দীর্ঘ ৩৯ বছর পর সুপ্রিম কোর্ট এর রায়ে ভূমি ফেরত পেলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা
কাফি পারভেজ, জামালপুর প্রতিনিধি:
সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কুদ্দুসের জামালপুর পৌর শহরের সাহাপুর মৌজার ১৪.২৫ শতাংশ জমি উদ্ধার হয়েছে। বুধবার সকালে জামালপুর জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট গাজি আশিক তার প্রশাসনের জনবল নিয়োগ করে এ জমি উদ্ধার করেন।
এ সময় জামালপুর সদর থানার ওসি মহব্বত কবীর, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার সুজায়েত আলী ফকিরসহ গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। উদ্ধার কর্মীরা বেদখল হওয়া চারতলার একটি ভবন ও তিন তলার একটি ভবন বুলড্রোজার মেশিন দিয়ে গুড়িয়ে দেয়া হয়।
জানা যায়, যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কুদ্দুস ১৯৭৯ সালে মৃত ঊজির আলী সরদারের স্ত্রী হালিমা খাতুনের নিকট থেকে জামালপুর পৌর শহরের সাহাপুর মৌজার দক্ষিণ মুকন্দবাড়ি এলাকায় ১৪.২৫ শতাংশ ভূমি বায়না দলিল মূলে ক্রয় করেন। মৃত উজির আলীর সন্তানরা নাবালক থাকায় উজির আলীর স্ত্রী গার্ডিয়ান শীপের আবেদন করেন। গার্ডিয়ান শীপের আবেদন মঞ্জুর হলে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কুদ্দুস ভূমির মালিককে জমি সাব-কবলা দলিল করে দেয়ার অনুরোধ করেন। ভূমির মালিক নানা তাল বাহানা করতে থাকলে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কুদ্দুস মামলা দায়ের করেন। ইতিমধ্যে জনৈক মাহাবুবুল ভূমির মালিকের সাথে যোগসাজশে মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কদ্দুছের বায়না দলিলের পূর্বের তারিখ দেখিয়ে একটি জাল বায়না দলিল তৈরি করেন যা পরবর্তীতে আদালতে প্রমাণিত হলে ১৯৯২ সালের ৫ অক্টোবর বিজ্ঞ সাবজজ আদালত মামলার বাদী বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কুদ্দুস এর পক্ষে রায় প্রদান করেন এবং বায়না সংশ্লিষ্ট তফসিল ভূমি আদালত কর্তৃক রেজিস্ট্রেশন করে দেয়ার নির্দেশ প্রদান করা হয় ।
অতঃপর বিগত ১৯৯৯ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর বিজ্ঞ আপীল আদালতে জেলা জজ কোর্ট্ররে রায়ের বিরুদ্ধে মাহাবুবুল হক গং হাইকোর্ট ডিভিশনে ১০৬৩/২০০০ ও ১০৬৪/২০০০ নং সিভিল রিভিশন দায়ের করেন এবং ২০১১ সালের ২৪ মার্চ মাহাবুবুল হক গং দের পক্ষে রায় প্রদান করেন। হাইকোর্ট ডিভিশনের রায়ের বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধা আবুল কুদ্দুস মহামান্য সুপ্রিম কোর্ট ডিভিশনের আপীলেট ডিভিশনে লিভ টু আপিল এবং স্থীতি অবস্থার আবেদন করলে বিজ্ঞ সুপ্রিম কোর্ট আবেদন গ্রহণ করে সকল পক্ষকে স্থিতি অবস্থা বিরাজ করার নির্দেশ প্রদান করেন ।
এইদিকে হাইকোর্ট এর রায়ের সুবাদে মাহাবুবুল হক স্থানীয় কতিপয় ব্যাক্তির কাছে অত্যন্ত চতুরতার সাথে নালিশী ভূমি বিক্রয় করে স্বপরিবারে জামালপুর ত্যাগ করে সিলেটে চলে যান এবং রাতারাতি নালিশী ভূমিতে মাটি ভরাট করে বহুতল ভবন নির্মাণ করে।
এমতাবস্থায় বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কুদ্দুস মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনার কপিসহ সদর থানায় জিডি এন্ট্রি করলে সদর থানার পুলিশ তদন্ত করে প্রতিবেদন প্রদান করে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অবজ্ঞা করে জমি দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণ করায় Contempt Petition শুনানি অন্তে মাহাবুবুল হক গং দের বিরুদ্ধে Court of Contempt আনয়ন করেন। পরিশেষে সুপ্রিম কোর্ট উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ২০২১ সারের ৪ অক্টোবর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কুদ্দুছ এর পক্ষে রায় প্রদান করে। একই সাথে মামলা চলমান অবস্থায় সমস্ত দলিল বাতিল করে আদালত কর্তৃক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কুদ্দুসকে জমির দখল বুঝিয়ে দেয়ার নির্দেশনা প্রদান করে।
উল্লেখ্য যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কুদ্দুছ বিগত ২০২২ সালের ১৩ ফ্রেবুয়ারি ৮৫ বছর বয়সে স্ত্রী এবং দুই পুত্র রেখে পরলোক গমন করেন ।
দীর্ঘ ৩৯ বছর পর বহু প্রতীক্ষার পর রায় বাস্তবায়ন এবং ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা হওয়ায় যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কদ্দুছ এর পরিবারের পক্ষ থেকে জৈষ্ঠ পুত্র খাজা ওয়াছিউল্লাহ্ মহামান্য সুপ্রিম কোর্ট এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।
