সরিষাবাড়িতে নৌকার সমর্থকদের হামলায় ঈগল প্রার্থীর ১০ সমর্থক আহত নির্বাচনী ক্যাম্প ভাংচুর

কাফি পারভেজ, জামালপুর প্রতিনিধি: জামালপুর-৪ (সরিষাবাড়ি) আসনে সংসদ নির্বাচনের প্রচারকে ঘিরে সহিংসতা বেড়েই চলেছে। আওয়ামী লীগের নৌকার প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘাত-সংঘর্ষ থামছেই না। স্বতন্ত্র প্রার্থী ঈগল প্রতীকের নির্বাচনী ক্যাম্পে হামলা চালিয়ে নির্বাচনী ক্যাম্প ভাংচুর ও ১০ সমর্থককে আহত করেছে নৌকার সমর্থকরা । সোমবার রাত পনে আটটার দিকে উপজেলার তাড়িয়াপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন, মাইজবাড়ী গ্রামের রইচ মন্ডলের ছেলে রুবেল (৩০), আলা উদ্দিনের ছেলে সাদ্দাম (৩২), রইচ উদ্দিনের ছেলে রোকন (২৮), সুরুজ্জামানের ছেলে কফিল সরকার (২৫), মরহুম শামছুল এর ছেলে দিলখুশ (৪০), তাড়িয়াপাড়া গ্রামের শাহীনের ছেলে হামজা (১৮), শিমলা পল্লী এলাকার আহমেদ আলীর ছেলে ফারুক (২৫), আব্দুল জলিলের ছেলে ফরহাদ (২২)।
স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, পৌরসভার শিমলাপল্লী গ্রামের তাড়িয়াপাড়া এলাকায় কয়েকদিন আগে ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. মুরাদ হাসান একটি নির্বাচনী ক্যাম্প নির্মাণ করেন। সোমবার রাত পৌণে আটটার দিকে তার কর্মী-সমর্থকরা ওই নির্বাচনী ক্যাম্পে যাচ্ছিলেন। ওই ক্যাম্পের সামনে পৌঁছামাত্র আগে থেকে উতপেতে থাকা নৌকার প্রতীকের কর্মী সমর্থকরা লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের উপর হামলা চালায়। সংবাদ পেয়ে সরিষাবাড়ী থানার ওসি মুশফিকুর রহমান এর নেতৃত্বে পুলিশ গিয়ে উভয়পক্ষকে সরিয়ে দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এদিকে জামালপুর র্যা ব-১৪ ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মেজর মো. আবরার ফয়সাল সাদীর নেতৃত্বে র্যা বের একটি টিম এসে ২ পক্ষকে ধাওয়া দিয়ে সরিয়ে দেন।
আহত রুকন বলেন, তাড়িয়াপাড়ায় ঈগল প্রতীকের নির্বাচনী অফিসে লোকজন বসে ছিল। এই সময়ে মাদক ব্যবসায়ী মান্নান ও কয়েকজন লোক গিয়ে পোলাপানদের জুতা দিয়া মারতে থাকে। ওই সময় অফিস থেকে বাইরে বের হলে মান্নানসহ ২০/২৫ জন নৌকার সমর্থকরা এসে নির্বাচনী ক্যাম্প ভাংচুর ও তাদের ওপর হামলা করে।
পৌর কাউন্সীলর সাখাওয়াতুল আলম মুকুল জানান, নৌকা প্রতীকের লোকজন তাড়িয়াপাড়ায় ঈগল প্রতীকের নির্বাচনী অফিসে হামলা চালিয়ে নির্বাচনী অফিস ভাংচুরসহ তাদের কর্মী সমর্থকদের ওপর হামলা চালিয়ে আহত করে। পাশাপাশি চায়ের দোকানদারকেও মেরে আহত করেছে । এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
আবাসিক মেডিকেল অফিসার রবিউল ইসলাম জানান, ১০ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৮ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সরিষাবাড়ি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্বতন্ত্র প্রার্থী মুরাদ হাসান জানান, ঘটনাটি জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।
আওয়ামী লীগ প্রার্থী মাহবুবুর রহমান হেলাল জানান, স্বতন্ত্র প্রার্থী মুরাদ হাসানের অভিযোগ সঠিক নয় বলে দাবি করেছেন।
জামালপুর জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. শফিউর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘হামলার খবর পেয়ে সরিষাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী ‘কর্মকর্তা ও পুলিশকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে সরিষাবাড়ী থানার ওসি মুশফিকুর রহমান জানান, উভয় পক্ষ মারমুখী অবস্থায় হলে সরিষাবাড়ী থানা পুলিশ উপস্থিত হয়ে উভয় পক্ষকে সরিয়ে দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইননানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
