ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন জামালপুর জেলার পাঁচটি আসনে ৪৬ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র দাখিল

কাফি পারভেজ, স্টাফ রিপোর্টার:
আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এমপি পদপ্রার্থীদের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ছিল সোমবার। জামালপুর জেলার পাঁচটি আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলীয় ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে ৪৬ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এদিন সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে প্রার্থীরা তাদের মনোনয়নপত্র জমা দেন।

জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জামালপুরে-১ ( দেওয়ানগঞ্জ –বকশিগঞ্জ) আসনে মোট ৪ জন প্রার্থী মনোনয়ন পত্র জমা দেন। প্রার্থীরা হলেন- বিএনপি মনোনীত এমপি প্রার্থী কেন্দ্রীয় বিএনপির কোষাধ্যক্ষ সাবেক এমপি এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য ও সাবেক জেলা আমীর নাজমুল হক সাঈদী, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আব্দুর রউফ তালুকদার ও জাতীয় পার্টির (জি এম কাদের) এ কে এম ফজলুল হক।

জামালপুরে-২ ( ইসলামপুর) আসনে মোট ৯ জন প্রার্থী মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন। প্রার্থী হলেন- বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সুলতান মাহমুদ বাবু, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সেক্রেটারি ড. ছামিউল হক ফারুকী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের ছোট ভাই মনোনয়ন বঞ্চিত শরিফুল ইসলাম খান,ইসলামী আন্দেলন বাংলাদেশের সুলতান মাহমুদ সিরাজী, জাতীয় পার্টি মোস্তফা আল মাহমুদ,জাতীয় পার্টির (জিএম কাদের) আনোয়ার হোসেন,স্বতন্ত্র প্রার্থী অর্নব ওয়ারেছ খান, শওকত হাসান মিয়া ও মীর শরিফ হাসান লেনিন।


জামালপুরে-৩ ( মেলান্দহ –মাদারগঞ্জ) আসনে মোট ১১ জন প্রার্থী মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন। প্রার্থীরা হলেন- বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, জামায়াতে ইসলামীর মো. মজিবুর রহমান আজাদী, গণ অধিকার পরিষদের মনোনীত প্রার্থী মো. লিটন মিয়া, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোহাম্মদ দৌলতুজ্জামান আনছারী, জাতীয় পার্টির (জিএম কাদের) মীর শামসুল আলম, স্বতন্ত্র প্রার্থী শিবলুল বারী রাজু, এস. এম শাহিনুর রহমান, ফারজানা ফরিদ, মো. সাদিকুর রহমান সিদ্দিকী শুভ, ফিদেল নাঈম, রুবেল মিয়া।

জামালপুরে-৪ ( সরিষাবাড়ি) আসনে মোট ১০ জন প্রার্থী মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন। প্রার্থী হলেন- বিএনপির মনোনীত এমপি প্রার্থী মো. ফরিদুল কবীর তালুকদার শামীম, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’র প্রার্থী জেলা সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আব্দুল আওয়াল, নাগরিক ঐক্য’র মো. কবির হাসান, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি’র (সিপিবি)মো. মাহবুব জামান জুয়েল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ’র মোহাম্মদ আলী আকবর সিদ্দিকী, জাতীয় পার্টির (জিএম কাদের) মো. আবুল কালাম আজাদ, গণঅধিকার পরিষদের মো. ইকবাল হোসেন, জাতীয় পার্টির (আনিসুল) মো. মামুনুর রশীদ, স্বতন্ত্র প্রার্থী মেহেরজান আরা তালুকদার
জামালপুরে-৫ ( সদর) আসনে মোট ১২ জন প্রার্থী মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন।। প্রার্থীরা হলেন-বিএনপির প্রার্থী জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য ও জেলা আমীর মুহাম্মদ আব্দুস সাত্তার, বাংলাদেশ কংগ্রেসের আবু সায়েম মোহাম্মদ সা-আদাত উল করীম, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডির)মো. আমির উদ্দিন, গণ অধিকার পরিষদের জাকির হোসেন, কমিউনিস্ট পার্টির শেখ মো. আক্কাস আলী, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশে সৈয়দ ইউনুস আহমেদ, জাতীয় পার্টির (মনজু) মো. বাবর আলী খাঁন, জাতীয় পার্টির (জিএম কাদের) মো. জাকির হোসেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী মাসুদ ইব্রাহিম ও হোসনেয়ারা বেগম।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, জেলার পাঁচটি আসনে মোট ৫৮টি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হলেও জমা পড়েছে ৪৬টি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে জামালপুর-৫ আসনে এবং সবচেয়ে কম জমা পড়েছে জামালপুর-১ আসনে।
জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. ইউসুপ আলী জানান, সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনে মোট ৪৬টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে। প্রার্থীরা সবাই নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি ও শান্তিশৃংখলা মেনেই আনন্দের সাথে এসেছেন এবং জমা দিয়েছেন। আগামী ৩ ও ৪ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে।
উল্লেখ্য, সংশোধিত তফসিলের নির্বাচন সময় সূচি অনুযায়ী, সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল ২৯ ডিসেম্বর। মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ৩০ ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত। রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল দায়েরের সময় ৫ জানুয়ারি থেকে ৯ জানুয়ারি। আপিল নিষ্পত্তি হবে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি। রিটার্নিং কর্মকর্তা চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে প্রতীক বরাদ্দ করবেন ২১ জানুয়ারি। নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি। প্রচার চালানো যাবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত। আর ভোট গ্রহণ করা হবে ১২ ফেব্রুয়ারি।
