ত্যাগ, সংগ্রাম, ধর্মভীরুতা ও ক্লিন ইমেজের রাজনীতি— জামালপুর পৌর মেয়র পদে খন্দকার আহসানুজ্জামান রুমেলকে দেখতে চান পৌরবাসী
ত্যাগ, সংগ্রাম, ধর্মভীরুতা ও ক্লিন ইমেজের রাজনীতি—
জামালপুর পৌর মেয়র পদে খন্দকার আহসানুজ্জামান রুমেলকে দেখতে চান পৌরবাসী
মোঃ রুহুল আমিন রাজু, জামালপুরঃ জামালপুরের রাজনৈতিক অঙ্গনে সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে একটি নাম—খন্দকার আহসানুজ্জামান রুমেল। দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় ধরে রাজপথ, সংগঠন ও আন্দোলনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত এই ত্যাগী নেতা এবার জামালপুর পৌরসভার মেয়র পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ব্যাপক আলোচনায় রয়েছেন।
পৌর এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ডে সাধারণ ভোটার, ব্যবসায়ী, তরুণ ও সমাজসচেতন মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তার ক্লিন ইমেজ, ধারাবাহিক ত্যাগ, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং ব্যক্তিগত সততার কারণে তাকে মেয়র হিসেবে দেখতে আগ্রহী একটি বড় অংশের নাগরিক।
খন্দকার আহসানুজ্জামান রুমেলের রাজনৈতিক যাত্রা শুরু ছাত্রজীবনেই। সরিষাবাড়ি রিয়াজ উদ্দীন তালুকদার উচ্চ বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত অবস্থায় তিনি স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সম্পৃক্ত হন। সে সময় দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ছিল উত্তাল। কিশোর বয়সেই রাজপথে নামা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী অবস্থান নেওয়া তার রাজনৈতিক চেতনার ভিত্তি গড়ে দেয়।
১৯৮৭ সালে সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজে এইচএসসি শ্রেণিতে ভর্তি হওয়ার পর তিনি কলেজ ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী হিসেবে সংগঠনের কাজ শুরু করেন। ছাত্ররাজনীতির কঠিন বাস্তবতায় তিনি নিজেকে একজন দায়িত্বশীল সংগঠক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। ১৯৮৮ সালে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সময় রাজপথে পুলিশের নির্যাতনের শিকার হয়ে রক্তাক্ত হন। সহপাঠী ও রাজনৈতিক সহযোদ্ধাদের মতে, সেই দমন-পীড়ন তাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি; বরং আন্দোলনে আরও দৃঢ় ও সাহসী করে তোলে।
১৯৯২ সালে তিনি জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম-আহবায়ক নির্বাচিত হন। এই সময় সংগঠন বিস্তার, কর্মী সমন্বয় এবং আন্দোলন কর্মসূচি বাস্তবায়নে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। পরবর্তীতে সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ ছাত্রদলের প্যানেল থেকে ভিপি নির্বাচনে অংশ নিয়ে নেতৃত্বের সক্ষমতার পরিচয় দেন। ১৯৯৮ সালে জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমে তার সাংগঠনিক অবস্থান আরও সুদৃঢ় হয়।
ছাত্ররাজনীতি থেকে মূল ধারার রাজনীতিতে প্রবেশের পর তিনি ধাপে ধাপে জেলা পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পান। প্রথমে জেলা বিএনপির সদস্য হিসেবে কাজ শুরু করেন। দীর্ঘ সাংগঠনিক অভিজ্ঞতার স্বীকৃতি হিসেবে ২০১০ সালে জেলা বিএনপির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক নির্বাচিত হন। এরপর ২০১৮ সালে জেলা বিএনপির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এবং ২০২৫ সালের জেলা সম্মেলনে সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পান। এই দীর্ঘ পথচলায় তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-এর আন্দোলন ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে নিয়মিতভাবে সামনের সারিতে থেকে ভূমিকা পালন করে আসছেন।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ বছরে দলের ঘোষিত প্রতিটি আন্দোলন, মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও সমাবেশে তিনি সক্রিয় নেতৃত্ব দিয়েছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তার বিরুদ্ধে ছয়টি রাজনৈতিক মামলা দায়ের করা হয়। এক পর্যায়ে তিনি প্রায় এক মাস কারাবন্দী থাকেন এবং পরে উচ্চ আদালত থেকে জামিন লাভ করেন। মামলা ও গ্রেপ্তার তাকে রাজনীতি থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি। বরং তিনি মাঠের কর্মীদের পাশে থেকে সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ রাখার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন।
রাজনৈতিক ব্যস্ততার মাঝেও তিনি পড়াশোনা চালিয়ে যান। নানা প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে এম কম ডিগ্রি অর্জন করেন। তার ঘনিষ্ঠজনদের মতে, এই শিক্ষাগত যোগ্যতা ভবিষ্যতে নগর পরিচালনা, আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাকে বাস্তবভিত্তিক সুবিধা দেবে।
খন্দকার আহসানুজ্জামান রুমেল একজন ধর্মভীরু মানুষ হিসেবে পরিচিত। নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়, ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলা এবং সামাজিক ধর্মীয় কার্যক্রমে অংশগ্রহণ তার দৈনন্দিন জীবনের অংশ। রাজনীতির ব্যস্ততা সত্ত্বেও তিনি ধর্মীয় মূল্যবোধ থেকে বিচ্যুত হননি। তার পরিচিতজনদের মতে, এই ধর্মীয় অনুশীলনই তাকে ব্যক্তি জীবনে সংযত, ধৈর্যশীল ও নৈতিকভাবে দৃঢ় থাকতে সহায়তা করেছে। রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও ব্যক্তিগত আচরণে তিনি ভদ্র, শান্ত ও সহজপ্রাপ্য—এমন মন্তব্য করেছেন অনেকেই।
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি স্ত্রী ও দুই কন্যা সন্তানের জনক। পরিবারকে সময় দেওয়ার পাশাপাশি রাজনৈতিক ও সামাজিক দায়িত্বের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে চলছেন বলে জানান তার ঘনিষ্ঠরা।
জেলা রাজনীতিতে খন্দকার আহসানুজ্জামান রুমেলের আরেকটি বড় পরিচয় হলো তিনি জামালপুর সদর আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট শাহ মো ওয়ারেছ আলী মামুন-এর বিশ্বস্ত ও আস্থাভাজন সহকর্মী। দলীয় সূত্রে জানা যায়, সাংগঠনিক অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত, কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং মাঠপর্যায়ের সমন্বয়ে রুমেলের ওপর মামুনের আস্থা দীর্ঘদিনের। নেতাকর্মীদের মতে, জেলা থেকে তৃণমূলের নেতৃত্বের সঙ্গে তার এই ঘনিষ্ঠ ও আস্থার সম্পর্ক ভবিষ্যতে পৌর রাজনীতিতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সহায়ক হতে পারে।
বর্তমানে জামালপুর পৌরসভা-এর নাগরিক সেবা, অবকাঠামো উন্নয়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জলাবদ্ধতা নিরসন ও সুশাসন নিয়ে নানা আলোচনা রয়েছে। অনেক পৌরবাসীর মতে, মাঠের রাজনীতি জানা, প্রশাসনিক বিষয়ে সচেতন ও নৈতিকভাবে দৃঢ় একজন নেতা মেয়র হলে পৌর ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।
সব মিলিয়ে, রাজপথের সংগ্রাম, সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, ধর্মভীরু জীবনাচরণ ও ক্লিন ইমেজের সমন্বয়ে খন্দকার আহসানুজ্জামান রুমেল এখন জামালপুর পৌর রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম। নির্বাচনের সময় যত ঘনিয়ে আসছে, তাকে ঘিরে সমর্থক ও সাধারণ ভোটারদের প্রত্যাশাও তত বাড়ছে। এখন দেখার বিষয়, শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী মাঠে তার অবস্থান কতটা দৃঢ় হয় এবং পৌরবাসীর আস্থা কতটা তিনি অর্জন করতে পারেন।
