রাজনৈতিক জীবনে একাধিক মামলা হামলা নির্যাতনের শিকার বিএনপি নেতা লিপন
কাফি পারভেজ, স্টাফ রিপোর্টার:
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের গঠিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির রাজনীতির অনুসরণ, অনুকরণ ও মনেপ্রাণে অন্তঃকরণের পর ছাত্রজীবন থেকেই প্রাতিষ্ঠানিক রাজনীতির চর্চায় মনোনিবেশ করেন আব্দুল্লাহ আল শাফি লিপন। খুব অল্প বয়স থেকেই সমাজকর্ম ও রাজনীতিতে জড়িয়ে যান। ছাত্র দলের রাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে নিজের আগামনী বার্তাটা পৌঁছে দেন সকলের মাঝে।
জামালপুরের বকশিগঞ্জ উপজেলার পাখিমারা গ্রামের সরকারবাড়ির সর্বদা হাস্যোজ্জ্বল, ব্যক্তিত্বে অমায়িক, কথাবার্তায় বিনয়ী, চলাফেরায় নম্র ও দরাজ কণ্ঠের অধিকারী আব্দুল্লাহ আল শাফি লিপন দু সন্তানের জনক। তার বাবা মরহুম খলিলুর রহমান ছিলেন একজন আদর্শ শিক্ষক।
আব্দুল্লাহ আল শাফি লিপন রাজনীতির বিচক্ষতায় ১৯৯৭-১৯৯৮ শিক্ষাবর্ষে কলেজ শাখার ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। তিনি শুধু ছাত্র হিসেবে মেধাবী তাই নয়, তিনি রাজনীতিতেও প্রজ্ঞা ও মেধার বিকাশ ঘটিয়ে এগিয়ে যান বীরদর্পে। ২০০২ সালে উপজেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদকের পদও লাভ করেন।
বিএনপির রাজনীতির সংগ্রামী আদর্শ তৃণমূল থেকে রাজনীতির সর্বোচ্চ পর্যায়ে বিচরণ করতে চান লিপন। তার অস্তিত্ব ও হৃদয়জুড়ে তার মননে, মগজে একাকার হয়ে আছে বকশিগঞ্জের মাটি ও মানুষ। সত্যনিষ্ঠ রাজনৈতিক আদর্শ এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সহজ-সরল সম্পর্কের কারণে খুব সহজেই তিনি নিজ এলাকার সর্বস্তরের মানুষের কাছে প্রিয়জন হিসাবে বেশ পরিচিতি লাভ করেন।
শেকড়ের প্রতি, এলাকাবাসীর প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা কোনো রাজনীতিবিদের থাকতে পারে, সেটা আব্দুল্লাহ আল শাফি লিপনকে না দেখলে কিংবা কাছ থেকে না জানলে বিশ্বাস করা কঠিন। কী করলে বকশিগঞ্জবাসী স্বস্তি ও শান্তিতে বসবাস করতে পারবে, কী করলে বকশিগঞ্জের মানুষ সম্মানিত হবে, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম নিয়ে তার চিন্তা-চেতনা, ভাবনা, স্বপ্ন সারাক্ষণ তাকে বিভোর করে রাখে। তাই তো বকশিগঞ্জবাসী তাঁকে একান্ত আপন করে নিয়েছেন। এ কারণেই এলাকাবাসীসহ বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মী সমর্থকরা এই নেতাকে উপজেলা বিএনপি কিংবা পৌর বিএনপির দায়িত্বশীল পদে রাখলে তাদের সুখ-দুঃখে, বিপদ-আপদে সর্বাগ্রে প্রিয় নেতারই সান্নিধ্য পাবেন বলে মনে করেন তারা।
আত্মনিবেদনে ভরপুর এবং ভোগবাদী, সুবিধাবাধী ও সিন্ডিকেট রাজনীতির বিপরীতে ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত তার রাজনৈতিক জীবন। মামলার বোঝা কাঁধে নিয়ে কখনো পালিয়ে, কখনো এই জেল থেকে ওই জেলে, দিনের পর দিন রিমান্ডে কাটিয়েছেন। ২০০৮ সালে ওয়ান ইলিভেনের সময় গ্র্রেপ্তার হয়ে ১৮ মাস জেল খাটেন লিপন। সে সময় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের চম্পাকলি সেলে কারাভোগের সময় কনিষ্ট নেতা হিসেবে পরিচয় হয় বিএনপি বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাথে। তারেক রহমান সে সময় আব্দুল্লাহ আল শাফি লিপনের মাথায় হাত বুলিয়ে আর্শিবাদ করে বলেছিলেন ‘তুই একসময় বড় নেতা হবি’।
এদিকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আর্শিবাদ অপরদিকে বিএনপি’র চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উপদেষ্টা সাবেক আইজিপি আব্দুল কাইয়ুম এর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে জেল থেকে বেড়িয়ে ফের সক্রিয় হয়ে উঠেন রাজনীতির মাঠে। বার বার কারা নির্যাতিত নেতা আব্দুল্লাহ আল শাফি লিপন সাবেক আইজিপি আব্দুল কাইয়ুম এর জেঠাতো ভাই। তার আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে একজন একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে বিএনপি’র হয়ে কাজ করে যাচ্ছেন।
২০১৩ সালে বকশিগঞ্জ উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক এবং ২০১৬ সালে পৌর-বিএনপির সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৬ সালে পৌর বিএনপির সদস্য সচিব থাকা অবস্থায় আবারও নাশকতা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে ১মাস ১৮দিন জেল খাটেন এই নেতা। এ পর্যন্ত এই নেতার বিরুদ্ধে ১৬টি রাজনৈতিক মামলা দায়ের হয়।
বর্তমানে জামালপুর জেলা বিএনপির সন্মানিত সদস্য এবং বকশিগঞ্জ পৌর বিএনপি’র যুগ্ম -আহবায়ক হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন।
আব্দুল্লাহ আল শাফি লিপন বলেন, সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাত্রজীবন থেকেই ছিল। জনপ্রতিনিধি হিসাবে সত্য ও ন্যায়ের পথে রাজনীতি এবং যোগ্য নেতৃত্বের ভূমিকা রেখে কাজের মধ্য দিয়ে মানুষের অন্তরে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চান। রাজনৈতিক জীবনে অনেক হামলা মামলা নির্যাতনের শিকার হন। এ পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে ১৬টি রাজনৈতিক মামলা দায়ের হয়। তিনি বলেন, যা বকশিগঞ্জ বিএনপির রাজনৈতিক কোনো নেতার বিরুদ্ধে এতো মামলা হয়নি।
বিএনপি’র চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উপদেষ্টা সাবেক আইজিপি আব্দুল কাইয়ুম ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র জাতীয় নির্বাহী কমিটির কোষাধ্যক্ষ জামালপুর-১(দেওয়ানগঞ্জ-বকশিগঞ্জ) আসনের সাবেক এমপি উন্নয়নের রুপকার এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত এ দুজনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে লিপন আরো বলেন, পতিত শেখ হাসিনা সরকারের আমলে জেল, জুলুম, নির্যাতন, অত্যাচার সহ্যকরে দলের প্রতি অনুগত থেকে বিএনপি রাজনীতি করেছেন সেইসব নেতাকর্মীদের সঠিক মুল্যায়ন করে উপজেলা বিএনপি এবং পৌর-বিএনপির কমিটিতে রেখে দলের জন্য কাজ করার সুযোগ করে দিবেন এ আশা ব্যক্ত করেন। তিনি বাকি জীবন রাজনীতির পাশাপাশি সামাজিক জীবনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে স্থানীয় এবং দেশের উন্নয়নে কাজ করার সুযোগ চান ।
