জামালপুর পাসপোর্ট অফিসে দুদকের অভিযান
শহর প্রতিনিধি:
পাসপোর্ট করতে গিয়ে গ্রাহক হয়রানি ও ঘুষ বাণিজ্যের মতো সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে জামালপুর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে অভিযান পরিচালনা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত দুদকের জামালপুর সমন্বিত কার্যালয়ের উপ-সহকারী পরিচালক জিহাদুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি এনফোর্সমেন্ট টিম এ অভিযান পরিচালনা করে।
দুদক সূত্রে জানা যায়, সেবা গ্রহীতাদের দীর্ঘদিনের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার সকালে প্রথমে ছদ্মবেশে পাসপোর্ট অফিস এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন দুদক কর্মকর্তারা। পরবর্তীতে মূল অভিযানে পাসপোর্ট অফিস সংলগ্ন বিভিন্ন কম্পিউটার কম্পোজের দোকানগুলোতেও তল্লাশি চালানো হয়।
অভিযান শেষে দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক জিহাদুল ইসলাম জানান, হয়রানি ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। বিশেষ করে পাসপোর্ট আবেদনপত্রে দালালচক্রের নির্দিষ্ট ‘বিশেষ চিহ্ন’ ব্যবহারের প্রমাণ মিলেছে যার মাধ্যমে মূলত ঘুষের লেনদেন নিশ্চিত করা হতো।
তিনি আরও জানান, কম্পিউটার কম্পোজের দোকানগুলোর মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় এবং আবেদনের গায়ে বিশেষ কোড বা চিহ্নের বিষয়টি তদন্তে উঠে এসেছে। অভিযানের যাবতীয় তথ্য-প্রমাণ ও সুনির্দিষ্ট সুপারিশমালা উল্লেখ করে দ্রুতই দুর্নীতি দমন কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাঠানো হবে। তারা পরবর্তী নির্দেশনা দিলে সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ নেয়া হবে।
দুদকের অভিযান চলাকালে জামালপুর দুর্নীতি দমন কমিশনের উপ-সহকারী পরিচালক জিহাদুল ইসলাম, আতিউর রহমানসহ দুদকের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জামালপুর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক রিয়াদ রায়হান আবিদ জানান, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি এই অফিসে যোগদান করেছেন। তবে ইতিপূর্বে আব্দুল কাদির নামে এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুদক এই অভিযান পরিচালনা করেছে। এরপরও যদি পাসপোর্ট অফিসের কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া যায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
