আলোচিতজামালপুরসদর

জামালপুরে তীব্র গরমে হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর সংখ্যা

কাফি পারভেজ, জামালপুর প্রতিনিধি:

জামালপুরে তীব্র গরমে নিউমোনিয়া, জ্বর ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিতে হিমসিম অবস্থা চিকিৎসক ও নার্সদের। সেই সঙ্গে ঘন্টার পর ঘন্টা বিদ্যুৎ না থাকায় চরম দুর্ভোগে হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীর স্বজনরা। এসব রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিন জামালপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ রোগী।

হাসপাতাল সুত্রে জানা যায়, মংগলবার পর্যন্ত কাগজে কলমে ৩ হাজারের অধিক রোগী ভর্তি রয়েছে। যা ২৫০ শয্যার বিপরীতে ভর্তির সংখ্যা আট গুণের বেশি। এই হাসপাতালে মেডিসিন, ডায়রিয়া, গাইনী ও শিশু ওয়ার্ডসহ ১২টি ওয়ার্ড রয়েছে। প্রতি ওয়ার্ডে বেড সংখ্যা ২৪টি। শুধুমাত্র মেডিসিন ও শিশু ওয়ার্ডে ভর্তিকৃত রোগীর সংখ্যা দুই সহস্র্রাধিক। এই জেলার প্রায় ২৬ লাখ মানুষের চিকিৎসার প্রধান ভরসা জামালপুর জেনারেল হাসপাতাল। কিন্তু বেডসহ নানা সমস্যায় কাংখিত স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এ জেলার মানুষ ও প্রতিবেশী আরো দুটি জেলার চারটি উপজেলার মানুষ।

হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালে সেবা নিতে আসা রোগী ও স্বজনরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। হাসপাতালের ওয়ার্ডের মেঝে, বারান্দায় এবং যেখানে সেখানে বিছানা পেতে পড়ে আছেন শত শত রোগী। পা ফেলার জায়গা পর্যন্ত নেই। ডাক্তার কক্ষে যেতে হয় রোগী ডেঙ্গিয়ে। শিশু ওয়ার্ডে রোগীর সাথে বাবা-মাও শুয়ে বসে আছে।

শিশু ওয়ার্ডের এক রোগীর বাবা রাকিবুল ইসলাম জানান, তার সন্তান তিনদিন থেকে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। এখনো কোনো সিট পান নাই। সন্তান নিয়ে চিকিৎসার জন্য অবস্থান করছেন বারান্দায়। তিনি বলেন, বারান্দা বা ওয়ার্ডের মেজেতে পা ফেলার স্থানও নেই। এ ছাড়াও হাসপাতালে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। এতে রোগীদের নিয়ে প্রচন্ড গরমে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তিকৃত মেলান্দহ উপজেলা থেকে আসা আরেক রোগীর স্বজনরা জানান, চারদিন আগে ভর্তি হয়েছেন এখনো বারান্দার মেজেতে অবস্থান করছেন তারা এবং সিট পাবো বলে মনে হয় না। যারা কয়েক দিন আগে ভর্তি হয়েছেন তাঁরাই ওয়ার্ডে জায়গা পায়নি। তিনি আরও বলেন, অসুস্থ রোগীরা বারান্দা ও ওয়ার্ডের মেঝেতে গাদাগাদি করে পরে থেকে প্রচন্ড গরমে আরও অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।

মেডিসিন ওয়ার্ডের নার্সরা জানান, প্রতিদিনই রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। জ্বর, ঠান্ডা, ইউরিন ইনফেকশন, ডায়রিয়া জনিত রোগ নিয়েই রোগী বেশি আসছে।

শিশু ওয়ার্ডের নার্স আলপনা জানান, এই গরমে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, সর্দি-কাশি, জ্বরসহ আরো বিভিন্ন রোগে শিশুরা সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। শিশু ওয়ার্ডে জায়গার সংকুলান না হওয়ার কারণে আমরা সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছি। এরপরেও আমরা কর্তব্যরত ডাক্তারদের পরামর্শ নিয়ে গুরুতর রোগীদের ভর্তি করিয়ে চিকিৎসাসেবা দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দিচ্ছি।

শিশু ওয়ার্ডের ডাক্তার ওয়ালীউল্লাহ জানান, যেভাবে হাসপাতালে রোগীর চাপ বাড়ছে আমরা সামাল দিতে পারছি না এবং সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এইভাবে যদি আর কিছুদিন রোগী ভর্তির চলমান প্রক্রিয়া বিদ্যমান থাকে তবে হাসপাতাল থেকে এতগুলো রোগীর সেবা একসাথে দেওয়া সম্ভব হবে না।
তিনি আরও বলেন, বেড এবং জায়গা সংকুলান থাকায় জেলা শহরের রোগীদের আমরা বাসায় থেকেই হাসপাতালে এসে চিকিৎসা নিতে বলছি। আর অন্যান্য উপজেলার জটিল রোগীদের এখানে রেখে চিকিৎসা দিচ্ছি। তারপরও হাসপাতালে জায়গা দেয়া কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মাহফুজুর রহমান বলেন, তীব্র দাবদাহের কারণে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। হাসপাতালে রোগীর ভিড় বেড়ে যাওয়ায় চিকিৎসা সেবা প্রদানে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা। এ ছাড়া অত্যধিক গরমে বিশুদ্ধ খাবার পানি এবং পরিচ্ছন্ন থাকার জন্য পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। হাসপাতালে অনেক জনবল সঙ্কট রয়েছে। তবে আমরা চেষ্টা করছি আমাদের সাধ্যমত চিকিৎসা দিতে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *