জামালপুরে ১৫ কেজি গাঁজাসহ ৪ মাদক কারবারি গ্রেফতার, প্রাইভেটকার জব্দ

মোঃ রুহুল আমিন রাজু,মেলান্দহ (জামালপুর) প্রতিনিধি :
জামালপুর জেলাকে মাদকমুক্ত রাখতে জেলা পুলিশের চলমান বিশেষ অভিযানে ১৫ কেজি গাঁজাসহ চার মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেটকারও জব্দ করা হয়।
জামালপুর জেলা পুলিশের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পুলিশ সুপার মোছাঃ ফারহানা ইয়াসমিন-এর সার্বিক দিকনির্দেশনায় পরিচালিত অভিযানে গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিকেল আনুমানিক ৫টা ১০ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়।
সংবাদে জানা যায়, শেরপুর জেলা থেকে একটি প্রাইভেটকারে বিপুল পরিমাণ গাঁজা নিয়ে জামালপুর শহরের দিকে আসছে একটি সংঘবদ্ধ মাদক চক্র। তথ্য পাওয়ার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় জামালপুর সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) এস. এম. নুরমোহাম্মদ-এর নেতৃত্বে জামালপুর পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর কুটুরিয়া এলাকায় শেরপুর ব্রিজের দক্ষিণ পাশে জামালপুর-শেরপুর মহাসড়কে বিশেষ চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়।
চেকপোস্টে একটি সাদা রঙের টয়োটা প্রবোক্স প্রাইভেটকার (রেজি. নং- ঢাকা মেট্রো-গ-২৭-৯৯০১) থামানোর সংকেত দিলে গাড়িতে থাকা ব্যক্তিরা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তবে পুলিশের তাৎক্ষণিক তৎপরতায় তাদের আটক করা হয়।
পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে গাড়িটি তল্লাশি করে গ্যাস সিলিন্ডারের নিচে বিশেষভাবে তৈরি স্টিলের বক্স থেকে খাকি কস্টেপে মোড়ানো ৬টি প্যাকেটে মোট ১৫ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত গাঁজার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩ লাখ টাকা। একই সঙ্গে মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত প্রাইভেটকারটি জব্দ করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন— ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলার বড়টোডা বিশনাউড়ি এলাকার আক্তার হোসেন (৪৫), শেরপুর জেলার শ্রীবরদী উপজেলার কুরুয়া ভাটিপাড়া এলাকার মিন মোক্তার ওরফে মনির হোসেন (৪৬), একই এলাকার মো. বিল্লাল হোসেন (৫৫) এবং কুরুয়া দক্ষিণপাড়া এলাকার গাড়িচালক সাগর (৩০)।
এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) এর ১৯(খ) ধারায় জামালপুর সদর থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া মাদকের উৎস, সরবরাহকারী চক্র এবং এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
এ বিষয়ে জামালপুরের পুলিশ সুপার মোছাঃ ফারহানা ইয়াসমিন বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে জামালপুর জেলা পুলিশের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। মাদক কারবারি ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা নজরদারি এবং বিশেষ অভিযান ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে। সমাজকে মাদকের অভিশাপ থেকে রক্ষা করতে জেলা পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। যে-ই মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকুক না কেন, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। একই সঙ্গে মাদকের উৎস ও নেটওয়ার্ক চিহ্নিত করে পুরো চক্রকে বিচারের আওতায় আনতে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
