দেওয়ানগঞ্জ-বকশিগঞ্জ আসনে বিএনপি-জামাতের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই
কাফি পারভেজ, স্টাফ রিপোর্টার:
জামালপুর জেলার সর্ব উত্তরের দেওয়ানগঞ্জ ও বকশিগঞ্জ উপজেলা নিয়ে জামালপুর-১ সংসদীয় আসন গঠিত। ভারতের মেঘালয় রাজ্যের গারো পাহাড় ঘেষাঁ এ আসনটিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট যুদ্ধে বিএনপি ও জামায়াত এ প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। নির্বাচনকে সামনে প্রার্থীরা এখন ব্যস্ত নির্বাচনী প্রচারণায়। প্রতিদিন বের হচ্ছে মিছিল, চলছে মহল্লায় মহল্লায় মিটিং-সমাবেশ। ছোট ছোট কমিটির মাধ্যমে চলছে জমজমাট নির্বাচনী প্রচারণা। এ আসনের ফল নিয়ে কেউই আগাম মন্তব্য করতে পারছেন না।
এ আসনে ইসলামী আন্দোলনের এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থী থাকলেও প্রচার প্রচারনায় অনেক পিছিয়ে। নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা আর স্থানীয় এলাকার ভোটারদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে এমন চিত্রই পাওয়া গেছে।
জামালপুর জেলার সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ আসন হিসেবে লাইমলাইটে এসেছে জামালপুর-১ আসন।
দেওয়ানগঞ্জ ও বকশিগঞ্জ এ উপজেলায় মোট ভোটার ৪ লাখ ৩১ হাজার ৭০৭ জন। পুরুষ ২ লাখ ১৬ হাজার ২০৭ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ১৫ হাজার ৪৯৮ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ২ জন। এখানে নতুন ভোটার ৩০ হাজার ২০৮ জন।
এই আসন বরাবরই আওয়ামী লীগ প্রার্থী বিপুল ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত হয়ে থাকেন। ৯১ ও ৯৬ দু’বারের টানা এমপি আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা আবুল কালাম আজাদের হাত থেকে আসনটি ২০০১ সালের নির্বাচনে চারদলীয় জোট প্রার্থী বিএনপি’র এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে টানা তিনবার আওয়ামী লীগ প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সর্বশেষ ২০২৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী নূর মোহাম্মদ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এর আগে ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি থেকে এম এ সাত্তার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে ছিলেন।
২০০১ সালের নির্বাচনে এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন কিন্তু পরবর্তী নির্বাচনে মামলা সংক্রান্ত জটিলতায় তিনি নির্বাচন করতে পারেননি। এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত এমপি নির্বাচিত হয়ে তার নির্বাচনী এলাকার জন্য বিগত জোট সরকারের আমলে সর্বোচ্চ বরাদ্দ-মঞ্জুর করিয়েছিলেন। নির্বাচিত হয়ে এলাকায় উন্নয়ন কাজ করে দুই উপজেলাতেই হিরো হয়ে যান। দল ক্ষমতাসীন থাকার সুবাদে আর্থিক প্রাপ্তি, অপ্রাপ্তি, উন্নয়ন প্রকল্প, দরপত্র, চাকরিতে নিয়োগ বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে দ্বন্দ বিরোধ ক্ষোভ থাকলেও দলের শীর্ষ নেতাদের আস্তাভাজন হওয়ার সুবাদে অন্য ৪টি নির্বাচনী এলাকার চেয়ে তার নির্বাচনী এলাকায় উন্নয়ন কাজ হয় অনেক বেশি। এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত বিগত দিনের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে ধানের শীষের পক্ষে নির্বাচনী এলাকায় সভা সমাবেশে যোগদান করে ভোটারদের নিকট ভোট প্রার্থনা করে যাচ্ছেন
এই আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ও জেলা জামায়াতের সাবেক আমির অ্যাডভোকেট নাজমুল হক সাঈদী। তিনি তার কর্মী-সমর্থক ও দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে প্রতিনিয়ত বকশিগঞ্জ ও দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় ব্যাপক গণসংযোগ করছেন। চষে বেড়াচ্ছেন নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন গ্রামে-গঞ্জে, মাঠে-ঘাটে। দাঁড়িপাল্লার পক্ষে ভোট টানতে ভোটারদের ঘরে-ঘরে পৌছে যাচ্ছেন দলের কর্মীরা। অ্যাডভোকেট নাজমুল হক সাঈদী কর্মীসভা, পথসভা ও সামাজিক অনুষ্ঠানে নিয়মিত যোগ দিচ্ছেন। তাঁর ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা দুই উজেলাতেই যথেষ্ট।
এদিকে টানা চার বারের বকশিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান বহিস্কৃত বিএনপি নেতা আব্দুর রউফ তালুকদার ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী হয়ে হাতপাখা প্রতীক নিয়ে ভোটারদের নিকট ভোট প্রার্থনা করে যাচ্ছেন। প্রথমে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবেন বলে ঘোষনা দিলেও পরবর্তীতে ইসলামী আন্দোলনে যোগ দেন। এর পর থেকেই তার নিজস্ব ভোট ব্যাংক থেকে ছিটকে পড়েন। ভোটারদের কথা আব্দুর রউফ তালুকদার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করলে এখানে ত্রিমুখী লড়াই হতো বলে মন্তব্য করেন। ভোট ব্যাংকের ভোটাররা অনেকেই বেঁকে বসার কারণে নির্বাচনী মাঠে তেমন সাড়া পাচ্ছেন না।
জাতীয় পার্টির প্রার্থী একেএম ফজলুল হকের প্রচার নেই বললেই চলে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন সামনে রেখে ভোটাররা বিভিন্ন ধরনের হিসাব-নিকাশ শুরু করেছেন প্রার্থীদের নিয়ে। ভোটের মাঠে তারা দেখে শুনে ভোট দেবেন। ভোটারদের ধারণা যিনি ভোটারদের দ্বারে যেতে পারবেন তিনিই শেষ হাসিটি হাসবেন। মূলত এখানে বিএনপি ও জামায়াত এ দুই দলের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষক মহল।
