সাবেক তথ্যমন্ত্রী আবুল কালামসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা
কাফি পারভেজ, স্টাফ রিপোর্টার:
জামালপুর-১ (দেওয়ানগঞ্জ-বকশিগঞ্জ) আসনের সাবেক এমপি তথ্য ও সংস্কৃতিমন্ত্রী আবুল কালাম আজাদসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। জমি দখল ও লুটপাটের অভিযোগে মেরুরচর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য সিদ্দিকুর রহমান সোমবার বকশিগঞ্জ আমলি আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। বকশিগঞ্জ থানার ওসি মামলাটি তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দেয়ার আদেশ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিচারক।
মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক তথ্য ও সংস্কৃতিমন্ত্রী জামালপুর-১ (দেওয়ানগঞ্জ-বকশিগঞ্জ) আসনের সাবেক এমপি আবুল কালাম আজাদ (৬৫)। তিনি এ আসন থেকে ছয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। আরো আসামি করা হয়েছে তাঁর ছোট তিন ভাই গোলাম মোস্তফা (৫৫), নজরুল ইসলাম (৫৮), মোফাজ্জল হোসেন (৫২) এবং ভাতিজা রেজাউল করিম (৫২)। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ২০-২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, আসামিরা সন্ত্রাসী, দুর্নীতিবাজ এবং ভূমি দখলকারী। ১ নম্বর আসামি আবুল কালাম আজাদের ছত্রচ্ছায়ায় এবং ক্ষমতায় ভূমি দখলসহ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং চাঁদাবাজি কার্যকলাপ পরিচালনা করা হয়েছে। ২০২৩ সালের ৩০ ডিসেম্বর আবুল কালাম আজাদের হুকুমে ও কুপরামর্শে আসামিরা দা, লাঠি, ফালা, হেমার, লোহার খস্তা, কুড়াল, খুর, চাকু ও হাতুড়ি ইত্যাদি মারাত্বক দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বাদির বসতবাড়িতে ঢুকে নবনির্মিত ৫২ ফুট দৈর্ঘ্যে বিশিষ্ট হাফ বিল্ডিং ঘর ভেঙে নিয়ে যায়।
এতে বাধা দিলে বাদি সিদ্দিকুর রহমানসহ দায়েরকৃত মামলার সাক্ষীদের খুন করে লাশ গুম করার হুমকি দেয় আসামিরা। বাদির বিল্ডিং ঘর ভেঙে প্রায় ৮ লাখ টাকার ক্ষতি করে। এ ছাড়া ধান-গম ভাঙার হলারসহ যাবতীয় সরঞ্জামাদি, আলমারিতে থাকা ৬ লাখ টাকা মূল্যের ৪ ভরি ওজনের স্বর্ণের অলংকার, জমিতে রোপণ করা ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা মূল্যের ৩৬টি মূল্যবান কাঠের গাছ এবং ৩০ শতাংশ জমির পাকা ধান চুরি করে নেয় আসামিরা। ৩ নম্বর আসামি তথ্যমন্ত্রী আবুল কালাম আজাদের ভাতিজা রেজাউল করিম বাবু থানায় যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে খুর দিয়ে সিদ্দিকুর রহমানের পেট ফেড়ে ভুরি নামিয়ে ফেলার হুমকি দেয়। আইনের আশ্রয় নিলে বাদি সিদ্দিকুর রহমানকে খুন জখম করবে এবং মিথ্যা মামলায় ফাসিয়ে দেয়ার হুমকি দেয় আসামিরা। পরবর্তী সময়ে বাদী থানায় মামলা করতে গেলে আসামিরা রাজনৈতিক প্রভাবে তা করতে দেননি।
মামলার বাদী সিদ্দিকুর রহমান বলেন, আবুল কালাম আজাদ আমার বাবার চাচাতো ভাই। জমি দখলসহ লুটপাটের ঘটনায় সাবেক তথ্যমন্ত্রী আবুল কালাম আজাদসহ তাঁর চার ভাই এবং ভাতিজার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছি।
সিদ্দিকুর রহমান আরো বলেন, আবুল কালাম আজাদ ১৯৯৭ সালে এমপি পদে থাকাকালীন ৪১ শতাংশ কৃষি জমি তার কাছে বিক্রি করেন। পরে একাধিকবার জমি বেদখল করেন। এনিয়ে আদালতে মামলা দায়ের করলে এমপি আবুল কালাম আজাদ ২০০৯ সালে বকশিগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলায় অজ্ঞাত আসামি হিসেবে পুলিশ দিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। তিনি তিন মাস জেলে খেটে জামিনে মুক্তি পান। এরপর আবুল কালাম আজাদ তার আত্মীয়-স্বজনদের দিয়ে একে একে পাঁচটি উদ্দেশ্য প্রণোদিত মামলায় অজ্ঞাত আসামি হিসেবে পুলিশ দিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করিয়ে কারাগারে পাঠান।
বাদিপক্ষের আইনজীবী মো. আশরাফুল হক আলাল বলেন, শুনানি শেষে মামলাটি তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেয়ার জন্য বকশিগঞ্জ থানার ওসিকে আদেশ দিয়েছেন বিচারক।’
বকশিগঞ্জ থানার ওসি খন্দকার শাকের আহমেদ বলেন, মামলা করার বিষয়টি আমি এখনো অবগত নই। মামলার কাগজপত্র হাতে পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
