কামালখান মাদরাসায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন


জামালপুর প্রতিনিধি: আজ কামালখান হাট কামিল মাদ্রাসায় ৭ই নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল মাদ্রাসার অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়।

অত্র মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে ও অত্র মাদ্রাসার শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান এর পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন, উপাধ্যক্ষ হাফিজুর রহমান, সহকারী অধ্যাপক গণিত জাকিউল ইসলাম, সহকারী অধ্যাপক আরবি মাহমুদুল্লাহ, সহকারী শিক্ষক ইউসুফ আলী এবং শিক্ষার্থী হাবিবুল্লাহ প্রমুখ এবং দোয়া পরিচালনা করেন সহকারী অধ্যাপক আরবি আব্দুল কাদির।

৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস এর প্রেক্ষাপটে সম্পর্কে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা বলেন, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর সেনাবাহিনী, পুলিশ, আনসার ও অন্যান্য বাহিনী থাকা সত্ত্বেও রক্ষীবাহিনী নামে একটি বিশেষ বাহিনী গঠন করা হয়। রক্ষীবাহিনীকে সীমাহীন ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল। তাদের বিরুদ্ধে বিচার ও জবাবদিহিতার ব্যবস্থা ছিল না। এই বাহিনীর হাতে ৩৪ হাজার মানুষ নিহত হয়, যাদের মধ্যে অন্তত ১০ হাজার মুক্তিযোদ্ধা ছিল। ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রের কবর রচনা করা হয়।
সেনাবাহিনীকে অবজ্ঞা ও অবমাননা করার পাশাপাশি সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল, ৭ নভেম্বর ঘটনা প্রবাহের পেছনে সেটিও একটি কারণ।
১৫ই আগস্টের পর থেকে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত দেশে একের পর এক ক্ষমতার পালাবদল ও অস্থিরতা চলতে থাকে। ৩ নভেম্বর ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফের পাল্টা অভ্যুত্থানের পর ৩ থেকে ৬ নভেম্বর পর্যন্ত শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বন্দি ছিলেন। ৭ নভেম্বর ভোরে সিপাহিরা সংগঠিত হয়ে তাকে মুক্ত করেন। সিপাহিরা ট্যাংক নিয়ে রাস্তায় নামলে মসজিদ থেকে নামাজ শেষে বের হওয়া মানুষ তাকবির ধ্বনি দিয়ে তাদের স্বাগত জানায়। সেই ধ্বনি সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। ঢাকা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরে একই ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সিপাহিরা বিপ্লব সংগঠিত করেছিল আর জনগণ তাতে সংহতি প্রকাশ করেছিল। এই কারণে দিনটি জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস নামে পরিচিত।
৭ নভেম্বরের চেতনা হচ্ছে অন্যায়, অবিচার, একনায়কতন্ত্র ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার চেতনা। দেশে যখনই কোন স্বৈরাচার মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে দেশের জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে তা প্রতিরোধ করতে হবে।
