সাংবাদিক হিলারীর বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন
বকশিগঞ্জ প্রতিনিধি:
জামালপুরের বকশিগঞ্জে দৈনিক মানবকন্ঠের উপজেলা প্রতিনিধি ও বকশিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন হিলারীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে স্থানীয় সাংবাদিকরা। মানববন্ধনে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়।
মঙ্গলবার সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদের সামনে বকশিগঞ্জের সাংবাদিক সমাজ ও সর্বস্তরের জনসাধারণ এর ব্যানারে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপজেলার বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরা অংশ নেন।
ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন চলাকালীর বক্তব্য রাখেন বকশিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুল লতিফ লায়ন, সাধারণ সম্পাদক মাসুদ উল হাসান, উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফাতিউল হাফিজ বাবু,, প্রেসক্লাব বকশিগঞ্জের সভাপতি রাশেদুল ইসলাম রনি।
মানববন্ধনে বক্তারা দাবি করেন, মোয়াজ্জেম হোসেন হিলারী দীর্ঘদিন ধরে বকশিগঞ্জে সাংবাদিকতা করছেন। তিনি বিভিন্ন অনিয়ম ও অসংগতির বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ করে আসছেন। এ কারণে তাকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে মামলাটি করা হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।
বক্তারা মামলাটি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং তা প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে হয়রানিমূলক মামলা দায়েরের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি করেন তারা। দাবি বাস্তবায়ন না হলে ভবিষ্যতে আরও কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা।
বক্তারা আরো বলেন, সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে কলম থামিয়ে দেওয়া যাবে না। সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ। সত্য ঘটনা উপস্থাপন করে পেশাগত দায়িত্ব পালন করবে এটাই সত্য। তারা বলেন, কারো রক্ত চক্ষুকে ভয় করে এবং হয়রানির ভয়ে সাংবাদিকরা তাদের পেশাগত দায়িত্ব থেকে দূরে যাবে না ।
মানববন্ধনে একটি জমি সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়ও উঠে আসে। বক্তাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট দাগের জমির বি.আর.এস. রেকর্ড নুরুন্নাহার ওরফে কাপাশি বিবির নামে চূড়ান্তভাবে প্রকাশিত ছিল। ১৯৯০ সালের দিকে ওই এলাকায় চলাচলের জন্য রাস্তা নির্মাণ করা হয়। পরে ১৯৯৩ সালে সাংবাদিক হিলারীর দাদা-শ্বশুর হেকমত আলী, শ্বশুর লিয়াকত আলী ও ফুফু-শাশুড়িসহ তিনজন মিলে ৩৩ শতাংশ জমি কিনে সেখানে বাড়িঘর নির্মাণ করে ভোগদখল করে আসছিলেন বলে দাবি করা হয়।
বক্তাদের অভিযোগ, রাস্তা নির্মাণের পর খতিয়ানের হোল্ডিং থেকে রাস্তার অংশ আলাদাভাবে কর্তন না হওয়ায় পরবর্তীতে ওই জমি নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়। তাদের আরও দাবি, আবুল কাশেম কাশি কৌশলে রাস্তার জমি নিজের নামে খারিজ করে নেন। সাংবাদিক হিলারীর ওই সম্পত্তির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততা না থাকলেও তাকে মামলায় ১ নম্বর আসামি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন বক্তারা।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক ইত্তেফাকের সাংবাদিক শাহীন আল আমিন, প্রতিদিনের কাগজের প্রতিনিধি মনিরুজ্জামান লিমন, দৈনিক ইনকিলাবের প্রতিনিধি এমদাদুল হক লালন, নয়া দিগন্তের প্রতিনিধি আল মুজাহিদ বাবু, সাংবাদিক মারুফ হাসান, দৈনিক মানবজমিনের প্রতিনিধি আশরাফুল হায়দার, আমার দেশের প্রতিনিধি রকিবুল হাসান বিদ্রোহী, দেশের কণ্ঠের প্রতিনিধি সালাম মাহমুদ, রূপালী বাংলাদেশের প্রতিনিধি মুস্তাফা গাজী, আগামীর সময়ের প্রতিনিধি রাসেল রানা, সাংবাদিক হারুনুর রশিদ, রিপন রাজ, সকালের সময়ের প্রতিনিধি জামিল মিয়া, আজকের বসুন্ধরার প্রতিনিধি ইমরান মাহমুদ, প্রাইম টিভির প্রতিনিধি সাদিয়া ইসলাম, গণকণ্ঠের প্রতিনিধি ইমরান মিয়া, আমিনুল ইসলাম, তাহের, মনোহার আলীসহ স্থানীয় সাংবাদিক ও সর্বস্তরের জনসাধারণ।
