দিগপাইত-তারাকান্দি মহাসড়ক প্রকল্পে ভূমি অধিগ্রহণে অনিয়মের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার: জামালপুরের দিগপাইত-সরিষাবাড়ী-তারাকান্দি ‘মহাসড়ক যথাযথ মান প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পে ভূমি অধিগ্রহণে নানা অনিয়ম চলছে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ শাখার সংশ্লিষ্ট সার্ভেয়ারদের মাধ্যমে নিয়োগকৃত দালালদের দৌরাত্ম্য বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, শতকরা ৫-৭ টাকা হারে আগাম উৎকোচ না দিলে মিলে না ক্ষতিপূরণের চেক। অপরদিকে ভূয়া কাগজপত্র তৈরি ও স্বাক্ষর জাল করে লাখ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় করে নিচ্ছে প্রতারকরা। এমনই একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনার লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযোগ সূত্র জানায়, সরিষাবাড়ী উপজেলার পোগলদিঘা ইউনিয়নের তারাকান্দি এলাকার মৃত ছবের মণ্ডলের ছেলে মো. হোসেন আলীর পোগলদিঘা মৌজায় ২৩৭৯ নম্বর খতিয়ানের ৮৩৪৯ নম্বর দাগে তার নিজ বসতবাড়ির ৬ শতাংশ জমির মধ্যে ২.৩২ শতাংশ জমি অধিগ্রহণের (এলএ কেস নম্বর ০৫/২০২২-২০২৩) আওতায় পড়ে। ওই জমিতে অবকাঠামোর মধ্যে শুধু একটি ইটের প্রাচীর পড়েছে। তার পাকা ভবন অক্ষত (অধিগ্রহণের বাইরে) থাকলেও তা কাগজে-কলমে অধিগ্রহণ দেখানো হয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হোসেন আলীর ২.৩২ শতাংশ জমি অধিগ্রহণের অংশে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের লাল চিহ্ন দেওয়া। চিহ্নের বাইরে তার পাকা ভবন। ভবনকে অধিগ্রহণের আওতায় দেখানোর জন্য বারান্দার একাংশ নিজেরাই ভেঙে ফেলেছে।
অভিযোগ উঠে, জেলা ভূমি অধিগ্রহণ শাখার দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট সার্ভেয়ারকে ম্যানেজ করে ভুয়া জরিপের মাধ্যমে ওই ভবনকে অধিগ্রহণ দেখানো হয়। কমিশনভিত্তিতে কাজটি করে দেন স্থানীয় দালাল মোহাম্মদ ইয়ামিন। পরে ভবন মালিক হোসেন আলী অবৈধভাবে ক্ষতিপূরণের ৩১ লাখ ৭৮ হাজার ৫৭৬ টাকার চেক উত্তোলন করেন।
সোজাত আলী ও মো. সোলায়মানসহ স্থানীয় কয়েকজন জানান, প্রতারণার মাধ্যমে সরকারি টাকা আত্মসাতের বিষয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। চলতি বছরের ২৮ ও ২৯ জুলাই অধিগ্রহণ শাখার লোকজন ওই ভূমি পুনরায় পরিমাপ করে দেখতে পান, হোসেন আলীর ভবন অবকাঠামো অধিগ্রহণের আওতাধীন নয়। কিন্তু পরবর্তীতে জানা যায়, ভূয়া ক্ষতিপূরণের সমূদয় টাকা তিনি উত্তোলন করে নিয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ শাখায় কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হয়রানি চরম পর্যায়ে। টাকা ছাড়া মিলে না এ কার্যালয়ের সেবা। সংশ্লিষ্ট সার্ভেয়ারদের মাধ্যমে নিয়োগকৃত বহিরাগত দালালদের দৌরাত্ম্যে ক্ষতিপূরণের দাবিদাররা অসহায়। সাধারণ মানুষ নিজেদের ক্ষতিপূরণের আবেদন জমা দিলেও বছরের পর ঘুরানো এবং কাগজপত্র ঘাটতির কথা বলে বারবার ফেরত পাঠানো হয়। আর দালালদের মাধ্যমে গেলে ফাইল পাস হয় এক-দুই সপ্তাহ বা সর্বোচ্চ একমাসেই। আর এজন্য ক্ষতিগ্রস্তদের গুণতে হয় শতকরা হিসেবে নগদ ৫-৭ টাকা হারে। এছাড়া ভূয়া কাগজপত্র ও অবকাঠামো দেখিয়ে ক্ষতিপূরণ আদায় করে নিচ্ছে প্রতারকরা। এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সার্ভেয়াররা হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা।
ভুক্তভোগী তোতা মিয়ার ছেলে মিজান জানান, আমাদের পৈতৃক জমি (মৌজা রূদ্র বয়ড়া, খতিয়ান নম্বর ১২৩৩, ১২৬৬, দাগ নম্বর ৫০৫৩) ওয়ারিশদের মধ্যে ঝামেলা ছিল, এই সুযোগে আমাদের ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ আমার বাবার স্বাক্ষর জাল ও অন্যজনের ফিঙ্গার নিয়ে প্রতিপক্ষকে চেক দিয়ে দেওয়া হয়েছে। দালাল ইয়ামিন টাকার বিনিময়ে অফিসকে ম্যানেজ করে এসব করেন।
সম্প্রতি বদলি হওয়া জেলা অধিগ্রহণ কর্মকর্তা মো. মাহবুব হাসান বলেন, হোসেন আলীর বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে তিনি উপযুক্ত বিবেচনায় ক্ষতিপূরণের চেক দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া নানা অনিয়ম ও দালালদের দৌরাত্ম্য সম্পর্কে তিনি বলেন, আমরা চেষ্টা করি সর্বোচ্চ সেবা দিতে দিতে। এরপরও সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ থাকলে বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ সহকারে দেখা হয়।
