জামালপুরে তীব্র ভাঙনে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে বসতভিটা, ফসলি জমি, বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা

কাফি পারভেজ, স্টাফ রিপোর্টার
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও ভারি বর্ষণে জামালপুরের বকশিগঞ্জ উপজেলার দশানী নদীতে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। উপজেলার মেরুরচর ও সাধুরপাড়া ইউনিয়নের অন্তত আটটি গ্রামে গত এক সপ্তাহ ধরে তিন কিলোমিটার এলাকা জুড়ে তীব্র ভাঙনে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে বসতভিটা, ফসলি জমি, বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।
জানা যায়, গত কয়েকদিনে দশানী নদী, ব্রহ্মপুত্র নদ ও জিঞ্জিরাম নদীর পানি বেড়েছে। পানি বাড়ায় প্রবল স্রোত বইছে নদীতে। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে নদীর ভাঙন। নদীভাঙন প্রকট আকার ধারণ করেছে। নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে প্রায় শতাধিক বসতভিটা, গাছপালা ও ফসলি জমি চলে গেছে নদীগর্ভে। প্রতিনিয়ত ভাঙনের ফলে নদীতীরবর্তী এলাকার মানুষ অসহায় হয়ে পড়েছেন। আতঙ্কে অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন ঘরবাড়ি, খোলা আকাশের নিচে বাস করছেন অনেকেই। এখনো সরকারি বেসরকারি কোনো সহায়তা পাননি ক্ষতিগ্রস্তরা। তবে ত্রাণের চেয়ে ভাঙনরোধে ¯’ায়ী সমাধান চান তারা।
সাধুরপাড়া ইউনিয়নের আইরমারি খানপাড়া গ্রামে দশানী নদীর ভয়াবহ ভাঙন দিন দিন আরও তীব্র আকার ধারণ করছে। গতদুইদিনে নদী গর্ভে বিলীণ হয়েছে পাঁচটি বসতবাড়ি। হুমকীর মুখে পড়েছে বকশিগঞ্জ-দেওয়ানগঞ্জ সড়ক, বিদ্যুৎ লাইন, মাদরাসা, দুইশতাধিক বসতবাড়ী ও ফসলি জমি।
স্থানীয়রা বলছেন ভাঙন ঠেকাতে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে গিয়েও কোন কাজ হয়নি। নিজেদের শেষ সম্বলটুকু বাঁচাবে। নিজেরাই গাছের ডালপালা ফেলে ভাঙণ ঠেকাতে কাজ করছেন। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে নদী পাড়ের এসব গ্রাম।
ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত কলকিহারা গ্রামের জিনেত আলীসহ অনেকেই বলেন, গত কয়েক বছরে ৭ বার নদী ভাঙনের কবলে পড়েছেন তারা। বসতবাড়ি, ফসলি জমি যা ছিলো তা নদীগর্ভে চলে গেছে। এবার ভাঙনে ঘরবাড়ি তোলার জায়গাও অবশিষ্ট নেই। খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা।
ফকিরপাড়া গ্রামের বিল্লাল, কালামসহ গ্রামবাসী জানান, পানি কমার সময়েও নদী ভাঙে, বাড়ার সময়ও ভাঙে। এ পর্যন্ত ৩-৪ বার নদী ভাঙনের শিকার হয়েছেন তারা। এবারও ভাঙনের কবলে পড়েছেন। ত্রাণ চাই না, সহায়তাও চাই না। ভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করলেই হবে।
মেরুরচর ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন মেরুরচর ইউনিয়নের মানুষ। নদীর পানি এখন বাড়তেছে, যে কারনে বেড়েছে ভাঙন। যতটুকু জেনেছি, দ্রুত সময়ের মধ্যে ভাঙন রোধে কাজ শুরু করবে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এছাড়া ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা হচ্ছে। বরাদ্দ অনুযায়ী তাদের সহায়তা করা হবে।
জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নকিবুজ্জামান খান জানান, ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পের মাধ্যমে প্রথমে বাঙালপাড়া ও ঘুঘরাকান্দি এলাকায় ভাঙন রোধে কাজ চলমান। ভাঙন এলাকার তালিকা রয়েছে, দ্রুত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ৌ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুরাদ হোসেন বলেন, নদীভাঙনে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদের সহযোগিতা করা হবে। ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। তারা ব্যবস্থা নেবে।
