জামালপুরে বাস চাপায় অটোরিকশার চার যাত্রীর মৃত্যু
শহর প্রতিনিধি:
জামালপুর-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাস ও অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন বাসের যাত্রীসহ আরও ১৫ জন। আহতদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় জামালপুর জেনারেল হাসপাতাল ও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সোমবার রাত সাড়ে সাতটার দিকে জামালপুর-ময়মনসিংহ মহাসড়কের সদর উপজেলার লাহিড়ীকান্দা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন, জামালপুর সদর উপজেলার সেংগুয়া গ্রামের আতাহার আলীর ছেলে মকবুল হোসেন (৬৫), বাটিকামারী গ্রামের ইউনুছ আলীর ছেলে জালাল উদ্দীন (৬০), একই গ্রামের ফরিদ হোসেনের ছেলে সাদ্দাম হোসেন (৩৯) এবং পৌর শহরের মুকুন্দবাড়ী এলাকার বাসের হেলপার রুবেল (৩৫)।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাত সাড়ে সাতটার দিকে জামালপুর-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়কের লাহিড়ীকান্দা এলাকায় জামালপুর থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী রাজিব পরিবহনের একটি বাসের সাথে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি অটোরিক্সার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। বাসটি উল্টে গিয়ে অটোরিকশার উপর পড়ে।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করেন। পরে গুরুতর আহত ১৫ জনকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতাল ও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এদিকে, রাজিব পরিবহনের বেপরোয়া গতির কারণে বারবার দুর্ঘটনার প্রতিবাদে এবং দায়ীদের শাস্তির দাবিতে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী দুর্ঘটনার পর জামালপুর-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। সড়ক অবরোধের ফলে মহাসড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং যানবাহন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় দেড় ঘন্টা পর অবরোধ তুলে নিলে স্বাভাবিক হয় যানবাহন চলাচল। রাত ১০টার দিকে রেকার দিয়ে দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি সরিয়ে নেওয়া হয়।
জামালপুর সদর থানার ওসি নাজমুস সাকিব বলেন, দুর্ঘটনায় চারজন নিহত হয়েছে। দুর্ঘটনার পর বাসটির চালক দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। চালককে শনাক্তের চেষ্টা চলছে। দুর্ঘটনার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে কিছু সময় যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।
