হাজরাবাড়ী পৌর মেয়র প্রার্থী হিসেবে আলোচনার শীর্ষে জোবায়ের আহমেদ

মো. রুহুল আমিন রাজু, জামালপুর প্রতিনিধি:
মেলান্দহ উপজেলার হাজরাবাড়ী পৌরসভা নির্বাচনকে ঘিরে সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীদের নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে হাজরাবাড়ী পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জোবায়ের আহমেদের নাম মেয়র প্রার্থী হিসেবে পৌরবাসীর আলোচনায় শীর্ষে গুরুত্বের সঙ্গে উঠে এসেছে। তাঁর সমর্থক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের দাবি, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে তিনি জনপ্রিয়তার শীর্ষে এগিয়ে রয়েছেন।
স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হাজরাবাড়ী পৌরসভার আগামী দিনের নেতৃত্বে এমন একজন ব্যক্তিকে দেখতে চান তারা, যিনি সাধারণ মানুষের কথা শুনবেন, নাগরিক সমস্যাগুলোকে গুরুত্ব দেবেন এবং পৌরসভার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবেন। এসব প্রত্যাশার কারণে জোবায়ের আহমেদের নাম স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনায় শীর্ষে রয়েছে বলে জানা গেছে।
জোবায়ের আহমেদের রয়েছে দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা। বর্তমানে তিনি হাজরাবাড়ী পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি স্বেচ্ছাসেবক দল জামালপুর জেলা শাখার সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক, মেলান্দহ উপজেলা বিএনপির পরপর দুইবারের সাবেক সদস্য, মেলান্দহ উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এবং সরকারি আশেক মাহমুদ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
এছাড়াও তিনি ৮ নম্বর ফুলকোঁচা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সদস্য এবং অবিভক্ত ৮ নম্বর ফুলকোঁচা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি হিসেবে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করেছেন। তৃণমূল পর্যায় থেকে বিভিন্ন পর্যায়ে সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের যোগাযোগ রয়েছে বলে তাঁর সমর্থকরা মনে করেন।
রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমেও জোবায়ের আহমেদের সম্পৃক্ততার কথা স্থানীয়রা উল্লেখ করেন। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ, দুর্যোগে মানুষের সহযোগিতা এবং তরুণদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে উৎসাহ দেওয়ার মাধ্যমে তিনি স্থানীয়ভাবে জনসম্পৃক্ততা তৈরি করেছেন বলে তাঁর সমর্থকদের দাবি।
উন্নয়ন ভাবনায় অগ্রাধিকার নাগরিক সেবা
জোবায়ের আহমেদের সমর্থকদের প্রত্যাশা, তিনি মেয়র নির্বাচিত হলে হাজরাবাড়ী পৌরসভার রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন এবং তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে গুরুত্ব দেবেন।
এ ছাড়া মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করে হাজরাবাড়ী পৌরসভাকে একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য পৌরশহর হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করছেন তাঁর সমর্থকরা।
জোবায়ের আহমেদ বলেন, “হাজরাবাড়ী পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডের মানুষের নাগরিক অধিকার ও মৌলিক সেবা নিশ্চিত করাই আমার অন্যতম লক্ষ্য। পৌরসভা হবে দল-মত, শ্রেণি-পেশা নির্বিশেষে সকল মানুষের। নাগরিকদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও জনসম্পৃক্ততার মাধ্যমে একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য পৌরসভা গড়ে তুলতে চাই।”
তিনি আরও বলেন, “পৌরবাসীর হয়রানি ও ভোগান্তি কমিয়ে দ্রুত ও মানসম্মত নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে চাই। উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে কোনো ধরনের অনিয়মের সুযোগ না রেখে জনগণের কাছে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে। তরুণ প্রজন্মের জন্য কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টি করতেও কাজ করতে চাই।”
তৃণমূলের নেতৃত্ব থেকে পৌর নেতৃত্বের প্রত্যাশা
স্থানীয় নেতাকর্মীদের ভাষ্য, দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকার কারণে জোবায়ের আহমেদ তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতা, কর্মতৎপরতা ও জনসম্পৃক্ততাকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন তাঁর সমর্থকরা।
তাঁদের মতে, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার পাশাপাশি নাগরিক সেবা ও পৌর উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে একজন জনবান্ধব নেতৃত্বের প্রয়োজন রয়েছে। সেই জায়গা থেকে জোবায়ের আহমেদ একজন সম্ভাবনাময় মেয়র প্রার্থী হিসেবে হাজরাবাড়ী পৌরবাসীর প্রত্যাশার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন।
পৌরবাসীর প্রত্যাশা, আগামী দিনে হাজরাবাড়ী পৌরসভায় এমন নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হবে, যেখানে থাকবে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, নাগরিকবান্ধব সেবা, পরিকল্পিত উন্নয়ন ও জনসম্পৃক্ততা। আর এসব প্রত্যাশা পূরণে জোবায়ের আহমেদ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন বলে তাঁর সমর্থক ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা আশাবাদ ব্যক্ত করছেন।
সব মিলিয়ে হাজরাবাড়ী পৌরসভার সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীদের আলোচনায় জোবায়ের আহমেদের নাম বর্তমানে বেশ জোরালোভাবে উচ্চারিত হচ্ছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ততাকে কাজে লাগিয়ে তিনি পৌরবাসীর প্রত্যাশা পূরণে এগিয়ে আসবেন—এমন প্রত্যাশাই করছেন তাঁর সমর্থক ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।
