আলোচিতউপজেলার সংবাদজামালপুরবকশীগঞ্জ

‘জুলাই বিপ্লব’-এ নিহত বকশিগঞ্জে রিপনের লাশ উত্তোলনে বাধা

কাফি পারভেজ, স্টাফ রিপোর্টার:

রাজধানী ঢাকার উত্তরায় ‘জুলাই বিপ্লব’-এ নিহত জামালপুরের বকশিগঞ্জ উপজেলার রিপন মিয়ার লাশ উত্তোলনে বাধা দিয়েছে পরিবার।
নিহতের পরিবারের অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে ফেরত যেতে হয়েছে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে।

মঙ্গলবার বিকালে উপজেলার বাট্টাজোড় ইউনিয়নের পানাতিয়া গ্রামে আদালতের নির্দেশে লাশ তুলতে গেলে রিপনের বড় ভাই মামলার বাদী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসমা উল হুসনাকে বাধা দেন।

মামলার বাদী সরকার আকতার হোসেনের দাবি, তাকে কোনোভাবে আগাম জানানো হয়নি, যা তাকে বিস্মিত করেছে। ফলে শেষ পর্যন্ত আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও লাশ উত্তোলন না করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ সদস্যরা।

পানাতিয়া গ্রামের রেজাউল করিমের ছেলে রিপন মিয়া ঢাকায় বেসরকারি একটি কোম্পানিতে বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতেন। গত বছরের ৫ অগাস্টে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর উত্তরায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান তিনি।

এ ঘটনায় উত্তরা পূর্ব থানায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রধান আসামি করে মামলা দায়ের করেন রিপনের বড় ভাই সরকার আকতার হোসেন।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসমা উল হুসনা বলেন, সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আদালতের নির্দেশে আমরা রিপন মিয়ার লাশ উত্তোলন করতে যাই। কিন্তু রিপনের বড় ভাই ও মামলার বাদী সরকার আকতার হোসেন এতে বাধা প্রধান করেন। এ বিষয়ে আদালতের পরবর্তী নির্দেশের পর কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।”

এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই খাইরুল ইসলাম বলেন, জুলাই বিপ্লবে নিহতের পর রিপনকে ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফন করা হয়। তাই আদালতে লাশ উত্তোলনের আবেদন করা হলে ২৯ জানুয়ারি ঢাকা মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট রিপনের লাশ উত্তোলনের নির্দেশ দেন। এই পরিপ্রেক্ষিতে আমরা লাশ উত্তোলন করতে আসি।

মামলার বাদী ও রিপনের বড় ভাই সরকার আকতার হোসেন বলেন, রিপন গুলি খেয়ে মারা গেছে এটা প্রমাণ আছে। লাশ উত্তোলনের ব্যাপারে আমাকে আগে কিছুই বলা হয়নি। তাই বাধা দেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজধানীর উত্তরায় ‘জুলাই বিপ্লব’ চলাকালে পুলিশের গুলিতে নিহত হন জামালপুরের বকশিগঞ্জ উপজেলার চরকাউরিয়া সীমারপাড় গ্রামের রেজাউল করিমের ছেলে রিপন মিয়া। এ ঘটনায় তার বড় ভাই সরকার আকতার হোসেন উত্তরা পূর্ব থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন, যাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রধান আসামি করা হয়। মামলাটি এখনও বিচারাধীন রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *