জামালপুরে ডিবি পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে ৭ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার, উদ্ধার ৩০০ পিস ইয়াবা

মো. রুহুল আমিন রাজু, জামালপুর প্রতিনিধি:
জামালপুর জেলায় পৃথক দুটি মাদকবিরোধী অভিযানে ৭ জন কথিত মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় তাদের কাছ থেকে মোট ৩০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) জেলা পুলিশের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পুলিশ সুপার মোছা. ফারহানা ইয়াসমিনের সার্বিক দিকনির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি-১ ও ডিবি-২) গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার বিভিন্ন স্থানে পৃথক দুটি অভিযান পরিচালনা করে এ সাফল্য অর্জন করে।
প্রথম অভিযানে, ডিবি-১ এর এসআই (নিরস্ত্র) মো. সোহাগ রানার নেতৃত্বে একটি চৌকশ দল জামালপুর সদর থানার কদমতলী পুরাতন বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় মো. ফরিদুল হাসানের বাসার নিচতলার ভাড়াটিয়া মো. রায়হান আলী (এমরান)-এর কক্ষ তল্লাশি করে ১০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে রায়হান আলী (এমরান) (৪১), সাদ্দাম হোসেন (২৭) ও মো. বেলাল শেখ (৪৬)-কে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ বিষয়ে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি-১)-এর অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল কাইয়ুম বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে জামালপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের অভিযান নিয়মিতভাবে চলমান রয়েছে। মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে এবং জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”
অপরদিকে, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দেওয়ানগঞ্জ সার্কেল) মো. সাইফুল ইসলাম, পিপিএম-এর তত্ত্বাবধানে ডিবি-২ এর একটি দল বকশীগঞ্জ উপজেলার বালুরগাঁও এলাকায় ধানুয়া কামালপুর স্থলবন্দরগামী সড়কে অভিযান চালিয়ে ২০০ পিস ইয়াবাসহ আরও চারজনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— মো. রুকনোদ্দৌলা (৩৩), আবু জাফর মানিক (৩৭), মো. সুজাত মিয়া (৩২) এবং মো. গোলাম হোসেন (৫৮)।
গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ বিষয়ে পুলিশ সুপার মোছা. ফারহানা ইয়াসমিন বলেন, “মাদক সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য ভয়াবহ অভিশাপ। মাদকের বিস্তার রোধে জামালপুর জেলা পুলিশ সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, নিষ্ঠা ও কঠোরতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। মাদক ব্যবসায়ী কিংবা তাদের পৃষ্ঠপোষকদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। কোনো অপরাধীকে আইনের আওতার বাইরে থাকার সুযোগ দেওয়া হবে না।”
তিনি আরও বলেন, মাদকমুক্ত, নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ জামালপুর গড়ে তুলতে জেলা পুলিশ জনগণের সহযোগিতা কামনা করছে। জেলা পুলিশ ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আলোকে মাদকের বিরুদ্ধে গোয়েন্দাভিত্তিক অভিযান ধারাবাহিকভাবে পরিচালনা করে যাবে।
