এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত মন্ত্রী হওয়ায় জামালপুরে আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ

কাফি পারভেজ, স্টাফ রিপোর্টার:
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন বিএনপির কোষাধ্যক্ষ ও জামালপুর-১ (দেওয়ানগঞ্জ-বকশিগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত। এর আগে তিনি একই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তাঁর মন্ত্রীত্বের খবরে জামালপুরে আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করেছে বিএনপির নেতাকর্মীরা।
শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের দরবার হলে নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাতকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়। প্রায় ছয় মাস সেই দায়িত্ব পালনের পর এবার পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন তিনি।
পূর্ণমন্ত্রী হবার খবরে শুক্রবার রাতে এক আনন্দ মিছিল বের করে জেলা যুবদল। শহরের আজাদ ডাক্তার মোড় থেকে আনন্দ মিছিলটি বের হয়। শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে তমালতলা মোড়ে গিয়ে শেষ হয় মিছিলটি। পরে পথচারী ও দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে মিষ্টি বিতরণ করা হয়।
অন্যদিকে শহরের দয়াময়ী চত্বরে জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হাসান সরোয়ার মঞ্জুর নেতৃত্বে সাধারণ মানুষের মাঝে মিষ্টি বিতরণ করা হয়। এ ছাড়াও জেলার দেওয়ানগঞ্জ ও বকশিগঞ্জ উপজেলায় আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত এর আগে ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত জামালপুর-১ (দেওয়ানগঞ্জ-বকশিগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একই আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়ে তিনি প্রায় দুই দশক পর সংসদে ফেরেন। বর্তমানে তিনি বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির কোষাধ্যক্ষ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে তিনি দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি এবং জামালপুর জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি।
নেতৃত্বের দক্ষতা বিকাশে ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ইনস্টিটিউট (এনডিআই) ও সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের (সিজিএস) নেতৃত্ব উন্নয়ন প্রশিক্ষণেও অংশ নিয়েছেন তিনি। ব্যবসায় প্রশাসনে স্নাতক এবং ইসলামিক স্টাডিজে স্নাতকোত্তর মিল্লাত প্রয়াত নবাব আলী প্রধান ও প্রয়াত রোকেয়া বেগমের একমাত্র সন্তান। ব্যক্তিজীবনে তিন সন্তানের জনক।
রশিদুজ্জামান মিল্লাতের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় ১৯৮৬ সালে। দলের প্রতি নিবেদিত থেকে তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টা এবং সাংগঠনিক তৎপরতা ১৯৯১ সালে বিএনপির মূল রাজনীতিতে তাকে স্থান করে দেয়। রাজনীতির পাশাপাশি এম. রশিদ্জ্জুামান মিল্লাত চার দশকেরও বেশি সময় ধরে ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে সাফল্যের সঙ্গে কাজ করে আসছেন। জনসেবা, ব্যবসায়িক নেতৃত্ব এবং সামাজিক উন্নয়নের প্রতি তার কর্তব্যনিষ্ঠা অব্যাহত রয়েছে যা তাকে এক অনুকরণীয় ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে।
স্থানীয়দের মতে, জামালপুরের একজন সংসদ সদস্য সরকারের গুরুত্বপূর্ণ একটি মন্ত্রণালয়ের পূর্ণমন্ত্রী হওয়া জেলার জন্য গর্ব ও মর্যাদার বিষয়। তারা আশা করছেন, নতুন দায়িত্বে মিল্লাত দেশের বিমান যোগাযোগ ও পর্যটন খাতের উন্নয়নের পাশাপাশি জামালপুরের উন্নয়নেও ভূমিকা রাখবেন।
