আলোচিতজামালপুরসদর

জামালপুরে টমেটোর বাম্পার ফলনে খুশি কৃষকরা

কাফি পারভেজ, জামালপুর প্রতিনিধি:

জামালপুর সদর উপজেলার চরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় এ বছর টমেটোর চাষ হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর বাম্পার ফলনের পাশাপাশি দামও দ্বিগুণ পেয়ে খুশি কৃষকরা। কৃষি অফিস বলছে, দেশের টমেটো চাহিদা পূরণে দিন দিন টমেটো চাষে এ অঞ্চলের কৃষকরা ফলন ভালো এবং দাম দ্বিগুণ পাওয়া চাষিদের আগ্রহ বাড়ছে।

জানা যায়, এ বছর জামালপুর সদর উপজেলার চরাঞ্চল শরিফপুর, তুলশীচর, বারুয়ামারি, টিকরাকান্দি, নরুন্দি ও নান্দিনায় এক হাজার ৩৩০ হেক্টর জমিতে টমেটোর চাষ হয়েছে। গত বছরের ক্ষতি পুষিয়ে লাভের মুখ দেখছেন জামালপুরের চরাঞ্চলের টমেটো চাষিরা। এ বছর শুরু থেকেই টমেটোর বাম্পার ফলনের পাশাপাশি দামও দ্বিগুণ পেয়ে খুশি কৃষকরা। প্রথম দিকে প্রতি মণ টমেটো বিক্রি হয়েছে ১৭০০ থেকে ১৮০০ টাকায়। তবে বর্তমান বাজার দর ১১০০ থেকে ১২০০ টাকা হলেও তা গত বছরের চেয়ে দ্বিগুণ।

সদর উপজেলার লক্ষ্মীরচর ইউনিয়নের চরযথার্থপুর গ্রামের কৃষক মুক্তার আলী জানান, গত বছর টমেটো চাষ করে তারা লোকসানে পড়েছিলেন। এ বছর সেই ক্ষতি পুষিয়ে লাভের মুখ দেখছেন। শুরুতেই প্রতি মণ টমেটো বিক্রি করেছেন ১ হাজার ৭০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকায়।

তিনি আরও জানান, প্রতি বিঘা জমিতে টমেটো আবাদে তাদের খরচ হয়েছে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা। সেখানে বিক্রি করেছেন ২ থেকে ৩ লাখ টাকায়। ফলে গত বছরের ক্ষতি পুষিয়ে লাভের মুখ দেখছেন তারা।

একই গ্রামের টমেটো চাষি শাকিল মিয়া বলেন, এ বছর চরাঞ্চলে বারী, বিউটিফুল, বিউটিফুল-২, বিউটিফুল-৩, এবং বিউটিফুল প্লাস জাতের টমেটো চাষ হয়েছে। ফলে সুস্বাদু ও বড় আকারের টমেটো পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে বাজারে চাহিদা থাকায় প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকাররা এসে টমেটো কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।’

সারা দেশে এ টমেটোর চাহিদা থাকায় রাজধানী ঢাকার কাওরান বাজার, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও রংপুরসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে পাইকাররা এ অঞ্চলের টমেটো নিয়ে যাচ্ছচ্ছেন।

পাইকাররা জানান, প্রতি বছর এ অঞ্চলের টমেটো কিনে নিয়ে যান তারা। এখানকার টমেটো যেমন সুস্বাদু তেমনি রং ও সাইজ। তাই দেশের অন্য জেলার চেয়ে এ অঞ্চলের টমেটো নিতে ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি।

জামালপুর সদর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা দিলরুবা ইয়াছমিন বলেন, এ বছর জনপ্রিয় সব জাতের টমেটো আবাদ করা হয়েছে। দিন দিন কৃষকদের টমেটো আবাদে আগ্রহ বাড়ছে। কারণ তারা বাজারে আশানুরূপ দাম পাচ্ছে। শীতে টমেটোর যাতে কোনো সমস্যা না হয় সে জন্য মাঠ পর্যায়ে উপকৃষি কর্মকর্তারা যাচ্ছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *