মেলান্দহে ব্যাংক কর্মকর্তার বাড়িতে আওয়ামীগ নেতাদের হামলা, বাড়ীঘর ভাংচুর, লুটের অভিযোগ
কাফি পারভেজ, স্টাফ রিপোর্টার:
বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসর আসাদুজ্জামান গং এর দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও তাদের বিরুদ্ধে দায়েকৃত মামলার সকল আসামীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে সোমবার দুপুরে জামালপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এক সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে ব্যাংক কর্মকর্তা রবিউল ইসলামের স্ত্রী আসমা আক্তার অভিযোগ করে বলেন, মেলান্দহ উপজেলার নয়ানগর ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড কৃষকলীগের সভাপতি সোহরাব হোসেন, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জহুরুল হক, সোহরাবের ভাই আসাদুজ্জামান জমি দখল ও আমার স্বামী এবং আত্মীয় স্বজনদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে।
লিখিত বক্তব্যে আসমা আক্তার আরো বলেন, জেলার মেলান্দহ উপজেলার শিহাটা মৌজার ১১.৫০ শতক জমিসহ অন্যান্য মৌজার ভূমি ইসমাইল হোসেন ও আমার স্বামী রবিউল ইসলাম গংরা ভোগ দখল করে আসছে। উক্ত জমিতে বসতঘর নির্মাণ করতে গেলে ওই এলাকার মৃত খলিলুর রহমানের ছেলে আসাদুজ্জামান একই জমিতে জোর পূর্বক ঘর নির্মাণ করে। এর আগে এই জমি নিয়ে একাধিকবার শালিশ বৈঠক হলেও আসাদুজ্জামান বৈঠক অমান্য করে। গত ১৬ জানুয়ারি দিবাগত রাতে আসাদুজ্জামান গংরা নিজেদের বাড়িঘর নিজেরাই ভাংচুর করে এবং পরদিন ১৭ জানুয়ারি সকালে সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে আমাদের উপর হামলা চালায়। এসময় আমাদের মারধোরসহ ঘরবাড়ী ভাংচুর ও লুটপাট করে। এলাকাবাসী সকল আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিতে চাইলে সন্ত্রাসীর দল আমাদের ঘরে অবরুদ্ধ করে রাখে। পরবর্তীতে স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের দোসরদের হামলার শিকার হয়ে আমার ভাসুরের ছেলে পলাশ মিয়া বাদী হয়ে ১৭ জানুয়ারি আসাদুজ্জামানকে প্রধান আসামী করে ১১ জনের নামে মেলান্দহ থানায় মামলা দায়ের হয়। যে মামলাটি নামমাত্র দায়ের হলেও এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তারের পদক্ষেপ নেয়নি পুলিশ। বিগত আওয়ামী সরকারের দোসর নয়ানগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলাম ও ওয়ার্ড কৃষকলীগের সভাপতি সোহরাবের হোসনের মদদে আসাদগংরা বারবার আমাদের উপর হামলা করছে এবং প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। এসময় আসাদগংদের হাত থেকে নিষ্কৃতি পেতে পুলিশ প্রশাসনের সহযোগীতা এবং আদালতে ন্যায় বিচার কামনা করেন আসমা আক্তার।
এ বিষয়ে মেলান্দহ থানার ওসি মোহাম্মদ মাসুদুজ্জামান বলেন, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে পৃথক পৃথক ঘটনায় দুই পক্ষই থানায় অভিযোগ দেন। তদন্ত ছাড়া মামলা নেয়া হয়নি। দু’পক্ষের লোকজন আঘাতপ্রাপ্ত, তাই দু’পক্ষের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত সাপেক্ষে দুই পক্ষেরই মামলা দায়ের হয়েছে।
