উপজেলার সংবাদমেলান্দহ

আসামি আইনজীবী জাকিরের জামিন নাকচ করায় আদালতে হট্টগোল

কাফি পারভেজ, স্টাফ রিপোর্টার:

জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার নাংলা গ্রামে জমি দখল করতে গিয়ে মারমারি মামলার প্রধান আসামি আইনজীবী শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেনকে কারাগারে প্রেরণের ঘটনায় জামালপুরের চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হট্টগোল হয়েছে। বুধবার বেলা ৩টা থেকে সাড়ে ৩টা পর্যন্ত জামালপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণে তাঁর মুক্তির দাবিতে শতাধিক নারী-পুরুষ স্লোগান দেন। এ সময় পুলিশের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কিতে একজন নারীসহ কয়েকজন আহত হন। চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রুমানা আক্তার আসামিকে কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেওয়ার পর ওই ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আইনজীবী শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে মেলান্দহ উপজেলার নাংলা গ্রামে বাড়িঘর ভাঙচুরের অভিযোগে মামলা হয়। আদালতে জামিন আবেদন করলে বিচারক তা নাকচ করে ১৫ জানুয়ারি বিকালে মামলাটির আসামি আইনজীবী শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। নির্দেশ দেওয়ার পর খবর পেয়ে আসামি পক্ষের স্বজন ও এলাকাবাসী আদালত প্রাঙ্গণে তার মুক্তির দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। এসময় হট্টগোল ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে কর্তব্যরত পুলিশের সাথে তাদের কথা কাটাকাটি ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আদালতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পরে পুলিশ আদালত থেকে সবাইকে বাইরে বের করে দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। পরিস্থিতি শান্ত হলে কোর্ট পুলিশ আসামি শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেনকে কারাগারে পাঠান।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার মুন্সি নাংলা গ্রামের চায়না বেগম জমি দখল ও মারধরের ঘটনায় বাদী হয়ে আইনজীবী শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেনকে প্রধান আসামি করে গত বছরের ৭ ডিসেম্বর একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় তিনি এতদিন জামিনে ছিলেন।

আহতদের মধ্যে জাকির হোসেনের ভাতিজি জান্নাতুল হুমাইরা জেমি বলেন, আমি গ্রামের লোকজনকে বাইরে বসিয়ে ভেতরে প্রবেশ করতে গেলে পুলিশ মারধর শুরু করে। তারা আমাদের গ্রামের নিরীহ এলাকাবাসীকেও মারধর করেছে।’

কোর্ট ইন্সপেক্টর আবুল হোসেন বলেন, অন্তর্বর্তী জামিন বাতিল করে আসামি আইনজীবী শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। বিষয়টি জানার পর তার লোকজন আদালত প্রাঙ্গণে বিশৃঙ্খলার চেষ্টা করেন। এখানে মারামারির মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। এ সময় পুলিশের সাথে তাদের কথা কাটাকাটি ও ধস্তাধস্তি হয়। পরে তাদের সরিয়ে দিয়ে আসামিকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *