উপজেলার সংবাদজামালপুরমেলান্দহ

মেলান্দহ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হাজী দিদার পাশা জনপ্রিয়তার শীর্ষে

মোঃ রুহুল আমিন রাজু নিজস্ব প্রতিবেদকঃ জাতীয় নির্বাচনের পর আসন্ন ৬ষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতিমধ্যে জল্পনা কল্পনা শুরু হয়েছে। তেমনি জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে কারা প্রার্থী হতে যাচ্ছে এ নিয়ে চলছে আলাপ আলোচনা। মেলান্দহ উপজেলারব এগারোটি ইউনিয়ন ও দুইটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত হয়েছে এই উপজেলা। মেলান্দহ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে রয়েছেন একাধিক প্রার্থী কে চেয়ারম্যান হয়ে আসবেন সেই ভাবনা সাধারণ মানুষের মনে। আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আলোচনায় জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও মেলান্দহ পৌরসভার সাবেক দুই বারের সফল মেয়র হাজী দিদার পাশা।

তিনি মেলান্দহ উপজেলার মেলান্দহ পৌর এলাকায় ১৯৬১ইং সালে সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মৃত নূরল ইসলাম ছিলেন মেলান্দহ উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রথম প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর (মেলান্দহ-মাদারঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য।

শুধু তাই নয়, হাজী দিদার পাশার বড় ভাই রীর মুক্তিযোদ্ধা এড. ইসমত পাশা সাবেক মেলান্দহ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। ইতিপূর্বে
তিনি জেলা বার কাউন্সিলের পর পর দুই বারের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। আরেক বড় ভাই রীর মুক্তিযোদ্ধা কিসমত পাশা সাবেক মেলান্দহ উপজেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি, নাংলা ইউনিয়নের ৪ বারের চেয়ারম্যান এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপিতর দায়িত্ব পালন করছেন।
তার মামা মরহুম আঃ হাই বাচ্চু মিয়া ৩৪ বছর মেলান্দহ নাংলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন এবং পাকিস্তান আমলে এমএলএ এবং ৯০ দশকে তিনি মেলান্দহ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন।

রাজনৈতিক পরিবারে বেড়ে উঠা হাজী দিদার পাশার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক পরিচয় ১৯৭৭ সালে জামালপুর মহকুমা শাখা ছাত্রলীগের সদস্য থেকে রাজনীতি শুরু হয়। ১৯৭৮-৭৯ বাংলাদেশ ছাত্র সংসদ সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের ক্রীড়া সম্পাদক, ১৯৭৯-৮০ সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ ছাত্র সংসদের এজিএস, ১৯৮৫-৮৬ চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, ১৯৯৫-৯৭ জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক, ১৯৯৮-২০০১ জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক, ২০০৫-২০১৬ সাল পর্যন্ত মেলান্দহ পৌরসভার মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি বর্তমানে জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতির হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আসন্ন মেলান্দহ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে প্রচার প্রচারনা শুরু করে জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছেন।

হাজী দিদার পাশা বলেন, আমার বাবা সংসদ সদস্য হয়ে মানুষের জন্য কাজ করেছেন। মামা উপজেলা চেয়ারম্যান হয়ে মেলান্দহবাসীর সেবা করেছেন। আমি নিজেও জনপ্রতিনিধি হয়ে মেলান্দহ পৌর বাসীর সেবাই নিয়োজিত ছিলাম। আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছি মেলান্দহ উপজেলাবাসীর সেবা করার জন্য। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনী থেকেই শিক্ষা নিয়েছিলাম রাজনীতি করতে হলে সাধারণ মানুষ ও সুবিধা বঞ্চিত মানুষের সংস্পর্শে থেকেই রাজনীতি করতে হবে। রাজনীতি ও জন প্রতিনিধি একে অন্যের পরিপূরক।

তিনি আরও বলেন, আমি মেলান্দহ উপজেলাবাসীর কল্যাণে নিজেকে জনতার কাছে সমর্পণ করতে চাই। এ উপজেলাকে আধুনিক হিসেবে রূপান্তরিত করতে চাই। সামাজিক অবক্ষয় দূর করতে চাই। মাদক দূরে ঠেলে দিয়ে যুবকদের বিনোদনে উৎসাহিত করতে চাই। এ জন্য চাই দলমত নির্বিশেষে সকলের দোয়া ও ভালবাসা।

উল্লেখ্য, তিনি স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রতিনিধিত্ব করাসহ করোনা মহামারির সময়ে রেখেছেন অগ্রণী ভূমিকা। এতে করে তাঁর সুনাম আরো ছড়িয়ে পড়ে।

আগামী মে মাসে ৪ ধাপে ৪৮১ টি উপজেলা পরিষদের নির্বাচন করবে ইসি। ৩য় ধাপে মেলান্দহ উপজেলা পরিষদের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এই বিষয়ে হাজী দিদার পাশা এই প্রতিবেদক জানান, আসন্ন ৬ষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জনগণ আমাকে বিপুল ভোটের নির্বাচিত করবে বলে আমি আশাবাদী। আমি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে দেশ দশের খেদমত করবো ইনশাআল্লাহ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *