কলাবাধা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতির দাযিত্ব পালন করেছেন। এ দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে শিক্ষক নিয়োগ বাণিজ্য, স্কুলের পরীক্ষার ফি, সংস্কার মেরামত ও প্রতিস্থাপন বাবদ সরকারের নানা বরাদ্দের অর্থআত্মসাৎ, দলীয় প্রভাব ব্যবহার হাতিজায়, বঙ্গবন্ধু মোড় ও রেলের জমি দখল, দলের নেতাকর্মীদের জন্য নানা বরাদ্দ তাদের না দিয়ে সিংহভাগ আত্মসাৎ করেছেন। এছাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ভিজিডি, ভিজিএফ, বয়স্ক ভাতা, বিধবা, মা ও শিশুকল্যাণ ভাতা এলজিএসপিসহ ইত্যাদি প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ করে কোটি কোটি টাকার মালিক বনেগেছে। গড়েছে দুরমুঠে, ময়মনসিংহে ও ঢাকায় আলিশান বাড়ি। শুধু তা-ই নয়, তার ইউনিয়নের কর্মসৃজন প্রকল্পের ২০৯ জন শ্রমিকের নামীয় সিমকার্ড সে নিজের কব্জায় রেখেছে। তা থেকে তিনি প্রতিবছর ৬৬ লাখ ৮৮ হাজার টাকা তুলে নিজের পকেটে ভরেছে। এছাড়া গতবছর কালবৈশাখী ঝড়ে দুরমুঠ ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ২শ পরিবারের নামে ২ বাণ্ডিল টিন ৬ হাজার করে টাকা বরাদ্দ হয়। সেই টিন ও টাকা তিনি আর তার দোসর জাহাঙ্গীর আলম চাঁন সঠিকভাবে বিতরণ না করে কৌশলে আত্মসাৎ করেছেন। এবং আত্মসাৎকৃত টিন তারা তাদের মার্কেট নির্মাণের কাজে ব্যবহার করেছেন।
এমন অসংখ্য দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে সারা ইউনিয়নজুরে যা সরেজমিন তদন্ত করলে বেরিয়ে আসবে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দুরমুঠ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির আরও দুইটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এব্যাপারে নিজের বিরুদ্ধে উত্থাপিত সব অভিযোগ অস্বীকার করে দুরমুঠ ইউপি চেয়ারম্যান, সৈয়দ খালেকুজ্জামান জুবেরী বলেন, আমি আসলে একটি ষড়যন্ত্রের শিকার। শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে আমি এসব অভিযোগ ও মামলার শিকার হচ্ছি। ত্রাণের টিনের ব্যাপারে তিনি বলেন, জাহাঙ্গীর আলমের মার্কেটে অতগুলো ত্রাণের টিন কিভাবে গেল আমি তাও জানি না।
