আলোচিতউপজেলার সংবাদমেলান্দহ

জামালপুরে চাঁদাবাজির অভিযোগে এক যুবক গ্রেপ্তার

কাফি পারভেজ, স্টাফ রিপোর্টার:

জামালপুরের মেলান্দহে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের কর্মকর্তা পরিচয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগে জামায়াত নেতার ভাতিজা সাজ্জাদ হোসেন সাকিবকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলার নাংলা ইউনিয়নের হরিপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আটককৃত সাজ্জাদ হোসেন সাকিব জামায়াতের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবং জামালপুরের ইসলামপুর-২ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী সামিউল হক ফারুকীর ভাতিজা বলে দাবি করা হলেও জেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এজাহার সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার হরিপুর এলাকায় মাটি উত্তোলন করে বিক্রি করছিলেন রেজাউল করিমসহ কয়েকজন মাটি ব্যবসায়ী। কিছুদিন আগে মনির হোসেন জুয়েল (৩৫) মাটি উত্তোলন করতে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) অফিসে টাকা দিতে হবে বলে ব্যবসায়ীদের জানায়। এরপর প্রতি সপ্তাহে ডিসি অফিস ও এসপি অফিসে ৩৩ হাজার টাকা দেয়ার চুক্তি হয় মাটি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে। এর আগে ডিসি অফিসের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে তারা মো. রেজাউল করিমের কাছ থেকে সাড়ে চার হাজার টাকা নেয়।

সোমবার বিকালে সাজ্জাদ হোসেন সাকিব ও মনির হোসেন জুয়েল চুক্তির টাকা নিতে গেলে মাটি ব্যবসায়ীদের সন্দেহ হয়। একপর্যায়ে ওই এলাকার লোকজন তাদের দুজনকে ঘেরাও করে রাখে। এ সময় মনির হোসেন জুয়েল কৌশলে পালিয়ে যান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে সাজ্জাদ হোসেন সাকিবকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

জামায়াতের প্রেস ও মিডিয়া সেক্রেটারি জাকিউল ইসলাম ও জেলা ছাত্র শিবিরের সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, সাজ্জাদ হোসেন সাকিব নামে আমাদের কোনো সদস্য বা কর্মী নেই। তার সঙ্গে ইসলামী ছাত্রশিবিরেরও কোনো সম্পর্ক নেই।

জামায়াত নেতা ড. সামিউল হক ফারুকীকে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।

মো. রেজাউল করিম জানান, জামায়াত নেতার ভাতিজা প্রশাসনের কর্মকর্তা পরিচয়ে সাজ্জাদ হোসেন সাকিব ও তার সহযোগী মো. মনির হোসেন জুয়েল চাঁদার জন্য চাপ দিয়ে আসছিলেন। একপর্যায়ে তারা এক লাখ টাকা দাবি করে এবং প্রতি সপ্তাহে টাকা দিতে চাপ দেয়। সোমবার টাকা নিতে আসলে আমাদের সন্দেহ হলে গ্রামের লোকজন তাদের আটক করে পুলিশে খবর দেয়।

মেলান্দহ থানার ওসি মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, মামলাটি তদন্ত করা হচ্ছে। গ্রেপ্তারকৃত সাজ্জাদ হোসেন সাকিবকে মঙ্গলবার জামালপুর আদালতে প্ররেণ করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের অভিযান চলমান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *