আলোচিতজামালপুরবকশীগঞ্জ

বকশিগঞ্জে ফের সাংবাদিকের ওপর হামলা জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি সাংবাদিকদের

কাফি পারভেজ, জামালপুর প্রতিনিধি:

বকশিগঞ্জ পৌর নির্বাচনে নির্বাচিত ও পরাজিত দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের সংবাদ সংগ্রহে যাওয়া দৈনিক ভোরের দর্পণ এর উপজেলা প্রতিনিধি মতিন রহমানের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার সন্ধ্যায় পৌরসভার নামাপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
হামলায় তাঁকে বেদম মারপিট ও আহত করা হয়েছে। গুরুতর অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, গত শনিবার বকশিগঞ্জ পৌর নির্বাচনে ৫নং ওয়ার্ডে কামরুজ্জামান সুজন (ব্ল্যাকবোর্ড) কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। ফলাফল ঘোষণার পর পরাজিত প্রার্থী জয়নাল আবেদীনের (উটপাখি) সমর্থকদের সঙ্গে বিজয়ী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। সোমবার বিকাল সাড়ে ৫ টার দিকে বিজয়ী পক্ষের লোকজন পরাজিত প্রার্থীর সমর্থকদের বাড়িতে হামলা করে। এ সময় স্থানীয় সাংবাদিকরা খবর পেয়ে নামাপাড়া এলাকায় ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করতে যান।

সংবাদ সংগ্রহ শেষে নবনির্বাচিত কাউন্সিলর কামরুজ্জামান সুজনের বক্তব্য নিতে গেলে তাঁর সমর্থক ও আত্মীয় স্বজনরা সাংবাদিক মতিনের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং ব্যাপক মারধর করে। খবর পেয়ে সহকর্মী সাংবাদিকরা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। এ ব্যাপারে রাতেই থানায় মামলা দায়ের হয়েছে।

সাংবাদিক মতিন রহমান বলেন, বিকাল সাড়ে ৫ টার দিকে সদ্য অনুষ্ঠিত বকশিগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনের ৫নং নম্বর ওয়ার্ডের বিজয়ী কাউন্সিলর কামরুজ্জামান সুজন ও পরাজিত প্রার্থী জয়নাল আবেদিনের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের ব্যাপারে কাউন্সিলর কামরুজ্জামান সুজনের বক্তব্য নেওয়ার জন্য তার বাড়িতে যান। বড়বাড়ি গ্রামের আবিরুজ্জামান আক্কাস মাস্টারের ছেলে তৌহিদুজ্জামান তৌহিদের নেতৃত্বে কাউন্সিলর সুজনের সমর্থিত ২০ থেকে ২৫ জন লোক তার ওপর হামলা এবং মারধর করে। এ সময় হামলাকারীরা তার ক্যামেরা, মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়।

এদিকে সাংবাদিক মতিন রহমানের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয় কর্মরত সংবাদকর্মীবৃন্দ। তাঁরা দ্রুত হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি করেছেন।

কাউন্সিলর কামরুজ্জামান সুজন মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমরা একটা বিষয় নিয়ে বাড়িতে বৈঠকে বসেছিলাম। এসময় সাংবাদিক মতিন সেখানে ভিডিও করছিল। তাকে মানা করা হলে বিষয়টি নিয়ে তর্কবিতর্ক হয়।

জামালপুর অনলাইন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া জাহাঙ্গীর বলেন, এর আগে বকশিগঞ্জে সন্ত্রাসী হামলায় সাংবাদিক গোলাম রাব্বানী নাদিম প্রাণ দিয়েছেন। অনেক সাংবাদিকই একাধিকবার হামলা ও মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন। প্রশাসনের দুর্বলতার সুযোগে একের পর এক সাংবাদিক আক্রমণের শিকার হচ্ছেন।’

বকশিগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) সঞ্জয় সাহা বলেন, এ ঘটনায় সাংবাদিক মতিন রহমান বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় একজন নামীয় আরো অজ্ঞাত রয়েছে ৩০ থেকে ৪০জন। তদন্ত করে হামলার ঘটনার সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *