রাজীব বাসের রুট পারমিট বাতিলের দাবিতে ছাত্র-জনতার বিক্ষোভ
শহর প্রতিনিধি:
সড়ক দুর্ঘটনা রোধকল্পে রাজীব বাসের রুট পারমিট বাতিল ও চলাচল পুরোপুরি বন্ধের দাবিতে জামালপুর সদর উপজেলার নান্দিনা বাজারে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার সকাল ১১টায় নান্দিনা রেলস্টেশন ও ছেড়ামার্কেট এলাকায় স্থানীয় ছাত্র ও সাধারণ মানুষ এই কর্মসূচিতে অংশ নেন।
ছাত্র-জনতা, নান্দিনা, জামালপুর সদর উপজেলা’ ব্যানারে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে রাজীব বাসকে ঘিরে গড়ে ওঠা কথিত সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়ার জোর দাবি জানানো হয়। এ সময় আন্দোলনকারীরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে কোনো আপস নয়’ এবং সিন্ডিকেট চলতে দেওয়া হবে না, সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে হবে’ ম্লোগান দেন।
মানববন্ধন শেষে আয়োজকদের উদ্যোগে একটি প্রতিবাদ মিছিল বের হয়ে নান্দিনার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, রাজীব বাসের রুট পারমিট বাতিলসহ যাত্রীদের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। তারা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, পরিবহণ খাতে কোনো ধরনের অনিয়ম বা কথিত সিন্ডিকেট আর মেনে নেওয়া হবে না। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে এই আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন আয়োজকরা।
উল্লেখ্য সোমবার রাতে জামালপুর-ময়মনসিংহ মহাসড়কের জামালপুর সদর উপজেলার লাহিড়ীকান্দা এলাকায় জামালপুর থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী রাজীব পরিবহনের একটি বাসের সাথে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি অটোরিক্সার মুখোমুখি সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়।
নিহতরা হলেন, জামালপুর সদর উপজেলার সেংগুয়া গ্রামের আতাহার আলীর ছেলে মকবুল হোসেন (৬৫), বাটিকামারী গ্রামের ইউনুছ আলীর ছেলে জালাল উদ্দীন (৬০), একই গ্রামের ফরিদ হোসেনের ছেলে সাদ্দাম হোসেন (৩৯) এবং পৌর শহরের মুকুন্দবাড়ী এলাকার বাসের হেলপার রুবেল (৩৫)।
রাজীব পরিবহনের বেপরোয়া গতির কারণে বারবার দুর্ঘটনার প্রতিবাদে এবং দায়ীদের শাস্তির দাবিতে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী দুর্ঘটনার পর জামালপুর-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। সড়ক অবরোধের ফলে মহাসড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং যানবাহন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় দেড় ঘন্টা পর অবরোধ তুলে নিলে স্বাভাবিক হয় যানবাহন চলাচল।
