সরিষাবাড়ীতে ২ শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মাদ্রাসা ঘেরাও, শিক্ষক আটক
কাফি পারভেজ, স্টাফ রিপোর্টার:
জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার একটি মাদ্রাসায় দুই শিশুকে ধর্ষনের অভিযোগে মাদ্রাসার শিক্ষক বজলুর রহমানকে (৩০) আটক করেছে পুলিশ। শনিবার রাতে সরিষাবাড়ী পৌর এলাকার সাতপোয়া গ্রামের রাওদাতুল আতফাল মাদ্রাসা থেকেই তাকে আটক করা হয়।
এর আগে শনিবার রাতে বিক্ষুব্ধ লোকজন প্রায় আড়াই ঘণ্টা মাদ্রাসাটি ঘেরাও করে রাখে এবং বজলুর রহমানকে প্রায় তিনঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন। বিষয়টি জানতে পেরে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাকে আটক করলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুই ছাত্র ওই মাদ্রাসার আবাসিকে থাকে। কয়েক দিন আগে পর্যায়ক্রমে তাদের দুজনকে ওই শিক্ষক ধর্ষন করেন এমন অভিযোগ তোলেন স্বজনেরা। ছাত্রদের স্বজনেরা বিষয়টি স্থানীয় লোকজনকে জানান। স্থানীয় লোকজন শনিবার রাতে ওই মাদ্রাসার সামনে অবস্থান নেন। ধীরে ধীরে লোকজন বাড়তে থাকে। তাঁরা বিক্ষোভ করতে থাকেন। এতে মাদ্রাসায় ওই শিক্ষক অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে স্থানীয় লোকজন পুলিশকে খবর দেন। প্রথমে পুলিশ ও পরে সেনাবাহিনীর সদস্যরা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং ওই শিক্ষককে থানায় নিয়ে যান।
দুই শিশুর অভিভাবক জানিয়েছেন, বজলুর রহমান একজনকে চার মাস এবং অন্যজনকে দুই মাস ধরে বিভিন্ন সময় বলাৎকার করেছেন। একজন সম্প্রতি অসুস্থ হয়ে পড়লে বাবা-মাকে জানায়।
সরিষাবাড়ী থানার ওসি চাঁদ মিয়া বলেন, দুই ছাত্রকে ধর্ষণের অভিযোগে বিক্ষুব্ধ জনতা ওই মাদ্রাসা ঘেরাও করেন। এলাকার লোকজন শিক্ষকের বিচারের দাবিতে স্লোগানও দিচ্ছিলেন। কোনোভাবেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছিল না। অনেক কষ্টে বিক্ষুব্ধ লোকজনকে বুঝিয়ে ওই শিক্ষককে আটক করে থানায় আনা হয়। শিক্ষক ও ছাত্রদের পৃথকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জানতে চাইলে জামালপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ইয়াহিয়া আল মামুন বলেন, ‘অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
