উপজেলার সংবাদজামালপুরমেলান্দহ

বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস উপলক্ষে মেলান্দহে র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত


মোঃ রুহুল আমিন রাজু, জামালপুরঃ
“প্রলোভনের মুখোশ উন্মোচন করি, তামাক ও নিকোটিনের আসক্তি প্রতিরোধ করি” — এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সোমবার (১৫ জুন) সকাল সাড়ে ১০টায় এক বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
র‍্যালিটি মেলান্দহ উপজেলা চত্বর থেকে শুরু হয়ে উপজেলা পরিষদ চত্বর প্রদক্ষিণ করে উপজেলা পরিষদের নতুন ভবন প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। পরে উপজেলা পরিষদের হলরুমে তামাকবিরোধী এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন মেলান্দহ উপজেলা নির্বাহী অফিসার জিন্নাতুল আরা। সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন মেলান্দহ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আহসান হাবীব। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মেলান্দহ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহমুদা আক্তার জ্যোতি, মেলান্দহ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুন্জুরুল কবীর মন্জু, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আজাদুর রহমান ভূঁইয়া, সাংবাদিক মোঃ রুহুল আমিন রাজুসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ।
বক্তব্যে ডাঃ আহসান হাবীব বলেন, “তামাক শুধু একজন ব্যক্তির স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে না, এটি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্যও একটি বড় হুমকি। ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারের কারণে ফুসফুসের ক্যান্সার, হৃদরোগ, স্ট্রোক, শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন জটিল রোগের ঝুঁকি বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। এমনকি পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হয়ে শিশু ও নারীরাও মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েন।”
তিনি আরও বলেন, “একটি সুস্থ, সচেতন ও উন্নত সমাজ গঠনে তামাকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। তরুণ প্রজন্মকে তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতন করতে হবে এবং তামাক ব্যবহারের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা একটি তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হব।”
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জিন্নাতুল আরা বলেন, “তামাক ও নিকোটিনের আসক্তি শুধু স্বাস্থ্যগত সমস্যা নয়, এটি একটি সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যাও। তরুণ সমাজকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন কৌশলে তামাকজাত ও নিকোটিন পণ্য বাজারজাত করা হচ্ছে। এসব প্রলোভনের মুখোশ উন্মোচন করে নতুন প্রজন্মকে সচেতন করতে হবে। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে তামাকমুক্ত সমাজ গঠন সম্ভব। আমাদের প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে তামাকবিরোধী সচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রাখতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুস্থ ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হলে তামাক ও নিকোটিনের ব্যবহার প্রতিরোধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আইন বাস্তবায়নের মাধ্যমেও তামাক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম আরও জোরদার করতে হবে।”
সভায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সাংবাদিক ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা তামাকের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং তামাকমুক্ত সমাজ গঠনে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এ কর্মসূচি অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে তামাক ও নিকোটিনের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *