জামালপুরের চরাঞ্চলে চলছে হাড় কাঁপানো শীত
মোঃ রুহুল আমিন রাজু জামালপুর প্রতিনিধি : জামালপুর জেলার ইসলামপুরে যমুনার দূর্গম চরাঞ্চলের অন্তত: লক্ষাধিক মানুষ গত এক সপ্তাহ ধরে হাড়কাঁপানে শীতে কাঁপছে। শীতের কারণে ওইসব চরাঞ্চলের নিম্ন আয়ের মানুষের মাঝে খাদ্য ও শীত বস্ত্রের সংকট চলছে।
জানাগেছে, ইসলামপুরের সাপধরী, চিনাডুলী, নোয়ারপাড়া, বেলগাছা, কুলকান্দি ও পাথর্শী ইউনিয়ন সমুহের অন্তত: পঞ্চাশটি গ্রাম যমুনার দূর্গম চরাঞ্চলে অবস্থিত। এসব চরাঞ্চলে গত তিন দিন ধরে সূর্যের মুখ দেখা যায়নি। ওইসব এলাকায় তিন ধরে প্রায় চব্বিশ ঘন্টাই ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন থাকে।এছাড়াও সারাক্ষন বইছে কনকনে ঠান্ডা বাতাশ।
ইসলাপুরের যমুনার দূর্গম চরাঞ্চল সাপধরী ইউনিয়নের বাসিন্দা আজিজুর রহমান চৌধুরী জানান, ঠান্ডা বাতাশ, ঘন কুয়াশা আার কনকনে শীতের কারণে সাপধরী ইউনিয়নের দূর্গম চরাঞ্চল কাশারীডোবা, চরশিশুয়া, প্রজাপতি, মন্ডলপাড়া, ছিটেপাড়া, ফকিরপাড়া, কুদালধুয়া, ইন্দুল্লামারী ও চেঙ্গানিয়া গ্রাম সমূহের প্রায় দশ হাজার মানুষ হাড় কাঁপানো শীতে বেসামাল হয়ে পড়েছেন। এসব চরের অধিকাংশ মানুষই কৃষি নির্ভর হলেও শীতের কারণে তারা কেউ ক্ষেতে খামারে যেতে পারছেন না। শীতের কারণে মৎসজীবি, দিন মজুর ও অতি দরিদ্রদের ঘরে ঘরে খাদ্য ও শীত বস্ত্রের তীব্র সংকট চলছে।
কাশারীডোবা চরাঞ্চলের বাসিন্দা মৎসজীবি আনিছুর রহমান ও চর শিশুয়া গ্রামর মৎসজীবি আব্দুস সালামের সাথে কথা হলে তারা বলেন, গত তিনদিন ধরে কনকনে শীত ও ঠান্ডা বাতাশের কারণে চরের সকল মৎসজীবিরাই যমুনা নদীতে মাছ ধরতে পারছেন নাদ। একই গ্রামের দিন মজুর সিবেরদ্দী জানান, কনকনে শীতের কারণে চরের দিনমজুররা তিনধরে মাঠে মজুরী খাটতে পারছেনা। মন্ডলপাড়া গ্রামের দিন মজুর নুর ইসলাম জানান, শীতের মাঝে কাজ করতে না পারায় তাদের ঘরে খাদ্য সংকট শুরু হয়েছে।
কাশারীডোবা গ্রামের অতি দরিদ্র আব্দুর রশিদের স্ত্রী বুলী বেগম বলেন, শীতের জন্য খুব কষ্টে আছি। সংসারে অভাবের কারনে একটা শীতের জামাও কিনতে পারছিনা। একই গ্রামের দরিদ্র সোজাম্মেল বলেন, আঙ্গরে শীতে মরবার দশা হইছে, তাও এলা কেউ আঙ্গরে এডা কম্বলও দেয়না।
ইসলামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলাম জানান, শীত নিবারণের জন্য চলতি শীত মৌসুমে ইসলামপুরের দরিদ্র মানুষের মাঝে এবং ইসলামপুরের প্রায় সবগুলো এতিম খানায় এবং উপজেলা শহরের হাট বাজার রাস্তাঘাট স্টেশনসহ বিভিন্ন পাবলিক প্লেসে অবস্থানকারী দরিদ্র মানুষের মাঝে শীত বস্ত্র কম্বল বিতরণ করা হচ্ছে। এছাড়াও খুব শিঘ্রই যমুনা চরাঞ্চলের অতি দরিদ্র মানুষের মাঝে কম্বল বিতরনের ব্যাবস্থা করা হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
