উপজেলার সংবাদমেলান্দহ

মেলান্দহে বিএনপি’র দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন সম্পন্ন বাবুল সভাপতি মঞ্জুরুল সাধারণ সম্পাদক

কাফি পারভেজ, স্টাফ রিপোর্টার:

দীর্ঘ ১০ বছর পর ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনায় জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলা বিএনপির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার বিকেলে মেলান্দহের উমির উদ্দিন পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে তৃণমূলের কয়েক হাজার নেতাকর্মী অংশগ্রহন করেন।

বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ সম্পাদক মেলান্দহ উপজেলা বিএনপি’র আহবায়ক মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের সভাপতিত্বে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন, জেলা বিএনপি’র সভাপতি ফরিদুল কবির তালুকদার শামীম। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপি’র জাতীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল।

মেলান্দহ উপজেলা বিএনপি’র আহবায়ক মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের সভাপতিত্বে এবং উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব নূরুল আলম সিদ্দিকীর সঞ্চালনায় সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন, কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শরিফুল আলম, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন, আবু ওয়াহাব আকন্দসহ কেন্দ্রীয়, জেলা ও উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দরা।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল বলেছেন, ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ইতিহাসেই ঘটায়। এতদিন মিথ্যা মামলায় সাজা দেওয়া হয়েছে। এখন এদেশে সত্যি মামলা হবে। প্রয়োজন হলে শেখ হাসিনাকে গলায় রশি পেচিয়ে বাংলাদেশে আনা হবে। ভারত রক্ষা করতে চাইলে তাদের বুকের ভেতর থেকে শেখ হাসিনাকে তুলে আনা হবে।

হাবিব–উন–নবী খান বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে সংস্কার সম্পন্ন করে নির্বাচন দেয়ার দাবি জানাচ্ছি। আমরা কেন ভোট চাই, আমরা কেন নির্বাচন চাই। আরে আমরা তো রাজনৈতিক দল, একজন কৃষক তাঁর উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য চাবেন, একজন ব্যবসায়ী তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা চাবেন, নারীরা তাঁদের অধিকার সমন্বিত থাকুক, সেটাই চাবেন আর একজন রাজনৈতিক ব্যক্তি কী চাইবেন, জনগণের জন্য যাতে কাজ করার সুযোগ পাই এবং একটি পরিচ্ছন্ন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন যেন হয়। রাজনৈতিক দল নির্বাচন চাবে, এটা অন্যায় হতে পারে না।

তিনি আরো বলেন, নির্বাচনের দাবি করায় অনেকে বিএনপির কথা পছন্দ করছে না। রাজনৈতিক দল জনগনের সেবা করার জন্য নির্বাচন চাই। শেখ হাসিনার মতো বর্তমানে অনেকেই নির্বাচন দিতে চাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন তিনি।

জামায়াতে ইসলামীকে ইঙ্গিত করে হাবিব উন নবী খান সোহেল বলেন, ভুল জীবনে বহু করেছেন। ১৯৭১–এর ভুলের কথা না বা বললাম, ১৯৮৬ সালেও আপনারা হাসিনা-এরশাদের সঙ্গে পাতানো নির্বাচনে গিয়েছিলেন। বিএনপির সাথে থাকলে ১৭-১৮টি আসন পাবেন। আর বিএনপির সাথে না থাকলে মাত্র ৩টি আসন পাবেন। তাই জামায়াতে ইসলামীকে অনুরোধ করেন আর ভুল পথে না হেটে সোজা পথে হাঁটুন।

সম্মেলনে জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও বিভিন্ন ওয়ার্ড বিএনপি, ছাত্র দল, যুব দল, মহিলা দলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে মেলান্দহ উপজেলা বিএনপি’র সর্বশেষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
এবারের সম্মেলনে সভাপতি পদে একক প্রার্থী হিসেবে ছিলেন মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল। অপরদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তিনজন প্রার্থী। তারা হলেন- এম. রফিকুল ইসলাম রহিম, নূরুল আলম সিদ্দিকী ও মঞ্জুরুল কবীর।

দ্বিতীয় অধিবেশনে নতুন কমিটি ঘোষণার আগে আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। সভাপতি পদে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় সদ্য বিলুপ্ত কমিটির আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলকে সভাপতি ঘোষণা করা হয়। সাধারণ সম্পাদক পদে তিনজন প্রার্থী থাকায় সম্মেলনে উপস্থিত কাউন্সিলরদের প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে মঞ্জুরুল কবীর সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *