সরিষাবাড়ির সিয়াম পায়ে লিখে এসএসসিতে জিপিএ ৩.৮৩ পেল
কাফি পারভেজ, জামালপুর প্রতিনিধি:
অদম্য ইচ্ছে শক্তিতে অসম্ভবকে সম্ভব করলো জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার ডোয়াইল ইউনিয়নের উদনাপাড়া গ্রামের দিনমজুরের ছেলে মো. সিয়াম শেখ। জন্ম থেকেই তার দুই হাত নেই। কিন্তু পড়ালেখা থেমে থাকেনি সিয়ামের। একে একে শিক্ষার সব ধাপ পেরিয়ে পা দিয়ে লিখেই সে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৩.৮৩ অর্জন করেছে। তার এ ফলাফলের জন্য বাবা-মা’সহ শিক্ষকরাও খুশি।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সরিষাবাড়ী উপজেলার ডোয়াইল ইউনিয়নের উদনাপাড়া গ্রামের দিনমজুর দম্পতি জিন্না মিয়া ও জোসনা বেগমের ছোট ছেলে মো. সিয়াম শেখ। সে উপজেলার চাপারকোনা মহেশ চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। জন্ম থেকেই তার দুটি হাত নেই। এর পরেও থেমে ছিল না তার পড়ালেখা ও খেলাধুলা। তবে পরিবারের অর্থনৈতিক সংকটের কারণে প্রাথমিকের মাঝ পথে বন্ধ হয়ে যায় তার পড়ালেখা। বিদ্যালয় থেকে বেতন মওকুফ করলে পুনরায় পড়ালেখা শুরু করে সিয়াম। ২০১৮ সালে ব্র্যাক শিশু নিকেতন স্কুল থেকে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে একই ইউনিয়নের চাপারকোনা উচ্চ বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হয় সে। সে এবার ডোয়াইল ইউনিয়নের চাপারকোনা মহেশ চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে দুটি হাত না থাকলেও অন্যের সাহায্য ছাড়াই পা দিয়ে লিখে পরীক্ষায় কৃতিত্বের সাথে পাশ করেছে। তার এ সফলতায় দারুণ খুশি স্কুলের শিক্ষক, প্রতিবেশী এবং পরিবার। মনে বিন্দুমাত্র কোনও হতাশা নেই সিয়ামের।
সিয়াম জানায়, জন্ম থেকেই দুই হাত নেই। পা দিয়ে লিখতে লিখতে তার অভ্যাস হয়ে গেছে। পা দিয়ে লিখেই প্রাথমিক ও জেএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিল। এবারো এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। পড়ালেখা চালিয়ে যাবার ইচ্ছে। লেখাপড়া শেষ করে সরকারি চাকরি করতে চায় সিয়াম। তার মা বাবার মুখে হাসি ফোটাতে এবং দেশের মানুষের জন্য সেবা করতে চায়।
সিয়ামের বাবা জিন্না মিয়া বলেন, আমার ছেলের দুই হাত নেই। তারপরও সে পড়ালেখা বন্ধ করেনি। আল্লাহর রহমতে আমার ছেলে এসএসসি পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করেছে। আমি আল্লাহর দরবারে লাখো কোটি শুকরিয়া জানাই। লেখাপড়া করতে চায় ছেলে। তবে অভাবের সংসারে সামনের দিনগুলোতে ছেলেকে কিভাবে কলেজে পড়াশোনা করাবে সেই চিন্তায় খুশিও ম্লান হয়ে গেছে তাদের। সমাজের বিত্তশালীদের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
চাপারকোনা মহেশ চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি আলীমুর রাজি শিবলু বলেন, সব সময় পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করতো সিয়াম। এবার পা দিয়ে লিখে এসএসসি পরীক্ষায় কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হয়েছে। একাদশ শ্রেণিতে এই কলেজে যদি সে ভর্তি হয় তাহলে কলেজের সকল বেতন মওকুফ করে দেওয়াসহ তাকে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।
