আলোচিতউপজেলার সংবাদজামালপুরসদর

ইশরাত জাহান হত্যার আসামী কাউসার গ্রেপ্তার

শহর প্রতিনিধি:
জামালপুর শহরের ভাড়া বাসায় ইশরাত জাহান মিমি (৩২) নামে এক নারীকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগে মো. কাউসার আহমেদ খানকে (৩২) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গ্রেপ্তারের পর পিবিআইয়ের কাছে ১৬১ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মঙ্গলবার দুপুরে শহরের বাগেরহাটা এলাকায় পিবিআই কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পিবিআই জামালপুরের পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত।
গত ২৩ আগস্ট শনিবার সকাল ১০টার দিকে জামালপুর শহরের পশ্চিম নয়াপাড়া রেলগেট এলাকার বাবুল মিয়ার বাড়ির পঞ্চম তলার কক্ষ থেকে ইশরাত জাহান নামের এক গৃহবধুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত ইশরাত জাহান ও কাউসার আহমেদ খান স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে ওই বাসায় ভাড়া থাকতেন এবং তাদের ঘরে দুইটি সন্তান আছে।
২৪ আগস্ট নিহতের মা মুক্তা বেগম বাদী হয়ে কাউসারসহ অজ্ঞাত তিনজনকে আসামি করে জামালপুর সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে পিবিআই জামালপুর জেলা ইউনিট মামলাটির তদন্তভার নেয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ওই দিন বিকেলে শহরের বাগেরহাটা এলাকা থেকে কাউসারকে গ্রেপ্তার করা হয়। পিবিআই ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালে ইশরাত জাহানের সাথে শাওন নামের এক ব্যক্তির বিয়ে হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে একজন মেয়ে ও একজন ছেলে সন্তান জন্ম নেয়।
২০২১ সালে তার স্বামী শাওন মারা যান। এরপর তিনি দুই সন্তানকে নিয়ে জামালপুর শহরে বসবাস করছিলেন। প্রায় তিন বছর আগে কাউসার আহমেদ খানের মনোহারি দোকানে কেনাকাটার সূত্রে তাদের পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়।
কাউসার সেখানে নিয়মিত যাওয়া আসা করতেন। ইশরাতের সাথে শারীরিক সম্পর্কে জড়ায় কাউসার। তাদের শারীরিক সর্ম্পকের বিষয়টি গোপনে ভিডিও ধারণ করে রাখে ইশরাত। পরবর্তীতে সেই ভিডিও দিয়ে কাউসারকে ব্ল্যাকমেইল করে মোটা অংকের অর্থ আদায় করতে থাকে। এভাবে আসামী কাউসার তার সঞ্চিত অর্থ শেষ করার পর জামালপুর শহরে তার বাড়ির জমি বিক্রিসহ মা ও স্ত্রীর স্বর্ণালংকার বিক্রির অর্থ ইশরাতের হাতে তুলে দেয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ইশরাত শারীরিক সর্ম্পকের গোপন ভিডিও করার পর থেকে কাউসারকে ব্ল্যাকমেইল করতে থাকেন। এভাবে বিভিন্ন সময় তার কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়। সম্প্রতি ইশরাত কাউসারকে অন্য ব্যক্তিদের ফাঁদে ফেলতে বাধ্য করার চেষ্টা করলে তাদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়।
ঘটনার দিন টাকা নিয়ে দুজনের মধ্যে বাগ্বিতন্ডার একপর্যায়ে ইশরাত কাউসারের স্ত্রীকে ফোন করে তাদের সম্পর্কের কথা জানিয়ে দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে কাউসার মিমিকে শ্বাসরোধে হত্যা করে পালিয়ে যান বলে পিবিআই জানিয়েছে।
পিবিআই জামালপুর জেলার পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত বলেন, আসামির জবানবন্দি ও পারিপার্শ্বিক প্রমাণের ভিত্তিতে হত্যাকান্ডের মূল রহস্য উদ্ঘাটন করা হয়েছে। ঘটনার পেছনে অন্য কারও ইন্ধন রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে দ্রুত আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *