আলোচিতউপজেলার সংবাদজামালপুরসদর

গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো ছাত্র-জনতার নামকরণ করা ‘বিজয় চত্বর’

কাফি পারভেজ, স্টাফ রিপোর্টার:

জামালপুর-দেওয়ানগঞ্জ বাইপাস সড়কের জামালপুর পৌর এলাকার শেখেরভিটা মোড়ে অবস্থিত আওয়ামী লীগের সাবেক বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজমের নামে নির্মিত ‘মির্জা আজম চত্বর’ ভেঙে ফেলা হয়েছে। গত ৩ জুলাই গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের এক বিশেষ সভায় এ সিদ্ধান্ত দেওয়া হয় । ওই স্থানে জুলাইয়ের শহীদদের স্মরণে ‘জুলাই শহীদ স্মৃতি স্তম্ভ’ নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

জানা যায়, জামালপুর-দেওয়ানগঞ্জ বাইপাস সড়কের জামালপুর-মাদারগঞ্জ-দেওয়ানগঞ্জ মোড়ের মধ্যবর্তী স্থান শহরের শেখের ভিটা এলাকায় নির্মিত ‘মির্জা আজম চত্বরে’র স্থাপনা সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) এস্কেভেটর দিয়ে মঙ্গলবার সকাল থেকে দিনব্যাপী ভাঙার কাজ শুরু করে। গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে সারাদেশের মত জামালপুরেও স্থাপন করা হবে জুলাই শহীদ স্মৃতি স্তম্ভ। জামালপুর শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট এ চত্বর ভেঙে এখানে জুলাই শহীদ স্মৃতি স্তম্ভ নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ২০২৩ সালে ৪ কোটি ৯৬ লাখ টাকা ব্যয়ে দৃষ্টিনন্দন এই স্থাপনাটি নির্মাণ করা হয়েছিলো। সে সময় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজমের নামে প্রথমে চত্বরটির নামকরণ করা হয়েছিলো ‘মির্জা আজম চত্বর’। চত্বরের মধ্যবর্তী স্থানে নির্মিত স্থাপনাটির চারদিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিভিন্ন সময়ে প্রতিকৃতি ছাড়াও শেখ হাসিনা ও মির্জা আজমের প্রতিকৃতি ছিলো। এছাড়াও সড়কের দুই পাশে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ডে প্রতিকৃতিসহ পানির ফোয়ারা নির্মাণ করা হয়।

গত বছরের ৫ আগষ্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যূত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে ওই মির্জা আজম চত্বরের নামফলক গুঁড়িয়ে দেয়া হয় এবং মির্জা আজম চত্বরে স্থাপনাটি থেকে নৌকাসহ বিভিন্ন প্রতিকৃতি ভেঙে ফেলে। চত্বরটির নাম পরিবর্তন করে ‘বিজয় চত্বর’ নামকরণ করেন ছাত্র-জনতা। সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়া ছাত্র-জনতা।

শহীদ জিয়াউর রহমান ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ রেদওয়ান বলেন, ‘মির্জা আজম জামালপুরের সন্তান না হয়েও গায়ের জোরে চত্বরটি নিজের নামে করেছিলেন। জুলাইয়ের আন্দোলনে এই জায়গা থেকে শুরু হয়েছিল ছাত্রজনতার বৈষম্য বিরোধী লড়াই। সেই শহীদদের স্মরণে এখানে “জুলাই স্মৃতি চত্বর” স্থাপন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি মির্জা আজমের নামকে ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।’

তিনি আরও বলেন, ‘সরকারের এই উদ্যোগকে জামালপুরবাসী স্বাগত জানাবে। আমরা চাই, এই স্মৃতি চত্বরের মাধ্যমে আগামী প্রজন্মও জুলাইয়ের আন্দোলনকে মনে রাখুক।’

জামালপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিন্নাত শহীদ পিংকি বলেন, ‘জুলাই শহীদদের স্মরণে “জুলাই শহীদ স্মৃতি স্তম্ভ” নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। সে অনুযায়ী পুরানো স্থাপনাটি অপসারণ করা হয়।’

এ ব্যপারে গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহা: জাকির হোসেনকে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *