আলোচিতউপজেলার সংবাদজামালপুরসদর

জামালপুরে ডাম্পিং স্টেশন বন্ধ করে গড়ে তোলা হয়েছে ভিআইপি বিনোদন ক্লাব

কাফি পারভেজ, স্টাফ রিপোর্টার:

জামালপুর শহরের পলাশগড় এলাকায় ৪.৫ একর জমির উপর ছিল পৌরসভার একমাত্র ভাগাড় বা ডাম্পিং স্টেশন। ২০২১ সালে পুরো ডাম্পিং স্টেশন বন্ধ করে গড়ে তোলা হয় একটি ভিআইপি বিনোদন রিক্রিয়েশন ক্লাব। ওই জমি নামমাত্র মূল্যে ২০ বছরের জন্য ইজারা দেয়া হয় রিক্রিয়েশন ক্লাবকে। এছাড়াও পৌরসভার আট শহর প্রকল্পের আওতায় প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা ব্যয়ে ক্লাবটির জন্য নির্মাণ করা হয় সীমানা প্রাচীর, রাস্তা ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা। গড়ে তোলা হয়েছে ১০তলা ইমারত।

সুষ্ঠ বিনোদন, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি চর্চার নামে গড়ে তোলা রিক্রিয়েশন ক্লাবটি আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসে। এখানে সদস্য সংখ্যা ৪৬৯ জন। রিক্রিয়েশন ক্লাবের সদস্য হওয়ার জন্য গুনতে হতো ৫ লাখ টাকা। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এ দলের প্রভাবশালী অনেক নেতাকর্মীও ৫ লাখ টাকা করে দিয়ে সদস্য পদ নেন।

ক্লাবের উন্নয়ন কাজের জন্য জামালপুর পৌরসভা কর্তৃক কোটি টাকার প্রকল্প দেন। এমনকি জেলা পরিষদও কোটি টাকার অর্থায়নে ক্লাবের মূল গেট করে দেয়। একটি বেসরকারি ক্লাবের জন্য পৌরসভার এতো ব্যয় অযৌক্তিক ও বিধি পরিপন্থি বলে মনে করছেন অনেকেই। গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর ক্লাবটি জ্বালিয়ে দেন বিক্ষুব্ধ জনতা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ক্লাবটিতে চলতো অনৈতিক কাজ। আর ক্লাব নির্মাণের ফলে বন্ধ করে দেয়া হয় ৬টি গ্রামের ২০ হাজার মানুষের চলাচলের রাস্তা। এছাড়া দখল করা হয় কয়েকজনের জমি। এর প্রতিবাদ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন অনেকে।

এ এলাকার অনেকেই বলেন, এ রাস্তা দিয়ে পলাশগড় গ্রামসহ ৮টি গ্রামের মানুষ চলাচল করতো। রিক্রেয়েশন ক্লাব করার সময় সেই রাস্তা প্রাচীর দিয়ে বন্ধ করে দিয়েছে। এলাকার ২০ থেকে ২৫ হাজার মানুষ প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করতো। কৃষকরা ফসল নিয়ে যেতো। ছেলেমেয়েরা স্কুল-কলেজে যাতায়াত করতো। এখন ২ থেকে ৩ ঘণ্টার রাস্তা পেরিয়ে যেতে হচ্ছে। এলাকাবাসী চলাচলের রাস্তাটি খুলে দেয়ার দাবি করছে সরকারের কাছে।

জামালপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র অ্যাডভোকেট শাহ্ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন বলেন, এ ক্লাবটির সঙ্গে পৌরসভার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। যেখানে পৌরসভার স্বার্থ সংশ্লিষ্টতা নেই। ব্যক্তিগত কিছু মানুষের স্বার্থে যারা ক্লাবের কার্যকরী কমিটি গঠন করেছে তারা শহরের অত্যন্ত প্রভাবশালী। তাদের স্বার্থেই এ ক্লাব করা হয়েছে। এর সঙ্গে পৌরসভার জনগণের কোনো স্বার্থ নেই। কাজেই পৌরসভা এ জায়গা এভাবে দিতে পারে না।

জামালপুর পৌরসভার প্রশাসক শীতেশ চন্দ্র সরকার বলেন, এ সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ পেলে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরে এনে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *