বকশিগঞ্জের খাতেমুন মঈন মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ সাময়িক বরখাস্ত
কাফি পারভেজ, স্টাফ রিপোর্টার:
বকশিগঞ্জের খাতেমুন মঈন মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. বজলুল করিম তালুকদারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতিসহ নানান অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বেচ্ছরিতা ও নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগে গত সাত ডিসেম্বর কলেজের এডহক কমিটির সভায় সদস্যদের সম্মতিক্রমে বরখাস্ত করেন সভাপতি এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
জানা যায়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র জনতার আন্দোলনে বকশিগঞ্জের খাতেমুন মঈন মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. বজলুল করিম তালুকদার সরাসরি বিরোধী ভূমিকা পালন করেন। ৫ আগস্ট বিগত আওয়ামী লীগ দলীয় শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর বকশিগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের অন্যতম প্রভাবশালী সদস্য হওয়ায় তিনি দীর্ঘদিন কলেজে উপস্থিত না হয়ে আত্মগোপনে ছিলেন। তিনি দলীয় প্রভাব খাটিয়ে কলেজটিকে একটি দলীয় কার্যালয়ে পরিনত করেন।
অধ্যক্ষ কলেজের নামে ব্যাংক হিসাব একক স্বাক্ষরে পরিচালনা করে নিয়মবহিভূত কাজে জড়িত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে বর্তমানে দুইটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে এবং উপরোক্ত অভিযোগের কারণে বিভিন্ন দফতর কর্তৃক তদন্ত কার্যক্রম চলমান আছে। অধ্যক্ষ্যের বিভিন্ন অনিয়মের কারণে বর্তমানে কলেজের শিক্ষাকার্যক্রমে স্ববিরতা এবং অত্র কলেজের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে।
তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত সাত ডিসেম্বর কলেজের এডহক কমিটির সভায় সদস্যদের সম্মতিক্রমে বরখাস্ত করেন জামালপুর-১(দেওয়ানগঞ্জ-বকশিগঞ্জ) সংসদীয় আসনের সাবেক সংসদ সদস্য কমিটির সভাপতি এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত। এ ছাড়াও অত্র কলেজের কৃষি শিক্ষা বিভাগের সহকারি অধ্যাপক কৃষিবিদ মো. আব্দুল্লাহ আল মোকাদ্দেছকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়। আগামী ০৭ (সাত) কার্যদিবসের মধ্যে কলেজের সকল দায়িত্ব ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের নিকট বুঝিয়ে দিয়ে দায়িত্ব হস্তান্তর করার জন্য তাকে এক লিখিত পত্র দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় তার বিরুদ্ধে বিধিমোতাবেক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়েছে বলে জানা যায়।
উল্লেখ্য, তৎকালীন অধ্যক্ষ মো. হেলাল উদ্দিন খান চাকরি থেকে অবসরে যাওয়ার পর কলেজের সহকারী অধ্যপক মো. বজলুল করিম তালুকদ ২০১৫ সালের ৩০ জুলাই অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করার পর থেকে বকশিগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের একজন প্রভাবশালী উপদেষ্টা হওয়ার সুবাধে নানান অনিয়ম, দুর্নীতির মাধ্যমে কলেজ পরিচালনা করে আসছেন বলে অভিযোগ উঠে। নানা অভিযোগের কারণে কলেজের শিক্ষক ও কর্মচারীর মাঝে তীব্র ক্ষোভ পুঞ্জীভূত হতে থাকে।
অধ্যক্ষ স্থানীয় বকশিগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের একজন প্রভাবশালী উপদেষ্টা। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পরেও কলেজের অধ্যক্ষ মো. বজলুল করিম তালুকদারের হুমকিমূলক কর্মকান্ডে কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদের জীবনের নিরাপত্তাহীনতার পাশাপাশি নিয়মিত কলেজ পরিচালনা, প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা করা দুরূহ হয়ে পড়ে। এর প্রতিবাদ জানালে অধ্যক্ষের ইশারায় বহিরাগত লোকজন দিয়ে শিক্ষক-কর্মচারীদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনাও ঘটে।
