দুই হাত না থাকা নিহালের সংগ্রাম: ছোট চায়ের দোকানেই চলছে পরিবারের জীবনযুদ্ধ

মোঃ মানিক ইসলাম, মাদারগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধিঃ
জামালপুর জেলায় মাদারগঞ্জ উপজেলা জোরখালী বাজারে চা,ব্যবসায়ী নিহাল। শারীরিক সীমাবদ্ধতা কখনো মানুষের ইচ্ছাশক্তিকে থামাতে পারে না—এরই এক অনন্য উদাহরণ নিহাল। জন্মগত ভাবে নিহাল ছিল আমাদের মতো স্বাভাবিক কিন্তুু ভাগ্যক্রমে দূর্ঘটনার শিকার হয়ে দুই হাত হারিয়ে ফেলেন। দুই হাত না থাকলেও জীবনের কঠিন বাস্তবতার সঙ্গে লড়াই করে আজ তিনি হয়ে উঠেছেন এক অনুপ্রেরণার নাম।
নিহাল একটি ছোট চায়ের দোকান পরিচালনা করে নিজের পরিবার চালাচ্ছেন। সাধারণ মানুষের মতো সব কাজ করতে না পারলেও অদম্য মনোবল আর চেষ্টা দিয়ে তিনি শিখে নিয়েছেন দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় কাজগুলো। পা ও শরীরের অন্যান্য অংশ ব্যবহার করে তিনি চা তৈরি থেকে শুরু করে দোকান পরিচালনার সব কাজই করে থাকেন।
স্থানীয়দের মতে, নিহাল শুধু একজন চা বিক্রেতা নন, বরং একজন সংগ্রামী মানুষ। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত তার দোকানে ভিড় জমে চায়ের কাপে আড্ডা দিতে আসা মানুষের। অনেকেই শুধু চা খেতে নয়, তার সাহস ও দৃঢ় মনোবলকে কাছ থেকে দেখার জন্যও সেখানে আসেন।
নিহাল জানান, “আমি চাই নিজের পরিশ্রমে পরিবারকে চালাতে। কারো কাছে হাত পেতে নয়, নিজের যোগ্যতায় বাঁচতে চাই।” তার এই কথাতেই ফুটে ওঠে আত্মসম্মান আর আত্মবিশ্বাসের শক্তি।
পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হিসেবে নিহাল তার পরিবারের সকল দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছেন। অভাব-অনটনের মাঝেও তিনি হার মানেননি, বরং প্রতিনিয়ত লড়াই করে যাচ্ছেন জীবনের সঙ্গে।
এলাকাবাসীর দাবি, সমাজ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এমন সংগ্রামী মানুষের পাশে দাঁড়ানো উচিত, যাতে তিনি আরও ভালোভাবে তার জীবনযুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারেন।
নিহালের এই গল্প আমাদের শেখায়—শারীরিক অক্ষমতা নয়, বরং মানসিক শক্তিই মানুষের আসল পরিচয়।
